রবিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ে বিকৃতি

বুধবার, অক্টোবর ৩, ২০১৮

ঢাকা: ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ শিরোনামের গ্রন্থে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান একটি কমিটি গঠন করতে অর্থসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ওই গ্রন্থে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি না ছাপানো ইতিহাস বিকৃতি উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সাতক্ষীরা সদরের বাসিন্দা ড. কাজী এরতেজা হাসান আজ রিট আবেদনটি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী অর্পণ চক্রবর্তী ও এ আর এম কামরুজ্জামান কাঁকন।

পরে এ বি এম আলতাফ হোসেন বলেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ওই গ্রন্থে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ইতিহাস বিকৃতি। এই কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হলে আদালত ওই নির্দেশসহ রুল দেন।

রুলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ নামের গ্রন্থে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত না করে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, নির্বাহী ব্যবস্থাপক এবং প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের আবদুল কালাম আজাদকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ওই গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ওঠার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তৈরি ও প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ২০১৩ সালের জুন মাসে। এ বিষয়ে তখন উপদেষ্টা কমিটি ও সম্পাদনা নামে দুটি কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি দুটি পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তের পর গ্রন্থটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি প্রকাশনার পরপরই এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যত্যয় পরিদৃষ্ট হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর গ্রন্থটির বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং গ্রন্থটি রিভিউয়ের জন্য একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেন।

সর্বশেষ