সংবাদ ও সাংবাদিকতা

শনিবার, মার্চ ১৪, ২০১৫

:: আবুল কালাম আজাদ ::

Abul Kalam Azadদীর্ঘ ২০ বছর ধরে একজন কলম সৈনিক হিসেবে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে আমি আমার পেশার উৎকর্ষ সাধন এবং বিকাশে নিরন্তর চেষ্টা করছি। কতটুকু পেরেছি তা হয়তো আমি নিজেও জানিনা। তারপরও বিরামহীনভাবে ছুটে চলেছি এক চ্যালেঞ্জিং পেশা সাংবাদিকতার পেছনে। গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় গণমুখি সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম। তাই সাংবাদিকতা পেশা এখন চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশাটিকে বেঁচে নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। চলার পথে একজন অনুজপ্রতীম সহকর্মীর ডাকে সাড়া দিয়ে ‘সংবাদ ও সাংবাদিকতা’ বিষয় নিয়ে দু-চারটি কথা বলার দু:সাহস দেখাচ্ছি।

তাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত দিক এবং ব্যবহারিক দিকগুলো সহজেই আতস্ত করতে হবে একজন চৌকস সাংবাদিককে। সাংবাদিকতা পেশার উৎকর্ষ সাধনের জন্য যেমন সাংবাদিককে সুলিখিত বই পড়তে হবে তেমনি ব্যবহারিক জ্ঞানেরও প্রয়োজন রয়েছে। একজন শল্যচিকিৎসক যেমন রোগ নিরাময়ের জন্য তাঁর শল্যবিদ্যা প্রয়োগ করেন তেমনি একজন দক্ষ সাংবাদিক হতে হলে সাংবাদিকতা পেশার মাধ্যমে সামাজিক চিকিৎসা তথা রাষ্ট্রে অর্থনীতি, রাজনীতি, সমস্যা, উন্নয়ন, সম্ভাবনা, খেলাধুলা এবং অপরাধ ইত্যাদি বিষয়ে ভালমন্দ তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদনই হচ্ছে একজন সাংবাদিকের ব্যবস্থাপত্র। যাতে জাতির জন্য দিক নির্দেশনা থাকে। তাই একজন সাংবাদিককে সৎ, তীক্ষè বুদ্ধিসম্পন্ন, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, জ্ঞানী ও দক্ষ সাহসী প্রভূতি গুণের অধিকারী হতে হয়।

আধুনিক সাংবাদিকতার পীঠস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ‘টাইম’ পত্রিকার সম্পাদক উইক হ্যামস্টিড বলেছেন, একজন আদর্শ সাংবাদিক হচ্ছেন তিনি, যিনি আত্তীকরণ করেছেন নিপুণতা, অর্জন করেছেন প্রাচীনের প্রাজ্ঞতা, অধিকতর আধুনিকের দর্শন, বৈজ্ঞানিকের জ্ঞান, প্রকৌশলীর যন্ত্রবিদ্যা। তার নিজের ও অন্যান্য সময়ের ইতিহাস, অর্থনীতির মূল শর্তাবলি, সামাজিক-রাজনৈতিক জীবন, চিন্তা-ভাবনা ও তার উপলব্ধি, এর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ, আর লাখ লাখ পাঠকের ইচ্ছা পূরণার্থে নীতিগতভাবে সেগুলোকে জ্ঞাত করা।

সংবাদ বলতে মুদ্রণজগৎ, সম্প্রচার কেন্দ্র, ইন্টারনেট অথবা তৃতীয় পক্ষের মুখপত্র কিংবা গণমাধ্যমে উপস্থাপিত বর্তমান ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অপরদিকে সংবাদদাতা বা সাংবাদিক বিভিন্ন স্থান, ক্ষেত্র, বিষয় ইত্যাদিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংবাদ সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংগ্রহপূর্বক সংবাদ কিংবা প্রতিবেদন রচনা করে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরণ করে থাকেন। পেশাজীবি হিসেবে একজন সাংবাদিকের কাজই হচ্ছে সাংবাদিকতায় সহায়তা করা। বিভিন্ন বয়সের পুরুষ কিংবা নারী সাংবাদিকতাকে অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ের ¯œাতক কিংবা ¯œাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন চাকরি হিসেবে ত্রিশ হাজার মার্কিন ডলারের বেতনে সংবাদপত্রশিল্পে প্রবেশ করেছে। আমাদের দেশে এখন বলা যেতে পারে প্রতিটি পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা কিংবা মিডিয়া রিলেটেড বিষয় চালু রয়েছে। যাতে এ দেশে তরুণ সমাজ আকৃষ্ট হচ্ছে বা হয়েছে। বর্তমানে এ পেশার প্রতি নতুন প্রজন্মের যে আকর্ষন তা বলে প্রকাশ করা যাবে না। তাই দিন যতই যাচ্ছে ততই এ পেশার প্রতি সবারই আগ্রহ বাড়ছে। সংবাদ ও সাংবাদিকতা নিয়ে আগ্রহের অন্ত থাকছে না। বর্তমানে আমাদের দেশের সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতার মান বিশ্বের অনেক দেশেই সমাদৃত। ১৬০৫ সালে প্রকাশিত রিলেশন অলার ফুর্নেমেন আন্ড গেডেনঙ্কুরডিগেন হিস্টোরিয়েনকে বিশ্বের প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে সংবাদপত্রের সূচনা ঘটে।

চতুর্দশ শতাব্দীতে নিউ শব্দের বহুবচন হিসেবে নিউজ বা সংবাদ শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহার করা হতো। মধ্যযুগীয় ইংরেজী হিসেবে নিউজ শব্দটির সমার্থক ছিল নিউইজ (হববিং), ফরাসী শব্দ নোভেলেজ (হড়াঁবষষবং) এবং জার্মান শব্দ নিউয়েজ (হবঁবং)। নিউজ শব্দটিকে বিশ্লেষণ করা হয় ‘এন’ (নর্থ), ‘ই’ (ইস্ট), ‘ডব্লিউ’ (ওয়েস্ট) এবং ‘এস’ (সাউথ)। অর্থাৎ উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম। সবদিকে খোঁজ নিয়েই তৈরি হয় এক একটি সংবাদ।

যিনি সংবাদ সংগ্রহ করেন এবং সংবাদ জানার জন্য আগ্রহী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজটি করেন। সেটি যেকোনো মাধ্যমে হোক। মুঘল আমলে বাংলা শাসন করতেন দিল্লির শাসকদের প্রতিনিধিরা। কখনও কখনও কিছুটা স্বাধীন নবাবরা। তখন মুঘল শাসকরা বাংলার নবাবদের তথ্য পেতে গুপ্তচর নিয়োগ করতেন। পরবর্তী সময়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আকচার বা সংবাদ বাহক নবাবের খাস মহলে নিয়োগ পান। বতর্মান সময়ে সরকার যেমন নানা ধরনের গোয়েন্দা সংস্থা পালে, সেই রকম। তাদের আকচার বলা হতো। মূলত সংবাদ-সাংবাদিকতার আধুনিক সংস্করণের বিকাশ ইউরোপে রেনেসাঁ পরবর্তী সময়ে। ১৪৫৮ সালে মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ার পর। এই বঙ্গের সংবাদ ও সাংবাদিকতার বিকাশ ইংরেজ আমলে, সাবেক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীর হাতে ১৭৭৬ সালে। উইলিয়াম বোল্টনস নামের ওই কর্মচারী দেয়াল পত্রিকা বের করেন। বাংলায় তথা ভারতবর্ষে সেটিই সংবাদপত্রের সূচনা।

বাঙালিদের মালিকানায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় ১৮১৮ সালে। এরপর রাজা রামমোহন রায় থেকে শুরু করে অনেকেই সংবাদপত্র প্রকাশ করেন নানা ঢঙে। প্রায় প্রতিটিই ইংরেজ সরকারের কোপানলে পড়ে। বেশিরভাগ বন্ধ হয়। নানা ধরনের আইনও প্রণয়ন করে ইংরেজ সরকার। লক্ষণীয় যে, সিপাহী বিপ্লবের সময় বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্র ছিল প্রায় ৪৭৪টি। ঢাকায় ১৮৬০ সালে বাংলা মুদ্রণ যন্ত্র আসে। যেখান থেকে ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র ‘ঢাকা প্রকাশ’ বের হয়। বতর্মান ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রের চেয়ে কম ছিল তখনকার বাংলার সংবাদপত্র। যদিও পাঠকের তথ্যের ক্ষুধা মিটিয়ে জনপ্রিয় হওয়া সংবাদপত্র নেহাতই হাতেগোনা। বঙ্গে সাংবাদিকতার শুরু থেকেই শুধু তথ্য বিতরণকারী ছাপানো কাগজ ছিল না। তার মধ্যে ঔপনিবেশিক শাসনকে হটাতে দেশীয় জাগরণের উদ্দেশ্য ছিল। সেই উদ্দেশ্য পূরণে সংবাদপত্রগুলো দেশীয় পক্ষাবলম্বন করে সংবাদও পরিবেশন করতো।

পাকিস্তান ও ভারত আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন হয় ১৯৪৭ সালে। কলকাতা থেকে বাংলা পত্রিকা ‘আজাদ’ তার অফিস ঢাকায় স্থানান্তর করে। ‘ইত্তেফাক’ও চালু হয় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার হাত ধরে। ভাষা আন্দোলনের ভিত তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সহযোদ্ধা হিসেবে ১৯৫১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আবির্ভাব হয় ‘দৈনিক সংবাদে’র। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আর্থ-সামাজিক যথার্থতা তৈরি করতে এই দুই পত্রিকার সাংবাদিকতা অসাধারণ ভূমিকা রাখে। শুধু তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ নয়, আগামীর বাংলাদেশের জন্য ক্ষেত্র তৈরির ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করে স্বাধীনতা-পূর্ব সাংবাদিকতা। উদ্দেশ্যের স্পষ্টতা সত্ত্বেও তৎকালীন সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি কেউ। এমনকি শাসকগোষ্ঠীও। তবে পত্রিকাগুলো শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েছে তাদের মনমতো সংবাদ পরিবেশিত হয়নি বলে। পুড়েছে ‘সংবাদ’ ও ‘ইত্তেফাকে’র অফিস।

