গণমাধ্যমের সিংহপুরুষরা হারিয়ে গেছেন

শনিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০১৫

:: আকাশ মো. জসিম ::

newsmediaএখন আর কেউ সাহস নিয়ে সত্য বলার অধিকার রাখেন না। গণমাধ্যমের সেই প্রতিশ্রুতিশীল, সাহসী, সৎ, নিষ্ঠাবান ও সিংহপুরুষরুপী মানুষগুলো একে একে হারিয়ে গেছেন। ২০১৪ সালে নিজের ভোটাধিকার হারিয়ে মানসিক যন্ত্রনা, রাষ্ট্রীয় উৎপীড়ন সার্বিক অব্যবস্থাপনার ওপর চরম মন খারাপ করে চলে গেলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এবি এম মুসা। এরপর মাহবুবুল আলম। এর আগে যেমন চলে গেলেন নির্মল সেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী ও আতাউস সামাদ প্রমূখ। হালে সাংবাদিকতায় মুরুব্বিয়ানা করার মতো বাকী আর কেউ রইল না। বর্তমানে প্রায় সবাই আত্মকেন্দ্রীক, ব্যস্ত রাজনীতি নিয়ে। কেউ কেউ গণমাধ্যমের পরিচয়বাহী হয়ে এক পেশে দুতিয়ালিক্রমে বারোটা বাজাচ্ছেন সাংবাদিকতা কিংবা গোটা দেশ এবং জাতির।

এখন আর দেশের অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, ভোটাধিকার হরন, পুলিশ কর্মকর্তার রাজনৈতিক বিবৃতি, দেখামাত্র গুলির বেআইনী আদেশ এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে কেউ সত্য বলার চেষ্টা করেন না কিংবা বলবেনও না। সংবাদপত্রের সেই চিরচেনা সাহসী মুখগুলো হারিয়ে যাওয়ার পর টেলিভিশনের টকশোর পর্দায় দেখি সাংবাদিক নামের যারাই কথা বলছেন, তারাই ডান-বাম তাকিয়ে কিংবা নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বলার চেষ্টা করছেন। যদি আবার পত্রিকা কিংবা চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। অনেকে দুইদিকেই সমহারে বলার চেষ্টা করছেন।

কেউ কেউ শাসককে খুশি রেখে সরকারের দোষ-ত্রুটি উহ্য রেখে বিরোধীদের শায়েস্তা কিংবা নাস্তানাবুদক্রমে পান্ডিত্য জাহিরের চেষ্টায় প্রাণান্তকর রয়েছেন। এখন আর কেউ সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে চান না। কেউ এখন আর বলতে চান না শেখ হাসিনার টেলিফোনে খালেদা জিয়া সংলাপে না আসার মানসিকতা মানা যায় না; আবার শেখ হাসিনা এটি সংবিধান রক্ষার নির্বাচন, পরে অতিদ্রুত সময়ে আরেকটি নির্বাচন দেয়ার ওয়াদা দিয়েও রক্ষা না করাও ঠিক হচ্ছে না।

তাঁরা মনে করেন, সত্য বললে যদি সরকার নাখোশ হয়! আবার অনেকের চেতনায় জাগে বিরোধীরাও তো ক্ষমতায় আসতে পারে, তখন আমাদের মতো চাটুকারদের যদি সুবিধা হারিয়ে যায়। অনেকে সৌভাগ্যের তিলকে নিজেকে কিছু ভাগ্যবান করে সরকারী দলকে তুষ্ট রাখতে মোসাহেবীয়ানা তো চিরাচরিত ও অনভিপ্রেতভাবে করে চলছেন।

এখন আর সাহস করে কোন সাংবাদিক নামের ন্যায়পরায়ণ ও নি:স্বার্থবান মানুষই বলার সাহস রাখেন না যে, থামুন, এবার গণতন্ত্রের পূর্ণ ঠিকানায় ফিরে যান। গণতন্ত্রের সাথে এভাবে আর হাসি তামশার পরিণাম ভালো হবে না।

সাংবাদিকতায় নেতৃর্ত্বধারী কিংবা অভিভাবক নামের জাতীয় পর্যায়ের যাদের কথাই বলি না কেন তাঁরা রাষ্ট্র, দেশ এবং জাতির জাতীয় স্বার্থে কিইবা অবদান রাখছেন! পেশাদার সাংবাদিকেরা মনে করেন, তাদের কেউ কেউ মহান সাংবাদিকতাকে অনেকটা বিব্রত ও পদদলিত করে একদিকে সরকারী চাকুরি; অন্যদিকে, সাংবাদিকতার নামে দুতিয়ালি করে এ পেশার তেরোটা আগেই বাজিয়ে দিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাগর-রুনির মামলায় প্রকৃত খুনিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অনেকে নিজের আখের গুছিয়েছেন। তবে, কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক অবশ্য মাঝে মধ্যে কিছু বলার চেষ্টা রাখছেন। তবুও, চির চেনা এবিএম মুসাদের আদর্শ ধারণ করে আমরা আশা রাখতে চাই গণমাধ্যম আরেকবার বলার চেষ্টা করবে। থামুন, সরকার ও বিরোধী দল। অনেক হয়েছে। গণতন্ত্রের সত্যিকার ঠিকানায় ফিরে আসুন।

লেখক: আকাশ মো: জসিম, সম্পাদক, দৈনিক দিশারী, নোয়াখালী।