সাংবাদিকের পিটিয়ে রক্তাক্ত করল পুলিশ

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৫

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

du journalistপেশাগত দায়িত্ব পালন করতে মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে সাংবাদিকসহ দুজনকে বেদড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান সুমন। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও নির্যাতনের হাত থেকে শেষ রক্ষা হলো না। মেরে রাস্তা থেকে থানায় নিয়েও কয়েকদফা লাটিচার্জ করা হয় তাদের ওপর।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগর মোড়ে এ ঘটনাটি ঘটে।

আহতরা হলেন- দি নিউএজ পত্রিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক নাজমুল হুদা সুমন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুজ্জামান শুভ।

এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে রমনা থানার ১৫-২০ জন পুলিশ এ দুই সাংবাদিককে পায়ের বুট ও বন্দুকের বাট দিয়ে বেদড়ক মারধর করে কয়েক ঘণ্টা থানায় আটকে রাখে।

পরে সেখান থেকে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

আহত দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে রোববার বিকেল ৫টার দিকে নাজমুল হুদা সুমন তার এক বন্ধুকে মোটরবাইকে করে বিজয়নগর মোড় দিয়ে ফকিরারপুলের দিকে যাচ্ছিল। বাইক নিয়ে বিজয়নগর মোড়ে পৌঁছলে সেখানে কতর্ব্যরত এক ট্রাফিক পুলিশ তাদের থামানোর সঙ্কেত দেয়। সঙ্কেত পেয়ে সাংবাদিক সুমন তার বাইক থামান। পরে বাইকের পেছনে আরেকজন যাত্রী কেন নেয়া হয়েছে তা জানতে চায় ওই ট্রাফিক পুলিশ।

এসময় সুমন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শুভকে নামিয়ে ফকিরাপুলের দিকে রওয়ানা দিলে সেখানে থাকা অপর দুই পুলিশ সদস্য থামিয়ে সুমনের পরিচয়পত্র দেখতে চায়। সুমন তার পরিচয়পত্রটি বের করার সঙ্গে সঙ্গেই এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে টহলরত রমনা থানার ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্য দুজনকে পায়ের বুট ও হাতে থাকা বন্দুকের বাট দিয়ে বেদড়ক মারধর করতে থাকে।

এরপর সেখানে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা দুজনকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের ভ্যানে তুলে রমনা থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করে বিষয়টি কাউকে না জানানো শর্তে ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন এসআই মেহেদী হাসান।

পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নেতারা তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসেন।

মেডিকেল সেন্টারের কতর্ব্যরত চিকিৎসক নূর মুহাম্মদ জানান, দুজনের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন আছে এবং নাজমুলের মাথার একপাশ ফেটে গেছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক সানাউল হক সানী দোষী পুলিশদের শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান।

এদিকে এসআই মেহেদী হাসান সুমন মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘মটরসাইকেলে করে দুজন যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তাদের মারধর করলে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।’

তবে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ ঘটনার জন্য তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।

সূত্র: বাংলামেইল।