বর্তমানে সংবাদ ও সাংবাদিকতা শুধু সংবাদপত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; সংবাদপত্রের গ-ি পেরিয়ে এখন রেডিও বা বেতার, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে। দিন যতই যাচ্ছে এর সীমা পরিধি ততই বেড়েই যাচ্ছে। তাই পেশাটি দিনকে দিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। সংবাদ ও সাংবাদিকতায় সমালোচনার শেষ নেই। সংবাদপত্রের সৃষ্টির ইতিহাস থেকে এখন পর্যন্ত সংবাদপত্র, সংবাদ ও সাংবাদিকতায় চলছে সমালোচনা। সাংবাদিকতার সমালোচনায় আমরা জানি পাপারাৎসি এবং হলুদ সাংবাদিকতা।

এবার আসা যাক পাপারাৎসি : এটি পাপারাৎসিক বা পাপারাজ্জি নামেও পরিচিত। এ শব্দটি দ্বারা আলোকচিত্রীদের বোঝানো হয়। যারা নির্দিষ্ট কোন মঞ্চ বা অনুষ্ঠান ছাড়া তারকাদের অসচেতন ও ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি তোলেন। হলুদ সাংবাদিকতা হলো উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনাকে বোঝায়। এ ধরনের সাংবাদিকতায় ভাল মত গবেষণা বা খোঁজ-খবর না করেই দৃষ্টিগ্রাহী ও নজরকাড়া শিরোনাম দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। হলুদ সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হল সাংবাদিকতার রীতিনীতি না মেনে যেভাবেই হোক পত্রিকার কাটতি বাড়ানো। অর্থাৎ হলুদ সাংবাদিকতা মানেই ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন, দৃষ্টি আকর্ষণকারী শিরোনাম ব্যবহার করা, সাধারণ ঘটনাকে একটি সাংঘাতিক ঘটনা বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা। কেলেংকারির খবর গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা, অহেতুক চমক সৃষ্টি ইত্যাদি।

আর এ হলুদ সাংবাদিকতার জন্ম হয়েছিল সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম দুই ব্যক্তিত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জোসেফ পুলিৎজার আর উইলিয়াম রুডলফ হার্স্টের মধ্যে পেশাগত প্রতিযোগিতার ফল হিসেবে। পুলিৎজারের নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড ও হার্স্টের নিউ ইয়র্ক জার্নালের মধ্যে পরস্পর প্রতিযোগিতা এমন এক অরুচিকর পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার পরিবর্তে পত্রিকার বাহ্যিক চাকচিক্য আর পাঠকদের উত্তেজনা দানই তাদের মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে হলুদ সাংবাদিকতার বীজ এখন বাংলাদেশের সংবাদপত্র, সংবাদ ও সাংবাদিকতার রন্ধে রন্ধে ঢুকে পড়েছে। এখন বাংলাদেশের সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকরা এ হলুদ সাংবাদিকতাকে যেন লালন করে চলেছেন। কারণ বাংলাদেশের যত দুর্বৃত্ত, ভূমিদস্যু রয়েছেন তারাই এখন সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইন পত্রিকার মালিক। আর তারাই তাদের স্বার্থে বাংলাদেশের সংবাদপত্র, সংবাদ এবং সাংবাদিককে ব্যবহার করছেন। তাই প্রতিনিয়তই সংবাদ এবং সাংবাদিক সমাজ কলুষিত হচ্ছে।

পরিশেষে বলতে চাই, একজন পরিপূর্ণ সংবাদকর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে সাংবাদিকতার উৎকর্ষ সাধনের বিকল্প নেই। অবিরাম লেখনি আর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই নিজেকে বিকষিত করতে হবে। শুধু মানুষ নয়; পরিবেশ, সমাজ, জানা-অজানা, প্রাণীজগৎ, প্রকৃতি, মহাকাশÑএ সবকিছুতেই একজন সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীর আগ্রহ থাকতে হবে। একটি ঘটনাকে অর্থবহভাবে তুলে ধরতে পারলেই একটি সংবাদ এবং সাংবাদিকের মুনশিয়ানা ফুটে উঠবে। আর তখনই সেই সাংবাদিকের জৌলস ধরা পড়বে। ছড়িয়ে পড়বে সেই সাংবাদিকের খ্যাতি। উপকৃত হবে রাষ্ট্র।

লেখক : সাংবাদিক, শিল্পসমালোচক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল।
ইমেইল: azad_chaty@yahoo.com