শান্তনু চৌধুরীর উপন্যাস ‘ফিরে এসো’

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৫

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

Phire eso coverঅমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫’তে প্রকাশ হয়েছে সাংবাদিক ও লেখক শান্তনু চৌধুরীর উপন্যাস ফিরে এসো। পাওয়া যাচ্ছে উৎস প্রকাশন এর ১১৬-১১৭-১১৮ নাম্বার স্টলে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)। বইয়ের দাম ১৫০ টাকা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন নিয়াজ চৌধুরী তুলি।

এই উপন্যাসের নায়ক অয়ন। উপন্যাসের শুরুটা হয় উপমা দিয়ে।

তোমার গায়ের গন্ধটা কাঁঠালের মুচির মতো! ভালোবাসার মানুষটির ব্যাবহার করা এই উপমাকে যৌনতা বলবে না প্রেম বলবে তা বুঝে উঠতে পারে না ইরা। তবে যেভাবে অয়ন একথা বলুক না কেন, ইরার হয়তো কিছুই আসে যায় না। সে অয়নকে ভালোবাসে নিজেকে উজাড় করে। আর অয়ন? সেও কি ভালোবাসে ইরাকে? নইলে অমন অপার হয়ে কেনো বসে থাকে ওর অপেক্ষায়, কেনো ইরার সান্নিধ্যকে মনে হয় জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। আর কাছে পেয়ে মেতে ওঠে আদিম ভালোবাসায়?

আবার এই অয়নই তো, মহুয়াকে এক নজর দেখতে গিয়ে কী ভীষণ বিপদেই না পড়েছিল! অয়ন কি মহুয়াকে ভালোবাসে? তবে সুস্মিতাকে কাছে পেতে কেনো বাঁশঝাড়ে ভয় উপেক্ষা করে বসে ছিল?

এই উপন্যাসের নায়ক অয়ন। নায়িকা ইরা। তাহলে শীলা-শমিতা-মানসী-উপমা এরা কারা ? শান্তনু চৌধুরী আপনাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে অতি সাধারণ এক যুবকের জীবনের অলিতে গলিতে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা বর্ণনা আর বিশেষণে লেখক এঁকেছেন এক একটি দৃশ্য। আছে জীবনের নানা রহস্যের খোঁজ, প্রেম আর কাম।

ফিরে এসো এর ভূমিকায় প্রখ্যাত রম্য লেখক ও কাটুর্নিস্ট আহসান হাবীব বলেছেন, ‘সাংবাদিক হিসেবে শান্তনু গণমানুষের কাছাকাছি থাকেন বলেই তাদের জীবন থেকে সরাসরি নিয়ে অনেক কিছু লিখে ফেলতে পারেন।’ বইটির লেখক পরিচিতিতে লেখক ও সাংবাদিক তুষার আবদুল্লাহ বলছেন, ‘ভালোবাসার নাগরিক মানুষ শান্তনু। এবারের উপন্যাস ‘ফিরে এসো’ প্রেমের বালুকাবেলার একটি জলছাপ মাত্র।’

প্রকাশক মোস্তফা সেলিম বলছেন, ‘প্রিয় পাঠকদের আমি বলবো বইটি অন্তত একবার পড়ে লেখককে মূল্যায়ন করুন।’ আর শান্তনু চৌধুরী, যিনি বর্তমানে কাজ করছেন দৃশ্যমান সংবাদ মাধ্যমে, সময় টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে। নিজের উপন্যাস সম্পর্কে বলেছেন, ‘সাধারণ এক যুবকের গল্প, যে চিরকাল প্রেম খুঁজে বেরিয়েছে, প্রেম হয়তো সে পেয়েছে বা কখনো পেয়ে হারিয়েছে বা পাওয়াটাই ঠিক পাওয়া হয়ে উঠেনি, এসব গল্পই উপজীব্য, আনন্দের জন্য যারা পড়েন বইটি তাদের ভালো লাগবে বলে বিশ্বাস।’

লেখক পরিচিতি

Shantanuখানিকটা অভিমানী, খানিকটা জেদিও। তবে স্বভাবজাত বিনয়ের আকাশে প্রায়শ ঢাকা পড়ে যায় অভিমান আর জেদের মেঘ। বলতে গেলে অল্প সময়ে সাফল্য যতোটুকু, তার পেছনে ওর জেদেই কাজ করেছে বেশি। একটুতেই, কাউকে ভালোবেসে কাছে টেনে নেয়ার অসম্ভব ক্ষমতা তার। সে কারণেই হয়তো একটু বেশি-ই অভিমান জমা থাকে মনের গহিনে। পাহাড়, সাগর আর বৃষ্টির প্রতি দুর্বলতা সেই বালকবেলা থেকেই। তাই সুযোগ পেলেই ছোটে বান্দরবান, কক্সবাজার। আর বৃষ্টিতে ভেজা হয় না ঠান্ডা লাগবে বলে! তবে টিনের ছাদে বৃষ্টির শব্দ শুনে শব্দচর্চা বা হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির শরীর ছোঁয়া এসব এড়াতে পারে না কোনো নিষেধের বেড়াজাল।

পাহাড়ের জনপদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার উত্তর ঢেমশা গ্রামে মধ্যবিত্ত দশটি ছেলের মতো কেটেছে শৈশব-কৈশোর। বাবার শাসন, মায়ের হাতের হলদি গন্ধ, কাদামাটি, বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, লুকিয়ে প্রেমপত্র লেখা, কখনো মার্বেল খেলতে গিয়ে মারামারি…। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখার প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ গুটিয়ে ফেললেও স্বশিক্ষিত হওয়ার চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত। সাংবাদিকতার হাতেখড়ি ১৯৯৯ সাল থেকে। এরপর গল্প, কবিতা। প্রকাশ হয়েছে চারটি বই কথা প্রসঙ্গে-(বিখ্যাতদের মজার সাক্ষাতকার), তারার অন্তরালে (তারকাদের সাক্ষাতকার), প্রথম চিঠি (গল্পগ্রন্থ), ফিরে এসো (উপন্যাস)। বর্তমানে কাজ করছেন দৃশ্যমান সংবাদ মাধ্যম সময় টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে।