প্রতিবাদ নেই, তাই লিখতে পারিনা

বৃহস্পতিবার, ৩০/১০/২০১৪ @ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

:: আকাশ মো. জসিম ::

newsmediaপ্রসঙ্গক্রমে বলি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের মধ্যে ১৪জনই নেই। বাকীদের মধ্যে ৪২জনই বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাতিলের দাবিতে একাট্রা। এ কথাটি লিখার সাহস নেই কোন সাংবাদিকদের। ভয়, যদি এমপি মাইন্ড করেন। ছেলেপেলে দিয়ে একটা কিছু করে বসেন। তাই বলি, আমরা সবাই ক্রমেই দালাল হয়ে যাচ্ছি। ক্ষমতাসীন এক এমপির গুণকীর্তন ছাড়া এ জেলার বেশির ভাগ প্রতিনিধির পাঠনো খবরে থাকেনা জেলার বিপর্যস্ত রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যাধিসহ সার্বিক পরিস্থিতির খবরাখবর।

নোয়াখালীতে এখন আর সত্য খবর পাঠানোর সাংবাদিকতা নেই বললেই চলে। বেশির ভাগই করছে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিকতা। অথচ, মাত্র ক’বছর আগেও এমন অবস্থা ছিলনা। জীবদ্দশায় দৈনিক জনকণ্ঠের কামাল উদ্দিন আহমেদ সে সময়ের দাপটশালী সাংসদ ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শাহজাহান’র বিরুদ্ধে সত্য, সময়োপযোগী ও সাহসী খবর প্রকাশ করে যে সুনাম, সুখ্যাতি ও সাংবাদিকতার প্রতিকৃতি দেখিয়েছেন সে সাংবাদিকতা আজ আর নেই। যেদিন সে সময়ের সাংসদের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশিত হয়েছে সেদিনও কামাল উদ্দিন আহমেদকে শহরে বুকফুলিয়ে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। কেউ “টু” শব্দ করার সাহস দেখায়নি। আমাদের জানা মতে, সে খবরের প্রতিবাদে শহরে বিএনপির নেতা, কর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করেছে। বক্তৃতা করেছেন। তবে, তাকে অন্যকিছু করার দু:সাহস করেনি। তিনিও বলেছেন, প্রকাশিত খবরের সকল দায়-দায়িত্ব আমারই। আজ আমরা নিজের পত্রিকায় সত্য খবর দিতে পারিনা। দিলেও পরবর্তীতে, নিজেকে ক্ষমা প্রার্থনা করি।

বিগত ১/১১ সরকারের সময়কালে সেনাক্যাম্পের দায়িত্বশীল এক মেজর সাহেব, সাংবাদিকদের চা-চক্রের এক আয়োজনে ডেকে নিয়ে কথায় কথায় হাঁকডাক দিয়ে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে উল্টোপাল্টা লিখবেন না। আমাদের এক হাতে মিষ্টি, আরেক হাতে থাকে লাঠি। সে সময়ে আমরা কেউ কিছু বলার সাহসিকতা দেখাতে না পারলেও কামাল উদ্দিন আহমেদ বলে ওঠলেন, ল্যাংগুয়েজ, প্লিজ। তিনি এক পর্যায়ে, দাঁড়িয়ে গেলেন। সেখানেই সরি বলে নিজেকে সামলে নিলেন মেজর সাহেব।

তবে, আরো সত্য কথা হলো স্বভাবতই, আমাদের কিছু সাংবাদিকদের মধ্যে আজো সত্য খবর লিখার মানসিকতা আছে । কিন্ত, জেলা শহরের সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছে আন্ত:কোন্দল ও দলীয়প্রীতি। প্রায়ই দলবাজি ছাড়া চলেন না। হয়তোবা নানান সুবিধার জন্যে আজ সাংবাদিকতা বিপন্ন। কোন কারণে স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে লিখা ছাপাতেই অন্যরা উস্কানী দিয়ে বলবেন, সাইজ করে দেন। বেটা বেশি বেড়ে গেছে। আবার, সেসব ছাপোষারা সুযোগ পেলে স্থানীয় এমপির গাও টিপে দেন বলে জনসমাজে প্রচার রয়েছে।

অবশ্য, নোয়াখালীতে সাংবাদিকতায় অধ:পতনের জন্য স্থানীয় ও ঢাকাস্থ সম্পাদকেরাও কম বেশি দায়ি বলে মনে করি। এখানে দৈনিক যুগান্তরের মতো পত্রিকায় স্টাফ রিপোটার পদে কাজ করছেন অস্ত্র মামলায় ১৭বছরের সাজাপ্রাপ্ত লোক। জনশ্র“তি রয়েছে, তিনি যুগান্তরে নিয়োগ পাওয়ার পর তাও আবার ক্ষমতাসীনদের নজরে আসতে! দলীয় টেন্ডাবাজি নিয়ে ২/১টি খবর প্রকাশ করে লাঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে, ক্ষমতাসীনরা তাকে মোটা অংকের সুবিধা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেন। এছাড়া, রাঘববোয়াল জাতীয় সাংবাদিকরা তো বিভিন্ন সরকারী দপ্তর হতে শুরু করে কোন কোন নেতা হতে নিয়মিত মাসোয়ারা ভোগ করার কথা অনেকেরই জানা রয়েছে।

অবশ্য, এদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও গলদকর্ম। এরা কোন কোন এমপি বা দলীয় নেতার সুপারিশে নিয়োগ নিয়ে থাকেন। আবার, অনেক সাজাপ্রাপ্ত লোকও হয়েছেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। তাই স্বাভাবিকভাবে অন্যের দোষ লিখতে গেলে নিজেরটাও সামনে এসে যায়। এ শ্রেনীর সাংবাদিকরা সঙ্গতকারণে অনেক কথা লিখতে নারাজ।

আমার জানা মতে আরেক সাহসী সাংবাদিক দৈনিক মানবজমিনের ষ্টাফ রিপোটার নাছির উদ্দিন মাহমুদ বাদল। হালে কিছুটা রাখডাক করেই সাংবাদিকতা করছেন। বলছেন, ভাই সবই তো জানেন। ক্ষমতাসীনদের সব কিছু নিরবে সহ্য করে চলি। প্রতিবাদের কেউ নেই। উল্টো আরো ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা অনেকের। তাই এখন আর লিখতে পারিনা।

লেখক: আকাশ মো. জসিম, সম্পাদক, দৈনিক দিশারী, নোয়াখালী।

সর্বশেষ