সাগর-রুনি হত্যাকান্ড : ২৯ এপ্রিল বিক্ষোভ সমাবেশ

সোমবার, ২৫/০৩/২০১৩ @ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক:

Journalist-Nazmul-1520130325030721সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে ২৯ এপ্রিল সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “সরকারের শুভবুদ্ধি হলে সমাবেশের আগেই সাগর-রুনির হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করবে।”

সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) সামনে সাগর-রুনি হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন। এবারই প্রথম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এককভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাগর সরোয়ারের ‘মা’ সালেহা মনির, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম তপু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশের) সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আকন, ডিআরইউ’র সিনিয়র সদস্য বেবী মওদুদ এমপি, সাবেক সহ-সভাপতি আজমল হক হেলাল, কল্যাণ সম্পাদক নাজমুল আলম তৌফিকসহ সাংবাদিক নেতারা।
সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির আক্ষেপ করে বলেছেন, “দেশের এই গণতন্ত্র দিয়ে কী হবে? খুনি শনাক্ত হয়ে গেছে, তারপরও সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হলো না কেন। প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, আমার ছোট মেঘকে কী জবাব দেবেন?”

তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে। আমি জানতে চাই সেই ৪৮ ঘণ্টা পূর্ণ হতে আর কতদিন লাগবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে সালেহা মনির বলেন, “আমি দুঃখ পাই যখন আমার ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন। বিচার যদি না করেন বলেন, কিন্তু এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেবেন না।”

সাংবাদিকদের চলমান এ আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “তোমরা সংগ্রাম করতে পারলে আমি মা হয়ে কেন পারব না। ঝড়-বৃষ্টি-রৌদ্র সবকিছু মাথায় নিয়ে তোমাদের সঙ্গে থাকব।”

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর বলেছিলেন ‘সাগর-রুনির বিষয়টি নিয়ে আমরা জজ মিয়া নাটক সাজাতে চাই না’ এমন বক্তব্যের জের ধরে শাহেদ চৌধুরী বলেন, “এ বক্তব্যে আমরা আশা করেছিলাম সত্যিকার বিচার পাবো। কিন্তু ঠিকই সরকার সাগর-রুনির বিচারকে নিয়ে ‘জজ মিয়া নাটক’ সাজিয়েছে।” তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সাগর-রুনির ছেলে মেঘের দায়িত্ব নেয়ারও আহ্বান জানান।

ইলিয়াস খান বলেন, “আইওয়াশ করে পার পাওয়া যাবে না। প্রকৃত আপরাধীদের চিহ্নিত করুন, নইলে আপনাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। ডিবি-র্যা ব সব হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের করতে পারে, কিন্তু সাগর-রুনির রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ কেন?”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে ওমর ফারুক বলেন, “আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো যদি দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে আপনাকে এ পদে বহাল রেখে লাভ কি? দায়িত্ব নেয়ার পর যে অঙ্গীকার করেছেন তা রাখতে পারেননি। তাই আপনার মতো ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দরকার নেই।”

তিনি আরো বলেন, “সাংবাদিকদের কি ভাইরাসে পেয়েছে যে, সাগর-রুনির আন্দোলনের সঙ্গে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলেন না। এ আন্দোলনের সঙ্গে আমরা আছি এবং বিচার না হওয়া পর্যদন্ত থাকবো।”

শাবান মাহমুদ বলেন, “ডিবি ও র্যাাবের তদন্তের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের তদন্ত করতে হবে।” তিনি ডিআরইউ’র সভাপতির কাছে ক্রাব ও ডিআরইউর সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে এ হত্যার আসল ঘটনা প্রকাশ করার আহ্ববান জানান। এ আন্দোলন থেকে যারা পিছপা হবেন তাদের চিহ্নিত করার কথাও বলেন তিনি।

ডিআরইউ বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বৈঠকেই সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি কোনো সংগঠন পিছু হটলেও রাজপথে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।