সিরাজুলের সাথে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব

রবিবার, ২৫/০১/২০১৫ @ ১১:০৪ অপরাহ্ণ

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

NY pressবিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রবীণ সাংবাদিক, ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য প্রফেসর সিরাজুল হকের সাথে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কর্মকর্তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ক্লাবের সভাপতি এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বার্তা সংস্থা ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল গত ১০ জানুয়ারী শনিবার অপরাহ্নে ম্যাহাটানাস্থ তার বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং খোঁজ খবর নেন। এসময় তাকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং তাকে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সদস্যপদ প্রদানের বিষয় অবহিত করা হয়।

প্রফেসর সিরাজুল হক প্রেসক্লাব কর্মকর্তা ও সদস্যদের কাছে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তার বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, বলেন সুখ-দুখের কথা। এসময় তিনি জাতীয় প্রেসক্লাব ভবন প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তার শিক্ষক প্রফেসর আনিসুজ্জামান, ড. মনিরুজ্জামান মিয়া, অধ্যাপক মনির চৌধুরী, ড. নিলিমা ইব্রাহীম, অধ্যাপক মোফাজ্জ হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক কামাল পাশা, ড. মুহাম্মদ আব্দুল হাই, ড. কাজী দীন মুহাম্মদ প্রমুখ সহ সাংবাদিক বন্ধু ও সহকর্মী আনোয়ার জাহিদ, আহমেদ হুমায়ুন, আতাউস সামাদ, ফাজলে রশীদ, ফওজুল করিম তারা, সৈয়দ দিদার বখ্্ত, সৈয়দ আব্দুল কাহহার, গিয়াস কামাল চৌধুরী প্রমুখকে।

দৈনিক আজাদ, দৈনিক বাংলা, দৈনিক জনপদ এবং ইরান দূতাবাসের মাসিক প্রকাশনা নিউজলেটার ও তেহরান রেডিওসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালনকারী প্রফেসর হক দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, সাংবাদিকতা নেশার পাশাপাশি পেশা। দেশের গণতন্ত্র আর জনগণের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

তিনি বলেন, স্কুল জীবনে ‘স্কুল ম্যাগাজিন’-এর সম্পাদনার মধ্য দিয়ে আমার সাংবাদিকতা শুরু। বাংলা শিল্প, সাহিত্য আর ভাষাকে ভালবেসে অনেকের বিরোধীতার মুখে ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করি। তারপর শুরু হয় সাংবাদিকতা জীবনের পাশাপাশি অধ্যাপনা আর অধ্যক্ষ্যের দায়িত্ব পালন।

তিনি বলেন, আমাদের সময়ে সাংবাদিকতা আজকের মতো এতো সহজ ছিলো না। ছিলো না আজকের মতো এতো বিত্ত-বৈভব। বেতনের টাকার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অফিসে বসে থাকতে হতো। পত্রিকা অফিসের সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে না পেরে ম্যানেজার পালিয়ে বেড়াতেন।

তিনি বলেন, আমি কাউকে ছোট করার জন্য বলছি না বা কোন কাজকে ছোট করে দেখছি না তবে আমি জানি আমাদের সময়ে প্রুফ রিডারদের কেউ কেউ আজ মিডিয়ার মালিক। যাকে দেখেছি একটি রিপোর্ট ভালোভাবে লিখতেও পারতেন না, তিনি আজ পত্রিকার সম্পাদক।

নতুন নতুন গ্রন্থ প্রকাশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে দেখেছি নিজের লেখার প্রুফ নিজেই দেখছেন। আর আজকের লেখকরা যাকে তাকে দিয়ে প্রুফ দেখিয়ে বই প্রকাশ করছেন। এতে বুঝাই যায় প্রকাশিত বইয়ের মান কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, উদ্ভট শিল্প-সংস্কৃতি নয়, ভালো শিল্প-সংস্কৃতি অবশ্যই সমাজের জন্য, দেশের জন্য কল্যাণকর।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলা উচিৎ, গালাগালি নয়, পরস্পরকে পরস্পর আক্রমণের ভাষায় নয়। যার জন্য দেশে রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গান্ধী-নেহরু, সোহরাওয়ার্দী-শেরে বাংলারা কখনো বিরোধী নেতাদের আক্রমন করে বক্তব্য দিতেন না। আর আমাদের দুই নেত্রী হাসিনা-খালেদার বক্তব্য রাজনৈতিক নয়, আক্রমনাতœক।

অর্ধশতাধিক গ্রন্থের লেখক ও অনুবাদক প্রফেসর সিরাজুল হক প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন সময় টিভি ও বাংলা নিউজ২৪.কম-এর ইউএস প্রতিনিধি শিহাব উদ্দীন কিসলু, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাপ্তাহিক দেশ অর্থনীতি সম্পাদক এবিএম সালেউদ্দীন, বাংলা পত্রিকা’র সহকারী সম্পাদক তমিজ উদ্্দীন লোদী, সাপ্তাহিক দেশবাংলা’র নির্বাহী সম্পাদক আলমগীর সরকার, ফিলাডেলফিয়া থেকে প্রকাশিতব্য মাসিক বাংলা নিউজ সম্পাদক শেখ খুরশান, টাইম টিভি’র আনোয়ার হোসেন বাবু ও নিউইয়র্ক সফররত ঢাকার সময় টিভি’র পরিচালন প্রধান আক্তার বাবু।

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর বৃহত্তর বরিশালের ভোলা জেলায় জন্মগ্রহণকারী প্রফেসর সিরাজুল হক ২০১১ সাল থেকে নিউইয়র্ক প্রবাসী। বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজী, আরবী, উর্দু ও ফার্সী ভাষায় পারদর্শী প্রফেসর সিরাজুল হক অধুনালুপ্ত দৈনিক জনপদ-এর নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আজাদ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ইরেজী ইয়ং পাকিস্তান ও মাসিক তাহজীব ও ইংরেজী ‘ওয়াল ফজর’ এবং নিউজ লেটার-এর সম্পাদক ছিলেন। সাংবাদিকতা করেছেন তেহরান টাইম ও তেহরান রেডিও-তে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি বিদেশ সফর ছাড়াও ব্যক্তিগত ও পেশাগত দায়িত্বপালনকালে ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, গ্রীস, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, লিবিয়া প্রভৃতি দেশ সফল করেন। তার মৌলিক গ্রন্থ রয়েছে ২০টি।

এছাড়াও রয়েছে একাধিক শিশুতোষ গ্রন্থ। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য। তিনি ম্যানহাটানে তার বড় কন্যা সাঈদা আখতার রেজভীন-এর বাসায় অবস্থান করছেন। তিনি নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সদস্য এবিএম সালেউদ্দীনের শশুর। তিনি কিডনী সংক্রান্ত জটিল রোগসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তিনি দুই কন্যা ও দুই পুত্রের জনক। তার জেষ্ঠ পুত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সূর্যসেন হলের হাউজ টিউটর। তার স্ত্রী মমতাজ হোসনে আরা ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি সকলেরদোয়া প্রার্থী।

সূত্র: ইউএনএ, নিউইয়র্ক।