পত্রিকা কার্যালয়ে ককটেল হামলা, অতঃপর

বৃহস্পতিবার, ০৫/০৩/২০১৫ @ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

:: আকাশ মো. জসিম ::

newsmediaঘটনাটি শুনে একটু স্তম্ভিত হয়েছি। তবে অবাক হইনি। কেননা খবরের নায়ককে আমার অনেকটা ভালভাবে চেনা জানা। তবুও একজন পেশাদার সংবাদকর্মীর সাথে এভাবে অযাচিত আচার-আচরণ দেখে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কিছু বলার সাহস রাখি না। তবে ভাবছি জান যে গেল কষ্ট নেই; কিন্ত, আজরাইল তো পথ চিনে ফেলছে।

বিষয়টি বড়ই বেদনার। আসন্ন দিনগুলোতে কোন সংবাদকর্মী কি আর নিরাপত্তা নামক শব্দের বন্ধনীতে টিকে থাকতে পারবেন-এ সন্দেহ নিয়ে। বলছিলাম, গত ক’দিন আগে একটি চ্যানেলের নোয়াখালী কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। ওই সময় চ্যানেলটির প্রতিনিধি মাত্র কার্যালয় বন্ধ করে পাশে থাকা আরেকটি জাতীয় পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধির কার্যালয়ে গেলেন।

বিস্ফোরণের শব্দে তিনি ছুটে এসে দেখলেন ককটেল সদৃশ্যতা। তৎক্ষণাৎ, জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পাঠালেন অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। তারা এলেন, দেখলেন এবং মন্তব্য করলেন।

সে সময়ে জেলার একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা ও সাংসদ মুঠোফোনে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে চাইলেন। পুলিশ কর্মকর্তাও ফোনটি বাড়িয়ে দিলেন ওই চ্যানেলের প্রতিনিধিকে। প্রতিনিধি সালাম দিতে না দিতেই সাংসদ প্রতিনিধির মা, বাপ ও চৌদ্দ গোষ্ঠি তুলে যাচ্ছে তাই। যা শুধু অশ্রাব্য নয়; চরম দৃষ্টিকটুতার শেষ পর্যায়েও। ইতিবাচক বয়ান শুনে মনুষ্য স্বত্বার আত্মশুদ্ধি ঘটে। কিন্ত, তিনি যে বয়ান করেছেন, তা শুনে শ্রবণকারীর কি যে অবস্থা তা সহজেই বোধগম্য।

প্রতিনিধি একপর্যায়ে, অতিরিক্ত সাহেবকে ফোনটি দিয়ে বললেন দেখেন ভাই, উনি তো শুধু গাল আর গাল। তারপর, অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা নাকি প্রতিনিধিকে শ্বান্তনা স্বরে বললেন, দেখবেন এখন কি বলছে; কাল সকালে হয়তো মনেই থাকবেনা। মুহুর্তের পরিস্থিতি এবং ওই সাংসদের অবস্থান স্থলের অবস্থা কল্পনা করে যে কোন সচেতন নাগরিকের মনে হবে, সেটি আরো বেদনাদায়ক, লজ্জাকর ও জনতার ভাগ্যের নির্মম পরিহাস।

যাই হোক, এসব নিয়ে মাথাব্যথা হওয়ার কারণ না থাকলেও ঘটনার দু’দিন পরেই একজন সাংবাদিক নেতা আমাকে ফোন করে বললেন, ভাই কাল সকাল ১১টায় চ্যানেল কার্যালয়ে ককটেল ঘটনার প্রতিবাদে জেলা শহরে মানববন্ধন। একটু অংশ নেবেন। পরদিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকেই জেলা শহরের পত্রিকা স্টলে গেলে ওই চ্যানেল প্রতিনিধির সাথে ওখানে দেখা। দেখছিলাম, যার বিয়ে তারই যেন খবর নেই। চিকিৎসকের হৃদপিন্ডের পোস্টমর্টেমের অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু হৃদয়ের পোস্টমর্টেম কোনো চিকিৎসক করতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। যদি তা-ই সম্ভব হতো তাহলে ওই শ্রবণকারীর হৃদয়ের নৃশংস অবস্থা জানা যেতো।

বোধকরি সাংবাদিক নেতা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করেই এ ধরনের আয়োজন করেছেন। ভাগ্যিস! থমকে না গেলে উনারও কপালে যে কি ছিল তা আরো অনুমেয়।

একপর্যায়ে, চ্যানেলটির প্রতিনিধি পূর্বাপর ঘটনার আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করলেন। বললেন, মানববন্ধন নাকি হচ্ছেনা। তিনি বললেন, রাতের কোন সময়ে মানববন্ধনের খবর পেয়ে পুলিশ সুপার নাকি জানালেন, মানববন্ধন আপাতত স্থগিত করতে। যাই হোক, সাংবাদিক নেতার কাছেও হয়তো এরূপ ঘটনা উদারতার স্থলে ভিন্নতাই লাগছিল। নয়তো তিনি পুন: ফোন করে জানতেন; হ্যালো, মানববন্ধন শুরু হচ্ছে।

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক দিশারী। নোয়াখালী।