সাংবাদিকরাই একে অপরের জন্য হুমকি!

রবিবার, ৩০/১১/২০১৪ @ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

:: কামরুজ্জামান ::

Kamaruzzamanসাংবাদিক, সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পন বলা হয়। আমাদের সমাজের ভূলত্রুটি, অন্যায়, অবিচার, জুলুম এমনকি সমাজ ও জাতির কল্যানে যেসকল ভালো কাজগুলি হয় তা কোন না কোন মাধ্যমে তথ্যনির্ভরভাবে তুলে ধরাই সাংবাদিকদের কাজ। পেশা আর নেশা যেভাবেই বলি, আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত যে খারাপ বা অন্যায় কাজগুলোর মাধ্যমে যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয় তা তুলে ধরাই একজন সাংবাদিকের কাজ।

মফস্বলের সাংবাদিক হিসেবে আমিও সে চেষ্টাটিই করি।

কিন্তু রাজধানী থেকে মফস্বল পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের মধ্যে এতবেশী বিভেদ যে আমরা অনেক সময় নিজেরাই নিজেদের বলির পাঁঠা হয়ে যাই। সাংবাদিক সংগঠনের নেতা বনে অসাধু কিছু সংবাদকর্মী এ পেশাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে বাকী সাংবাদিকদেরকে সমাজের নিকট শুধু হেয় প্রতিপন্নই করেনা অনেক ক্ষেত্রে হুমকীর মুখেও ঠেলে দিচ্ছে।

আমি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মফস্বল সাংবাদিকতার সাথে দীর্ঘদিন জড়িত। আমার বন্ধু বা সহকর্মী যাই বলি, তাদের কেউ কেউ সকল রাজনৈতিক সরকারের আমলেই সাংবাদিক পরিচয়ে বেশ প্রভাব খাটাতে সক্ষম। সকালে ইউএনও সাহেবের সাথে তার চেম্বারে বসে চা পান করতে করতে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেওয়া, দুপুরে কোন রাজনৈতিক নেতার আমন্ত্রনে সাড়া দেওয়া, বিকালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চেম্বারে গিয়ে রং চা আর হালকা নাস্তা খেতে খেতে সহকর্মীদের বিষয়ে কান ভারী করা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু কিছু সংবাদিক সহকর্মীর।

উপজেলা প্রশাসন, থানা আর রাজনৈতিক নেতাদের গাড়িতে সারাক্ষণ বসে থাকলে, তাঁদের অন্যায় অত্যাচার, অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখার সাহস বা সামর্থ থাকে কোথায়? চক্ষু লজ্জা এবং স্বার্থ বলে একটা বিষয় আছে না?

যে ক’জন সাহস করে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশ করে তাদের জন্য সংবাদটি কাল হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রতিনিয়ত হাত পা ভেঙ্গে দেওয়া, এলাকা ত্যাগ করার হুমকির সাথে মামলার হুমকি দেয়। তাও খোদ কিছু কিছু সাংবাদিকদের প্রত্যক্ষ মদদে। এ ধরনের কথিত সাংবাদিকদের! যতদ্রুত প্রতিহত, প্রতিরোধ করা যায় সমাজের জন্য ততই মঙ্গল।

লেখক: কামরুজ্জামান
সংবাদকর্মী, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

সর্বশেষ