সাংবাদিকতা এবং নৈতিকতা

শুক্রবার, ০৭/১১/২০১৪ @ ৭:৩৫ অপরাহ্ণ

:: ইয়াকুব নবী ইমন ::

emonসাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। অস্বীকার করার উপায় নেই যে বর্তমান যুগে সংবাদপত্র বা সাংবাদিক বিহীন সমাজ কল্পনা করাই কঠিন। সমাজে সাংবাদিকদের অনেক নাম, খ্যাতি, যস রয়েছে। সাংবাদিকদের রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্রতা ও স্বক্রিয়তা। তারা নিজেদের গুণে সমাজের অন্য ১০ জনকে গুণান্বিত করে। সাংবাদিকদের অনুসরণ করে অনেকে। কারণ সাংবাদিকরা সব সময় নৈতিকতার ভেতর থাকার চেষ্টা করেন, এটাই বাস্তব সত্য কথা। কিন্তু এই সময়ে এসে আমরা সাংবাদিকদের একি হাল দেখছি। কে ভূয়া আর কে প্রকৃত সাংবাদিক তা বুঝাই মুশকিল।

প্রিয় পাঠক, সাংবাদিকদের নিয়ে কোন গবেষনা করার ইচ্ছা আমার নেই। কারণ আমি নিজে যেখানে সাংবাদিকতা করছি সেখানে এই ইস্যুতে গবেষনা না করে বর্তমানে সাংবাদিকরা কেমন নৈতিকতার মধ্যে রয়েছেন তার কিঞ্চিত আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

কথায় বলে, ”উপরে থু থু ফেললে নিজের গায়ে পড়ে” এই কঠিন সত্য কথাটি জেনেও আজ আমি এমন নিবন্ধ লিখতে বসতে বাধ্য হলাম নামমাত্র কয়েকজন সাংবাদিকের কিছু অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে। বিগত মাস তিনেক আগে আমি অনলাইনে সার্চ করে, আগে লেখালেখি করা নিজের কিছু লেখা অনুসন্ধান করছিলাম। হঠাৎ আমার চোখের সামনে নোয়াখালী অনলাইন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠনে আমার নাম দেখতে পাই। বিস্তারিত পড়ে দেখি সেই কমিটিতে আমি নির্বাহী সদস্য।

চৌমুহনী শহরের এক কথিত অনলাইন পত্রিকার নোয়াখালী প্রতিনিধি দাবিদার এক ব্যক্তি এই সংগঠনের সভাপতি। তিনি আমার নাম ব্যবহার করেছে অথচ আমাকে সরাসরি বলাতো দুরে থাক মোবাইল করেও জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি ওই সাংবাদিক। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তিনি এই কমিটিতে যাদের নাম ব্যবহার করেছেন তারা কেউই জানেন না বিষয়টি। আশ্চর্যের বিষয় হলো উক্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিজেও জানতেন না যে ওই কমিটিতে তাকে রাখা হয়েছে।

তাছাড়া আমি বাংলাদেশের আলোচিত অনলাইন বার্তা সংস্থা ও পত্রিকা শীর্ষ নিউজের নোয়াখালী প্রতিনিধি হলেও কখনো এমনটি করার কল্পনাও করিনি। অথচ নামকাওয়াস্ত একটি অনলাইন পত্রিকার কাজ করে এই প্রতারক নিজেকে নোয়াখালী অনলাইন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

কিছু দিন আগে আমার গ্রামের এলাকার এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এক সাংবাদিকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমাকে মোবাইল করে বললেন, ’ভাই আমি ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাই। আমাকে কোথায় যেতে হবে বলেন’।

কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ’ওই সাংবাদিক আমার কাছে ২ হাজার টাকা চায়, না দিলে আমি দূর্নীতি করি বলে রিপোর্ট করবে পত্রিকায়’। আমি ওনাকে বললাম ’আপনি প্রেস ক্লাবে একটি অভিযোগ দিয়ে দেন’।

ভদ্রলোক প্রেসক্লাবে আসার আগেই ঢাকার একটি অখ্যাত পত্রিকায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করে ওই সাংবাদিক। প্রশ্ন হল-সাংবাদিককে টাকা দিলে দূর্নীতি জায়েজ, আর টাকা না দিলে দূর্নীতি হারাম। এখানে কোথায় রইল সাংবাদিকের নীতি নৈতিকতা।

এতো গেল দুইটি উদাহরণ-নীতি নৈতিকতার প্রশ্নের মধ্যে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে সাংবাদিক সমাজে। আপনি অনেক বড় দূর্নীতি করেছেন, অনিয়ম করেছেন কোন ভয় নেই স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে পারলেই কেল্লাপাতে। এমন বদ্ধমূল ধারণা বর্তমান পাঠক সমাজেও প্রতিষ্ঠিত। এর পেছনে দায়ী কথিত সাংবাদিক নামধারী কুলাঙ্গাররা। যারা এই পবিত্র পেশাটি দিন দিন করে তুলছে অপবিত্র আর কুলষিত।

এখন কোন দূর্নীতি হলে, অনিয়ম হলে সাংবাদিকরা লেখেন না। নিজের ভাগটি পাওয়ার জন্য উম্মুখ থাকেন। ভাগ না পেলেই নিউজ লেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। কিন্তু এমনতো হওয়ার কথা নয়। কেন এই পেশায় এমন হচ্ছে, এ থেকে উত্তরণের উপায় কি তা নিয়ে কেউ ভাবছে না। ফলে দিন দিন তলানিতে যাচ্ছে এই পেশার মান-সম্মান।

এখন আলোচিত কোন হত্যাকান্ড ঘটলেও সাংবাদিকরা মোটর সাইকেলের তেলের খরচের জন্য ঘটনাস্থলে ঘুরে বেড়ান। আমার মাঝে মধ্যে মন চায় এদের হাত থেকে কলমটি নিয়ে ভিক্ষার পাত্র ধরিয়ে দিই। এমন অনৈতিক কর্মকান্ডে না জড়িয়ে ভিক্ষা করে খাওয়াই এদের জন্য শ্রেয়।

তবে এতো কিছুর পরও বলতে চাই-এই পেশায় যারা নীতি নৈতিকতা নিয়ে চলেন তারা ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছেন। সমাজ বিনির্মানে কাজ করে যাচ্ছে অকাতরে। আমরা এখনো অন্ধকার শেষে আলো দেখার আশা করি। কারণ খারাপরা এক সময় নর্দমান ক্রিটে পরিণত হয়ে নিক্ষিপ্ত হবে সমাজের আস্তাকুড়ে। এই প্রত্যাশায়।

লেখক: ইয়াকুব নবী ইমন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক জাতীয় নিশান, নোয়াখালী।
[email protected]

সর্বশেষ