গণমাধ্যম : দ্বিরুক্ত শব্দ ও ভুল বানান

মঙ্গলবার, ২৬/০৩/২০১৩ @ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

আব্দুর রউফ রণি::

newspaper1হাতে গোনা কটি নিউজ চ্যানেল জানেই না টিভি সাংবাদিকতা কি। নেত্রীকে তেল মেরে লাইসেন্স পেয়েছে ঠিকই কিন্তু সাংবাদিকতার স-ও জানেনা। একটাই পারে তা হলো লাইভ দেখানো। তাও কেউ কেউ পারেনা। ফাটা ছবি, ফাটা স্ক্রিন। কি জঘন্য। টিআরপি’ হয়ত ভাল অবস্থান। সেটারও কারণ আছে। মানুষ তাৎক্ষণিক সংবাদ চায়। আর পায় বলেই দেখে। নয়ত ছবি, নিউজ ট্রিটমেন্ট, স্ক্রিপ্ট এডিটিংয়ের যা অবস্থা তা রীতিমত লজ্জাজনক। বিশেষ করে যারা স্ক্রিপটিং বোঝেন। একটু উদাহরণ দিই—বেশিরভাগই বলছে, বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব…….। এখানে কোন এক জায়গায় বলা উচিত দল বা দলীয়। যেমন, দলীয় নেতাকর্মীদের…..বিএনপি মহাসচিবের হুঁশিয়ারি অথবা শুরুতে বিএনপি থাকলে পরে হবে দলের মহাসচিব। শুনতেও ভাল লাগে। দ্বিরুক্ত শব্দের এই ব্যবহার যে দূষণীয় তা নিউজ এডিটররা বোধকরি জানেনই না। কেউ বোধহয় দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থই জানেন না। বলছে, পুলিশের সঙ্গে জামাতের সংঘর্ষে তিন জামাত কর্মী আহত। কেমন লাগে! বলা উচিত, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন জামাত কর্মী আহত। একটা জামাত বললেই শুদ্ধ এবং শ্রুতিমধুর। বলছে, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বললে আওয়ামী লীগের অমুক….। আরে ভাই একটা জায়গায় দল শব্দটা ব্যবহার করলেই তো হয়। আমরা যদি বলি, একাত্তর টিভির সাফল্য কামনা করে একাত্তর টিভির কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন একাত্তর টিভির ডিরেক্টর নিউজ….তা কি ভাল হবে না সহিহ হবে?
মোদ্দা কথা, এরা রীতিমত আবার বাংলাভাষাকে ধর্ষণ করছে। বানানের কোন রীতি মানছে না তারা। ভুল তো আছেই। প্রথমেই বলে নিই, আড়াই বছর ধরে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক পদ নিয়ে আছি মোহনা টিভি-তে। দায়িত্ব পালন করছি আসলে বার্তা সম্পাদকের। গোপনে বলেই ফেলি, বারবার কথা দিয়েও প্রমোশন দেন না কর্তৃপক্ষ। যাই হোক, আমরাও বানান ভুল করি। তবে খুব কম। আর আমার চোখে ভুল ধরা পড়লে সাথে সাথে ঠিব করে ফেলি। বাসায় থাকলে ফোন করে ঠিক করাই। তবু মাঝে মাঝে দুএকটি ভুল রাতভর চলে। সেটা বড় কিছু না। কিন্তু টিকারে বেশিরভাগ চ্যানেল প্রতিদিন অসংখ্য ভুল করছে। কিছু কমন বানান প্রতিদিন ভুল করছে সব চ্যানেল। মোহনা ছাড়া। এর একটি হলো আগামিকাল। সবাই লিখেছে আগামীকাল। এমন আরো কিছু আছে। মন্ত্রিসভাকে লিখছে মন্ত্রীসভা, মন্ত্রিপরিষদকে মন্ত্রীপরিষদ। কেউ জানেই না যে আগামী বা মন্ত্রী লিখতে দীর্ঘ ই-কার হয় কিন্তু সঙ্গে কাল বা সভা/পরিষদ যোগ হলে দীর্ঘ-ই কার হয়ে যায় হ্রস্ব ই-কার। এই মুহুর্তে বানান ভুলের তালিকায় প্রথম তিনটি স্থানই দখল করে রেখেছে তিনটি নিউজ চ্যানেল। মাঝে মাঝে দু’একজন নিউজ চিফকে এসএমএস করি। কিন্তু লাভ হয়না। ওই ভদ্রলোকদের ধারণা তারা যা লিখবেন তা-ই কোরানের বাণী। ফলে টানা চব্বিশ ঘন্টা চলতে থাকে ওই ভুল। লজ্জা লাগে এটা ভেবে যে, মানুষ কেন ভুল স্বীকার করতে চায়না আর বিশেষ করে সাংবাদিকরা এত অজ্ঞ কেন হবে এই ভেবে।
এদের জন্য প্রায়শ:ই সঠিক বানানটি ভুলে যাই। পরে অভিধান দেখে নিশ্চিত হই। সাগর রুনির বিচার নিয়ে কি লাফালাফি টাই না করলেন অনেকে। এখন দুই ভাগ। সম্ভবত কেউ কেউ সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের মাল পেয়ে গেছেন।সাংবাদিকদের এই যদি হয় মানসিকতা তবে জাতির ভবিষ্যত কি কে জানে?

লেখক: সংবাদকর্মী।