ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে সাংবাদিকতা

রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৫

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

pibদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে বলে মনে করেন প্রবীণ সাংবাদিক তোয়াব খান। তার মতে, কে, কোথায় ছিলেন জানি না, রাতারাতি একেকটি চ্যানেলের মালিক বনে গেলেন। বাছবিচার ছাড়া গণমাধ্যমের এমন আবির্ভাবকে অশনিসংকেত আখ্যা দিয়ে ৬০ বছরের অভিজ্ঞ এই সাংবাদিক বলেন, বিশ্বের উন্নত যেসব দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা আছে, সেখানেও এত সহজে গণমাধ্যমের মালিক হওয়া যায় না।

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট আয়োজিত ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান ‘অগ্রজের সঙ্গে একদিন’ শীর্ষক ধারাবাহিক আড্ডার তৃতীয় কর্মসূচিতে তোয়াব খান গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সংলাপে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার ( ১৬ এপ্রিল ) পিআইবিতে অনুষ্ঠিত ওই আড্ডায় সভাপতিত্ব করেন মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর।

দীর্ঘ আলাপচারিতায় তোয়াব খান সাংবাদিকতা পেশায় আসা, দীর্ঘ সংগ্রাম, অতীত অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। সাংবাদিকতায় আসার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তোয়াব খান বলেন, পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি এ দেশের রাজনীতি ও সমাজে ক্রান্তিকাল চলছিল।
২১ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি আরও পাল্টে যায়। ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান সরকারকে গালি দেওয়ার বিষয়টি ঘটতে থাকে। এরই মধ্যে জনতা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি পান কে জি মুস্তাফা। সঙ্গে ছিলেন তিনি এবং হাসান হাফিজুর রহমান। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরও মাঝমধ্যে আসতেন।

কিন্তু প্রথম সংখ্যা বের হলেই পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল হয়। বাস নিয়ে ছাত্রীদের আন্দোলন সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সরকার ওই সিদ্ধান্ত নেয়। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক সনজিদা খাতুন।

এরপর ১৯৫৫ সালে সংবাদ-এ যোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তোয়াব খান জানালেন, সংবাদ ছিল প্রথমে মুসলিম লীগের পত্রিকা। পরে এটি বামপন্থীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়। তবে এর আর্থিক দুরবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে ৮০ টাকা বেতন পেলেও তা ভাগ করে দেওয়া হতো। এমনও দেখা গেছে, চার মাসও বেতন দিতে পারেনি সংবাদ।

একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তান-এ। এরপর দৈনিক বাংলার সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে দৈনিক জনকণ্ঠ-এর উপদেষ্টা সম্পাদক। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তোয়াব খান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব, পিআইবির মহাপরিচালক, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, এইচ এম এরশাদ ও সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রেস সচিব।

অনুষ্ঠানে তিন সাংবাদিক আবেদ খান, শফিকুর রহমান ও হাসান হাফিজ এমন একজন সাংবাদিককে একুশে বা স্বাধীনতা পদক না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।