আপন আলোয় উদ্ভাসিত হোক প্রেস ক্লাব

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০১৫

:: আবুল কালাম আজাদ ::

Abul Kalam Azad.jpg২৫ মার্চ ২০১৫ রাতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীরবে এক বিপ্লব ঘটে গেছে। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর জাতীয় প্রেস ক্লাব ক্যাম্পাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বেজেছে। সেই সঙ্গে ভয়াল কালোরাত্রি স্মরণে আলো প্রজা¡লন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সত্যি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটা অবাক হওয়ার মতই ঘটনা। জাতীয় প্রেস ক্লাব আঙিনায় এবারই প্রথম বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার ও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিইউজে।

প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখন কিংবা কোন দিনই এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করেনি। তাই এখন প্রশ্ন প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ আসলেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কি না; তাদের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে কিনা? আপন আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমাদের গৌরবের জাতীয় প্রেস ক্লাব। আর সেই সঙ্গে যুগপযোগি এ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়ায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদকে জানাই সংগ্রামী শুভেচ্ছা।

এবার আসা যাক সেই ভয়াল রাতের কথাÑ ২৫ মার্চ ১৯৭১ মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। এইদিনে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে এক বিভীষিকাময় রাত। এ রাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’র নামে স্বাধীনতাকামী ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে হিংস্রের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আর এদিন বাঙালি জাতি তথা বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছিল এক নৃশংস বর্বরতা। বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন, এমনকি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে প্রাপ্ত আইনসঙ্গত অধিকারকেও রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শুরু করেছিল সারাদেশে গণহত্যা। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচালিত এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির মুক্তির আকাঙ্খাকে অঙ্কুরেই ধ্বংস করা। সেইরাতে হানাদাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, রোকেয়া হল, শিক্ষকদের বাসা, পিলখানার ইপিআর সদরদপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে একযোগে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হত্যা করে অগণিত নিরস্ত্র দেশপ্রেমিক ও দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

এছাড়াও সেই রাতে একে একে দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবেও অগ্নিসংযোগ, মর্টার সেল ছুঁড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে পাক হানাদাররা। এ হামলায় জীবন দিতে হয় বেশ ক’জন গণমাধ্যম কর্মীকেও। মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সর্ম্পকে লিখেছেন, সে রাতে ৭০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেফতার করা হয় আরও ৩০০০ লোক। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট লুট। আর ধ্বংস সাধন তাদের নেশায় পরিণত হলো। ঢাকার রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি। ওই পাইকারি গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে।

পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্কট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তানি সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়: “১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।” অপারেশন সার্চলাইটকে নিছক বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমনের একটি সামরিক চেষ্টা মনে করার কোনো কারণ নেই। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল এক ভয়াল গণহত্যার নীলনকশা, গোপনে গোপনে যার প্রস্তুতি চলছিল অনেক আগে থেকেই। পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের মনে বাঙালিরা সব সময়ই ছিল নিচু শ্রেণীর, যাঁদের ভাষা-সংস্কৃতি থেকে জীবনাচরণ-সবই ছিল ‘অপাকিস্তানি’। অখ- পাকিস্তানের নামে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী সেই অপাকিস্তানিদের ‘শুদ্ধ’ করার জন্য অপারেশন সার্চলাইট শুরু করেছিল। যার ফলে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হয় বাংলাদেশে। ভয়াল সেই ২৫ মার্চ রাতের সকল শহীদদের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর ততকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। তারা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে গোপনে গোপনে নিতে থাকে সামরিক প্রস্তুতি। মুক্তিকামী বাঙালি তখন স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বেলিত। আলোচনার নামে শাসকগোষ্ঠীর সময়ক্ষেপণকে বাঙালিরা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে থাকে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার মানুষ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার একটি দিকনির্দেশনামূলক রূপরেখা পেশ করেন, যা ছিল প্রকৃতপক্ষে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের মূলমন্ত্র। একাত্তরের ২৫ মার্চ অগ্নিঝরা এদিনে বাঙালির জীবনে নেমে আসে নৃশংস, ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় কালোরাত্রি।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্যতম ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যা। বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিককেও হত্যা করেছিল ওই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, আলবদর, রাজাকার এবং আলশামস্ বাহিনীর এদেশীয় ঘাতকরা। দেশ মাতৃকার জন্য জীবন দেন এ দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিকরা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিকরা হলেন সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, খোন্দকার আবু তালেব, নিজামুদ্দীন আহমদ, এস এ মান্নান (লাডু ভাই), আ ন ম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, এ কে এম শহীদুল্লাহ (শহীদ সাবের), আবুল বাশার, শিব সাধন চক্রবর্তী, চিশ্তী শাহ হেলালুর রহমান, মুহম্মদ আখতার ও সেলিনা পারভীন প্রমুখ। শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক ফয়েজ আহ্মদ ২৫ মার্চ ভয়াল সেই কালোরাতেই প্রেস ক্লাবে পাকিস্তানি ট্যাঙ্কের আক্রমনে আহত হন। তবু কোন রকমে তিনি প্রাণে বেঁচে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে-স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক হিসেবে কাজ করেন। সাংবাদিকদের সেই আত্মদান এবং অবদানের কথা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেও জাতীয় প্রেস ক্লাব তার উল্টো।

নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৫২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংকলনে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে, সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে, স্বাধীন মত প্রকাশে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে এবং স্বৈরাচার উৎখাতের কঠিন লড়াইয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব ঐতিহাসিক, গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করছে। শুধু তাই নয়, আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর স্বাধীন সত্তার ওপরে যখনই আঘাত এসেছে, সাংবাদিক সমাজ রুখে দাঁড়িয়েছে। প্রেস ক্লাবকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘প্রেস ক্লাব শুধু ইটকাঠের দেয়ালঘেরা একটি অট্টালিকা মাত্র নয়। এটি একটি জাতীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। মানুষ এখানে আসেন মুক্তকণ্ঠে কথা বলতে, অন্যায় অত্যাচার অবিচারের প্রতিবাদ করতে, প্রতিকার পাওয়ার প্রত্যাশায়। যারা সমাজে নির্যাতিত, অত্যাচারিত, ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত, তারা ছুটে আসেন প্রেস ক্লাবে। সাংবাদিকদের কাছে স্বাধীনভাবে মন খুলে তাদের দু:খ দুর্দশার কথা বলে লাঘব করেন তাদের মনের ভার, জ্বালাযন্ত্রণা, বঞ্চনাবোধ। মুক্ত কণ্ঠে কথা বলতে পেরে, নিজেদের মত প্রকাশ করতে পেরে তারা কিছুটা হলেও তৃপ্ত বোধ করেন। এই হলো জাতীয় প্রেস ক্লাবের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য।’

অথচ এ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে নেই গণতন্ত্রের চর্চা। এ প্রতিষ্ঠানটি আজ একটি অগণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত যা সাংবাদিক সমাজের অহঙ্কারকেও ক্ষুন্ন করছে। প্রেস ক্লাবে পেশাদার সাংবাদিকরা বরাবরই উপেক্ষিত। এমনকি আজ তারা সদস্যও হতে পারছেন না। এ প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয় না; বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজে না; বঙ্গবন্ধুর ম্যূরাল প্রতিস্থাপন হয় না; শহীদ সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধাও নিবেদন হয় না; এমনকি কোন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বেশ কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর ম্যূরাল প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরোধীতায় তা আর হয়নি।

স্বাধীন দেশ, স্বাধীন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান জাতীয় প্রেস ক্লাবের হালহকিত আমরা সবাই জানি। অথচ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের এ সময়েও এ প্রতিষ্ঠানের এমন ভগ্নদশায় শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়; সাধারণ মানুষ ঘৃনায় মুখ ফিরে নেয়। এ প্রতিষ্ঠানটিতে কতিপয় সুবিধাবাদী, চাটুকর, দালাল শ্রেণীর লোকজন নিজেদের বাপদাদার পৈত্তিক সম্পত্তি ভেবে যা ইচ্ছে তাই করছে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির কথা বলি তারাই বা কেন উল্লেখযোগ্য কর্মসূচিগুলো পালন থেকে বিরত থাকি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব এখন রাজাকার আলবদরের আখড়া। এখানে নেই মুক্ত চর্চার সাংবাদিকতার বিকাশ কিংবা লালনের পথ।

জাতীয় প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ বর্তমানে দেশব্যাপী যে সন্ত্রাস নৈরাজ্য চলছে তা দিনকে দিন উসকে দিচ্ছে। কখনো কখনো আবার তাদের গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে গলাবাজিও করতে দেখা যায়। ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনির মতো অবস্থা। প্রেস ক্লাবে যেমন অপেশাদার সাংবাদিকদের অগণতান্ত্রিক দাপট তেমনি এ ক্লাবে রয়েছেন অনেক অনেক প্রথিতযশা, খ্যাতিমান, শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক। তাদের অনেকেই এ দেশের স্বাধীকার আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন।

স্বাধীনতার মহান ৪৪ তম বাষির্কীর প্রথম প্রহরে এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভয়ঙ্কর কালরাত্রি স্মরণে এই প্রথমবারের মত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে ২৫ মার্চ ’১৫ রাত ১২ টা এক মিনিটে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে মোমবাতি প্রজ্বালন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ উপলক্ষে এদিন রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ঐতিহাসিক ভাষণ (৭ মার্চ ’৭১) ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত প্রচার এবং স্মৃতিচারণ করা হয়।

ডিইউজে সভাপতি আলতাফ মাহমুদের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বিএফইউজে সহ-সভাপতি ড. উৎপল কুমার সরকার, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, মোল্লা জালাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সলিম উল্লাহ সেলিম, নির্বাহী সদস্য পুলক ঘটক, মো. আকতার হোসেন, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, পেশাজীবী সাংবাদিকদের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিকদের নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন না করা উদ্দেশ্যমূলক এবং নিন্দনীয়। নেতৃবৃন্দ আগামীতে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর প্রতি আহবান জানান। মোমবাতি প্রজ্বালনের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সাংবাদিকের সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে রাত ১টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

পরিশেষে জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজের ভাষায় বলি, ‘আমাদের প্রিয় পেশা সাংবাদিকতার উৎকর্ষ ও সাফল্য অর্জনে এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখানে এসে আমরা মিলিত হই, অবসর সময় কাটাই এবং স্বাধীনভাবে পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় করি। এখানে কারো ব্যক্তিগত মতাদর্শ বড় হয়ে ওঠে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের বন্ধনকে দৃঢ় করেছে। এই অনুভূতি এতটাই উষ্ণ যা হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়। সময়ের বিবর্তনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পরিসর অনেক বড় হয়েছে। জাতির কাছে এর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে সভাপতির এমন বক্তব্য কথায় না হয়ে কাজে প্রমান হোক এমন প্রত্যাশা সবার। তাই এখন সময়ের দাবি জাতীয় প্রেস ক্লাব হোক কলঙ্কমুক্ত। রাজাকার-আলবদর মুক্ত। এখানে উদ্ভাসিত হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। হোক পেশাদার সাংবাদিকদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান; হোক ‘সেকে- হোম’।

লেখক: সাংবাদিক, শিল্পসমালোচক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল।
ইমেইল: azad_chaty@yahoo.com