বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন নিয়ে সাংবাদিকদের দুই পক্ষ মুখোমুখি

মঙ্গলবার, মার্চ ২৬, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন:

pজাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন বিষয়ে সাংবাদিকদের দুইটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপনে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ। তারা ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে।অন্যথায় পরদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমাবেশ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এই সময় বেঁধে দেয়া হয়।
বিএফইউজের একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করার কথা ছিল, কিন্তু ব্যবস্থাপনা কমিটি তাদের সেই অনুমতি দেয়নি। তাই অনুমতি চেয়ে কমিটির কাছে আবেদন করলে কমিটি কিছুটা সময় চেয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।”
বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, “বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হলে জাতীয় প্রেস ক্লাব নিজেই সম্মানিত হবে। সাংবাদিকসমাজ দায়মুক্ত হবে।”

অন্যদিকে প্রেস ক্লাবের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে বিভাজন করতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, “ জাতীয় প্রেস ক্লাব জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। সাংবাদিকরা যখনই ঐক্যবদ্ধ হয় তখনই একটি পক্ষ সাংবাদিকদের ঐক্য বিনষ্ট করতে তৎপরতা শুরু করে। শুরু করে ষড়যন্ত্র। এবারো শুরু করেছে। তা না হলে স্বাধীনতার ৪২ বছর পর কেন মনে হলো প্রেস ক্লাবে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি দরকার? সাগর-রুনির হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা যখন আন্দোলন করছি তখন তারা পিছুটান দিলেন। বললেন, যারা শাহবাগে যায় না তাদের সঙ্গে ঐক্য নয়।”
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘গণমাধ্যমের ওপর নগ্ন হামলা’র প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “সারাদেশে যখন সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাটক করছেন, তখন শাহবাগ জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হতে পারে না।”

রুহুল আমিন গাজী বলেন, “তারা যদি শাহবাগকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বলেন, আমরা বলতে চাই, নাস্তিক ও দালালদের সঙ্গে আমাদেরও কোনো ঐক্য নেই।”
বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, “দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, সাংবাদিক হয়েও অপশক্তির বিরুদ্ধে আজ আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। রাতের আঁধারে প্রেস ক্লাবের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানে প্রতিকৃতি স্থাপনের চেষ্টার মতো ন্যাক্কারজনক কাজের আমাদের প্রতিবাদ করতে হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “জাতীয় প্রেস ক্লাবে কারো প্রতিকৃতি স্থাপন করতে হলে অবশ্যই সব সদস্যের মতামত নিতে হবে। গায়ের জোরে চাপিয়ে দেয়া কোনো সিদ্ধান্ত প্রেস ক্লাবের সদস্যরা মেনে নেবেন না।”

শওকত মাহমুদ বলেন, “কায়েদে আজমের প্রতিকৃতি দিয়ে ১৯৫৪ সালে প্রেস ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়নি। স্বাধীনতার পরও শেখ মুজিবুরের প্রতিকৃতি স্থাপনের কোনো উদ্যোগ ছিল না। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর হঠাৎ করেই সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতেই এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আব্দুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানকে প্রেস ক্লাবের সদস্য কারা বানিয়েছেন জানি। প্রেস ক্লাবের কর্মচারীদের থাকার কোয়ার্টার কারা চক্রান্ত করে সরিয়েছেন তাও আমরা জানি। আর এখন দাবি তোলা হচ্ছে অমুককে রাখতে হবে, তমুককে বাদ দিতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “সাগর-রুনির রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে যারা সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তারা কয় টাকা খেয়েছে তা একদিন অবশ্যই বেরিয়ে আসবে।”

শওকত মাহমুদ বলেন, “আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রেস ক্লাব নিয়ে বিভাজনের চক্রান্ত মেনে নেয়া হবে না। সাংবাদিক ও দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।”