আনু মোস্তফার বিরুদ্ধে ‍তিন মামলা

বৃহস্পতিবার, মার্চ ৫, ২০১৫

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

anuরাজশাহী নগরীতে নাশকতার তিনটি মামলায় সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার আনু মোস্তফাকে জড়িয়েছে পুলিশ। এরমধ্যে দুটিই মামলা রয়েছে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে বাসে আগুন দেয়ার মামলা। আনু মোস্তফা যুগান্তরের রাজশাহীর ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।

এদিকে, নাশকতার মামলায় আনু মোস্তফাকে জড়ানো উদ্দেশ্যমূলক বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর সাংবাদিকরা। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে সাংবাদিকদের মাধে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারসহ দায়ী পুলিশদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

জানা গেছে, গত ১ মার্চ ভোরে রাজশাহী নগরীর শিরোইল ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা হানিফ এন্টারপ্রাইজের দুটি বাস ভাংচুর ও আগুন দেয় একদল দুর্বৃত্ত। এঘটনায় পারদিন বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক ও নাশকতার দুটি মামলা দায়ের করেন। ওই দুই মামলার এজাহারে ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামী করা হয় আরো ২০ জনকে। ওই দুই মামলায় এজাহারভূক্ত ৮ নম্বর আসামী হলেন আনু মোস্তফা।

মামলা এজাহারে বলা হয়েছে, ২০ দলের ডাকা হরতাল অবরোধ সফল করতে রাসিকের ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা পল্টুর নেতৃত্বে আসামিরা সশস্ত্র অবস্থায় ঘটনাস্থলে গিয়ে হানিফ এন্টারপ্রাইজের দুটি বাস ভাঙ্গচুর ও পেট্টলবোমা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মামলা নং-১ ও ২ তাং-২/৩/২০১৫। এই মামলা দুটির একটি দণ্ডবিধির আওতায় ও অপরটি বিস্ফোরক আইনের রুজ করা হয়েছে। আসামিরা বাসের হেলপার শাওনকে মারধর করে গুরুতর জখম করে ঘটনার সময় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, হানিফ এন্টারপ্রাইজের দুটি বাস পোড়ানোর ঘটনায় হানিফের ম্যানেজার মনজুর রহমান খোকন ঘটনার দিনই বোয়ালিয়া থানায় এজাহার দেন। কিন্তু পুলিশ তার এজাহারটি ফেরত দিয়ে নিজেরাই বাদি হয়ে মামলা রেকর্ড করেন। মনজুর রহমান খোকন যুগান্তরকে বলেন, আমরা জানি না কাকে আসামি করা হয়েছে। তবে আমরা যে এজাহারটি দিয়েছিলাম সেটি ফেরত দিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে মামলার বাদি এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি সাংবাদিক আনু মোস্তফাকে চেনেন না। আগেও দেখেননি। দেখলে চিনতে পারবেন কি-না সে ব্যাপারে কোনো উত্তর দেননি তিনি।

এদিকে প্রথম মামলায় সাংবাদিক আনু মোস্তফার বাবার নামেরস্থলে অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রামের ঠিকানাও ভুল দেয়া হয়েছে। শুধু থানা শিবগঞ্জ ও জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ উল্লেখ করা হয়েছে। আনু মোস্তফা যে রাজশাহীর সক্রিয় সাংবাদিক ও দৈনিক যুগান্তরের বু্যুরো চিফ সে বিষয়টি এজাহারে সুকৌশলে গোপন করেছে পুলিশ।

এদিকে, রাজশাহীতে ঘটনা ঘটলেও আনু মোস্তফার ঠিকানা দেয়া হয়েছে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের। মামলা দুটির এজাহারেও রয়েছে বিস্তর অসঙ্গতি।
অভিযোগ উঠেছে, আরএমপির কতিপয় অসৎ ও দুর্নীতবাজ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক বিতর্কিত ও বেআইনী কর্মকান্ড নিয়ে যুগান্তরে প্রতিবেদন হওয়ায় আনু মোস্তফাকে নাশকতার মতো গুরুতর অভিযোগের মামলায় পরিকল্পিতভাবে জড়ানো হয়েছে।

আনু মোস্তফার নামে মামলার ব্যাপারে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি আতিক, ওসি তদন্ত আশিকুর রহমান, বোয়ালিয়া থানার ওসি আলমগীর হোসেন, ওসি তদন্ত মাহমুদ ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার ওসি ময়নুল ইসলাম জড়িত বলে জানা গেছে। এসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আটক বাণিজ্য ছাড়াও নাশকতাকারীদের সঙ্গে গভীর যোগাযোগেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আরএমপির কমিশনার এসব কর্মকর্তাকে বরিশাল থেকে বদলি করে নিয়ে আসেন রাজশাহীতে। এই নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ রয়েছে খোদ পুলিশের ভেতরেই।

এদিকে, নাশকতার তিনটি মামলায় তাকে আসামি করা প্রসঙ্গে সাংবাদিক আনু মোস্তফা বলেন, বোয়ালিয়া মডেল থানাসহ ডিবির পুলিশ কর্মকর্তারা চলমান সহিংসতা ও নাশকতার সুযোগকে পুঁজি করে ব্যাপক আটক বাণিজ্য করে আসছে। তারা সহিংসতাকারীদের আড়াল করে সাধারণ মানুষকে ধরে ধরে থানায় নিয়ে গিয়ে টাকা আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ এসব মামলায় তাকে জড়িয়েছে।

আর এর উদ্দেশ্যই হচ্ছে হয়রানি করা এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো সাংবাদিক পুলিশের এসব অপকর্ম নিয়ে সংবাদ না করেন তার জন্য ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা। মামলার ঘটনাগুলির সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র থাকার কোনো সুযোগই নেই বলে দাবি করেন আনু মোস্তফা ।
এদিকে, সাংবাদিক আনু মোস্তফাকে নাশকতার মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) সহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে সাংবাদিক আনু মোস্তফাকে নাশকতা মামলায় জড়ানোর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এই কাজের সঙ্গে জড়িত পুলিশদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয় সাংবাদিককে মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলবে।

উল্লেখ্য, আনু মোস্তফা রাজশাহী প্রেস ক্লাবের দুই বারের সভাপতি ছাড়াও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই দফায় নির্বাহী সদস্য ছিলেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নেরও সদস্য।