গণধর্ষণ মামলার শুনানিতে মিডিয়ার প্রবেশাধিকার

রবিবার, ২৪/০৩/২০১৩ @ ১১:১৩ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক:
journalist pro.দিল্লি গণধর্ষণ মামলার শুনানির সময় মিডিয়ার উপস্থিতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি৷ রেজিস্টার্ড মিডিয়া সংস্থাগুলোর একজন করে প্রতিনিধি আদালত কক্ষে থাকতে পারবেন৷

দিল্লির ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে ১৬ ডিসেম্বরের গণধর্ষণ মামলার শুনানি চলছে প্রতিদিনের ভিত্তিতে৷ কিন্তু শুনানি চলেছে বন্ধদ্বার আদালত কক্ষে৷ নিষিদ্ধ ছিল মিডিয়ার প্রবেশাধিকার৷ বিচারের অগ্রগতি সম্পর্কে দেশবিদেশের মানুষ ছিল অন্ধকারে৷ তাই মিডিয়া সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে আদালতের কাছে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে প্রকাশ্য শুনানির আর্জি জানানো হলে গত শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার রায় দেন রক্ষাকবচ সাপেক্ষে৷

বলা হয়, রেজিস্টার্ড মিডিয়া সংস্থাগুলোর একজন করে প্রতিনিধি শুনানির সময় আদালতে থাকতে পারবেন৷ তবে ধর্ষিতা বা তার পরিবারের সদস্য কিংবা সাক্ষীদের নাম প্রকাশ করতে পারবেন না৷ মিডিয়া সংস্থাগুলির আইনজীবী এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, এই রায়ে একটা ভারসাম্য রয়েছে৷ একদিকে মিডিয়ার অধিকার অন্যদিকে ধর্ষিতা ও সাক্ষীদের সুরক্ষার অধিকার৷

গণধর্ষণ মামলায় দিল্লির বিশেষ আদালতে এখন বিচার চলছে পাঁচজন আসামির বদলে চারজনের বিরুদ্ধে৷ মূল আসামি দিল্লির তিহার জেলে থাকাকালীন আত্মহত্যা করে৷ ষষ্ঠ আসামি নাবালক বলে তার বিচার হচ্ছে জুভেনাইল কোর্টে৷ এ পর্যন্ত ৬০ জন সাক্ষীর বিবৃতি রেকর্ড করা হয়েছে রুদ্ধদ্বার আদালতে৷ তার মধ্যে একজন দিল্লি হাসপাতালের ডাক্তার, যিনি ধর্ষিতার অপারেশন করেছিলেন এবং আর একজন সিঙ্গাপুর হাসপাতালের ডাক্তার৷ সিঙ্গাপুর নিয়ে যাবার পর যার চিকিৎসাধীনে ধর্ষিতার মৃত্যু হয়৷ তার বিবৃতি রেকর্ড করা হয় ভিডিও লিঙ্কে৷

দুজন আসামি অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করেছে গত বৃহস্পতিবার৷ একজন চেয়েছে ১৫ দিনের জন্য জামিন৷ কারণ দেখিয়েছে জেলে আত্মহত্যাকারী আসামি সম্পর্কে তার ভাই, সেই ভাই-এর পারলৌকিক কাজে সে উপস্থিত থাকতে চায়৷ অপরজন কারণ দেখিয়েছে, সে স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র৷ জামিন নিয়ে সে পড়াশুনা করে পরীক্ষা দিতে চায়৷ জেলে থাকায় তার পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে৷

এদিকে শুক্রবার থেকে ধর্ষণ প্রতিরোধ বিলটি সংসদের উভয়সভায় পাশ হবার পর তা আইনে পরিণত হলো৷ আইনে ধর্ষণ বা নারী নিগ্রহের অপরাধে কড়া শাস্তির বিধান রয়েছে৷ তবে বর্তমানে যে অর্ডিন্যান্স বলবৎ আছে, তার মেয়াদ ২২ মার্চ শেষ হচ্ছে বলে বিল পাশ করার তাড়া ছিল৷ পরে এই আইন সম্পর্কে সংসদে আরো আলোচনা করা যেতে পারে এবং সংশোধনেরও সুযোগ আছে৷ তবে এই আইন ভবিষ্যতে সমাজকে প্রভাবিত করবে এবং নারী অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সহায়ক হবে, বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ সূত্র: ডিডব্লিউ