জামাল হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি

শনিবার, মার্চ ৭, ২০১৫

:: রাঙামাটি প্রতিনিধি ::

১০ বছরের পেশাগত জীবনে সাংবাদিক জামাল উদ্দীন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচার বহুল দৈনিক গিরিদর্পন, বার্তা সংস্থা আবাস, দৈনিক বর্তমান বাংলা, দৈনিক করতোয়াসহ এনটিভি’র রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

১০ বছরের পেশাগত জীবনে সাংবাদিক জামাল উদ্দীন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচার বহুল দৈনিক গিরিদর্পন, বার্তা সংস্থা আবাস, দৈনিক বর্তমান বাংলা, দৈনিক করতোয়াসহ এনটিভি’র রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

৮বছরেও উদঘাটন হয়নি রাঙামাটির সাংবাদিক জামাল হত্যার রহস্য। ধরা পরেনি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা। জানা যায়নি কে বা কারা সাংবাদিক জামাল হত্যাকান্ডের মুলহোতা। ২০০৭ সালের ৫ মার্চ সাংবাদিক জামাল উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর ৬ মার্চ বিকাল ৪টায় রাঙামাটি পর্যটন এলাকার হেডম্যান পাড়ার পাহাড়ের একটি গাছের নীচ থেকে উপুড় অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জামাল উদ্দিন খুন হয়েছে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টেও সেটা নিশ্চিত করা হয়।

জামাল হত্যা মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মোখতার আহমেদ জানান, রাঙামাটি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোটে জামাল হত্যান্ডের মামলাটি প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে ২২/০৪/০৮ সালে চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে জামালের পরিবার নারাজীর আবেদ করার পর পুনরায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকার্তা জেলা গোয়েন্দা শাখাকে অধিকতর তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার তদন্ত শেষে ০৭/০৩/১০ইং পুনরায় চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। তার পরেও জামালের পরিবার পুনরায় নারাজী দিলে ০৯/০৫/১০সালে বিজ্ঞ আদালত পুনরায় অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশের নিকট দেওয়া হয়।

সিআইডির তদন্তের শেষে মামলাটির তিনটি সংস্থার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। তার পরেও জামাল হত্যাকান্ডের কোন ভিত্তি খুজে পায়নি তদন্ত কর্মকর্তারা। ছুড়ান্ত রিপোর্টের পর মামলাটির আর কোন ভিত্তি নাই বলে মামলাটি নথিজাত করা হয় এবং আসামীদেরকে মামলার দায় হতে অব্যহতি প্রদান করা হয়। ২০১১ সালে মরহুম জামালে বড় ভাই বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে আপিল করে। মামলা নং ৮/১১। জামাল হত্যা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

সাংবাদিক জামাল এর ছোট বোন সাংবাদিক ফাতেমা জান্নাত মুমু জানান,‘দীর্ঘ বছর পার হলেও আমার ভাই সাংবাদিক জামাল হত্যাকান্ডের কোন রহস্য উদঘাটন হয়নি। এতে পুলিশ ও তদন্ত কর্মকর্তারাও ব্যর্থ হয়েছেন। সাংবাদিকতার মতো একটি মহৎ পেশায় থাকার পরও আমার ভাইয়ের এরকম মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারি না।’

‘যখন পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে তখন যে আঘাতের চিহ্নের কথা সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, তাতেই কিন্তু প্রমান হয় তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও কেন প্রশাসন সেই খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছেন।’

তিনি সরকারের কাছে জামাল হত্যাকান্ডের সাথে জরিত খুনিদের গ্রেফতার দাবী জানান।

এদিকে বিভিন্ন কর্মসূটীর মধ্য দিয়ে এবছর পালিত হচ্ছে সাংবাদিক মোঃ জামাল উদ্দিনের ৮ম শাহাদাৎ বার্ষিকী। এ উপলক্ষে তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের উদ্যোগে তিন দিন ব্যাপী কর্মসূচী আয়োজন করেন। শুক্রবার দুপুরে শহীদ সাংবাদিক জামালের জন্য শহরের কাঠাল তলী জামে মসজিদ, বনরূপা জামে মসজিদ দোয়া ফাতেহা মিলাদা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বনরূপা কবরস্থানে জামালের কবরে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে জিয়ারত করে তার পরিবারের সদস্যরা।

এসময় সাংবাদিক জামালের ছোট বোন রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জান্নাত মুমু, বড় ভাই মো. সালাউদ্দীন করিম আবু, মেজভাই মো. কামার উদ্দীন আকাশ,ছোট ভাই মো. জাবেদ উদ্দীন ও বোন মহুয়া জান্নাত মণি উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৫মার্চ জামালের নিজ বাস ভবনে দোয়া ফাতেহা অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া ৭মার্চ শনিবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সকল সাংবাদিকদের ব্যানারে সর্বস্থরের জন সাধারণের অংশ গ্রহণে জামাল হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত,জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিল। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পুরো ১০ বছর পেশাগত কাজে দক্ষতার ছাপ রেখে ছিলেন।

পেশাগত জীবনে জামাল উদ্দিন বেসরকারী টেলিভিশন এনটিভি’র রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি,পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচার বহুল দৈনিক গিরিদর্পন পত্রিকায় প্রতিবেদককের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্তা সংস্থা আবাস, দৈনিক বর্তমান বাংলা ও দৈনিক করতোয়ায় কাজ করেন।