অনলাইনে অলস ব্যক্তির স্থান নেই

বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৩

সরদার ফরিদ আহমদ::

Sarder-Faridপ্রশ্ন : বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ কেমন? সরদার ফরিদ : অনলাইন সংবাদপত্রকে ফিউচার মিডিয়া বলা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে আমেরিকায় একটি জরিপ হয়।
ওই জরিপে দেখা গেছে, মানুষ খবর জানতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে অনলাইন নিউজপেপার অথবা প্রিন্টেট নিউজপেপারের অনলাইন ভার্সন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিভিন্ন ব্লগ। তিন নাম্বারে রেডিও’র স্থান। চার নাম্বারে টেলিভিশন। আর প্রিন্ট মিডিয়ার অবস্থান পাঁচ নাম্বার।
আপনি হয়তো জানেন, ইউরোপ-আমেরিকার অসংখ্য বিখ্যাত সংবাদপত্রের সার্কুলেশন কমে গেছে। এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। এসব পত্রিকা এখন তাদের অনলাইন এডিশনের কলেবর বাড়াচ্ছে বা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রতিদিন ইন্টারনেট ইউজার বাড়ছে। বিদেশে একটি প্রজন্মই গড়ে উঠেছে কম্পিউটারকে কেন্দ্র করে। তাদের জীবনের একটি বড় অংশই কম্পিউটারকেন্দ্রিক। আমাদের দেশেও রাজধানী এবং কয়েকটি বড় শহরে এ ধরনের প্রজন্ম গড়ে উঠছে। তাছাড়া কর্পোরেট কালচারের বিকাশ ঘটছে। আর এটি প্রযুক্তিনির্ভর। ফলে অনলাইনের সামনে সুদিন। এটির বিস্তার ঘটতেই থাকবে। আসলে প্রযুক্তিই অনলাইন মিডিয়ার বিকাশে প্রধান ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এর বিকাশের মাত্রা কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে তা ভাবতেও শিহরিত হতে হয়।
নিউজ মিডিয়ার প্রাণ হলো বিজ্ঞাপন- হোক সেটি প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক। অনলাইনে বিজ্ঞাপন আসছে। দিন দিন বাড়ছে। কারণ অনলাইনে বিজ্ঞাপনের বিশাল সুবিধা। কাজ দেয় বেশি। ছোট্ট একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাঠককে একটি প্রতিষ্ঠান নিজের বিশাল জগতে ঢুকিয়ে দিতে পারে। কেননা অনলাইন বিজ্ঞাপনে প্রতিষ্ঠানের ওয়েব লিংক দেয়া থাকে। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার সাথে সাথে পাঠক বিজ্ঞাপনদাতার প্রতিষ্ঠান জগতে ঢুকে পড়ে।
বিষয়টি বিজ্ঞাপনদাতারাও এখন জানেন। ফলে তারা অনলাইনে বিজ্ঞাপনে আগ্রহী হবেন, এটাই স্বাভাবিক। আসলে আগ্রহী হতেই হবে। তা না হলে ওই প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

প্রশ্ন : অনলাইন সংবাদপত্রে কাজ করতে হলে কী যোগ্যতা থাকা দরকার?
সরদার ফরিদ : এটাও যেহেতু সাংবাদিকতা, তাই বলাই বাহুল্য, এখানে মেধা এবং পরিশ্রমই প্রধান যোগ্যতা হবে। অলস ব্যক্তির স্থান অনলাইনে নেই, তিনি যতই মেধাবী হোন না কেন। আর কম্পিউটার ভালো জানতেই হবে। কম্পোজের স্পিড ভালো না হলে চলবে না। ইংরেজি না জানলে অনলাইনে না আসাই ভালো। আর শুদ্ধ বাংলা লিখতে না জানলে অনলাইন থেকে দূরে থাকাই ভালো। কারণ অনলাইনে প্রুফ সেকশন রাখার সুযোগ নেই। ইংরেজি অনলাইনে অবশ্য বানান নিয়ে জটিলতায় পড়তে হয় না। কম্পিউটারেই ঠিক করা যায়। কিন্তু বাংলাতে সেটি সম্ভব নয়। আর এটা তো সবারই জানা, একজন সাংবাদিককে পড়াশোনাটা অব্যাহত রাখতে হয়। এটিই তাকে জানার ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে।

প্রশ্ন : এখানে ফ্রিল্যান্সার বা কন্ট্রিবিউটরদের কাজ করার সুযোগ আছে কী?
সরদার ফরিদ : আছে। তবে ওই মিডিয়া হাউসের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্পাদক কনট্রিবিউটর ব্যবহার করবেন কি না তার ওপরই বিষয়টি নির্ভর করে।

প্রশ্ন : নতুন যারা এ সেক্টরে আসতে চান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
সরদার ফরিদ : প্রযুক্তিতে দক্ষতা থাকা চাই। ভাষার ওপর দখল না থাকলেই নয়। শুরুতে বলেছি, পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতেই হবে। সবচেয়ে বড় কথা, কাজের প্রতি ভালোলাগা-ভালোবাসা থাকতে হবে। কারণ সাংবাদিকতা আর দশটা পেশার চাইতে একেবারেই ভিন্ন। এখানে ভালোলাগা-ভালোবাসা না থাকলে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না।