বেতার নিয়ে কারবার

বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৩

জিয়াউর রহমান চৌধুরী::

rj‘সুপ্রিয় শ্রোতা, রাত ১০টার সংবাদে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি…’ অথবা ‘আপনারা শুনছেন রেডিও…এফএম…. এখন আপনাদের জন্য আমরা পরিবেশন করব … ’ রেডিওর এ ধরনের কথা শুনতে শুনতে যাঁরা নিজেরাও একই রকম দু-একটি বাক্য বলে ফেলেন বা নিজেদের ওই জায়গাটিতে চিন্তা করেন, তাঁদের এবং রেডিওতে কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য একটি সুখবর আছে। খবরটি হলো রেডিওতে চাকরির সুযোগ।
বর্তমান সরকার প্রথম দফায় সাতটিসহ এ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে মোট আটটি এফএম রেডিওর নিবন্ধন দিয়েছে। জানিয়েছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবা রানী সাহা।
অনুমোদন পাওয়া নতুন রেডিওগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারে এসেছে ঢাকা এফএম ও পিপলস রেডিও। বাকি ছয়টির মধ্যে রেডিও স্বাধীন ও সিটি এফএম ইতিমধ্যেই লোকবল নিয়োগ শুরু করেছে। লোক চেয়ে অনলাইন চাকরির পোর্টালে বিজ্ঞাপন দিয়েছে রেডিও স্বাধীন। এ দুটি রেডিও চলতি বছরের মধ্যেই সম্প্রচারে আসবে। অন্যগুলো শিগগিরই কাজ শুরু করবে। রেডিওগুলো হলো: এশিয়ান রেডিও, রেডিও ভূমি ও টিউন এফএম। বেশ কয়েকটি এফএম রেডিও একসঙ্গে নিবন্ধন পাওয়ায় এই খাতে বিপুলসংখ্যক লোকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব রেডিওতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রয়োজন পড়ছে নতুনদেরও। আগ্রহ থাকলে আপনিও যোগ দিতে পারেন সৃজনশীল এই পেশায়।

কাজটা শুধুই আরজেদের নয়
অনেকেই রেডিওর কর্মী বলতে শুধু আরজে (রেডিও জকি), প্রতিবেদক আর উপস্থাপকদেরই বোঝেন। কিন্তু এঁদের কণ্ঠস্বরটা প্রতিদিন শুনলেও মাইক্রোফোনের পেছনে কাজ করেন আরও অসংখ্য লোক। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি এফএম রেডিও এবিসি রেডিওর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সানাউল্লাহ বলেন, এফএম রেডিওগুলোতে আরজে, উপস্থাপক ও প্রতিবেদক ছাড়া অন্যান্য পদেও কাজের সুযোগ আছে। রেডিওটা যেহেতু একটি সম্প্রচার মাধ্যম, তাই এখানে আরজে-উপস্থাপকের পাশাপাশি অনুষ্ঠান ও কারিগরি খাতে লোক প্রয়োজন হয়।
তাই সম্প্রচারে আসার অপেক্ষায় থাকা নতুন রেডিওগুলোতে আরজে আর উপস্থাপকদের পাশাপাশি ট্রান্সমিটার প্রকৌশলী, ইলেকট্রিশিয়ান প্রকৌশলী, সাউন্ড প্রকৌশলী, আইটি প্রকৌশলী, বার্তাকক্ষ সম্পাদক, অ্যাড শিডিউলার, আউটডোর ব্রডকাস্টার এবং সংবাদ ও অনুষ্ঠান উভয় বিভাগের জন্য প্রযোজক পদে প্রচুর লোক নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মানবসম্পদ, বিক্রয়, বিপণন, প্রশাসন ও আর্কাইভের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতেও লোক লাগবে। এ বিষয়ে পিপলস রেডিওর অনুষ্ঠান-প্রধান মাহমুদুল আমিন বলেন, ‘রেডিওতে কাজ করতে আগ্রহীদের সবাই আরজে বা উপস্থাপনার কাজ করতে চান। কিন্তু অনেকেরই সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলার গুণটি থাকে না। গুছিয়ে কথা বলতে না পারলেও তাঁদের হয়তো প্রযোজনা বা অন্য কোনো কারিগরি বিভাগে কাজ করার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা আছে। তাই তাঁরা অন্য বিভাগগুলোর জন্য নিজেদের তৈরি করতে পারেন।

আছে শিক্ষানবিশদের সুযোগ
নতুন এসব রেডিওতে অভিজ্ঞ ও পড়াশোনা শেষ করেছেন—এঁদের পাশাপাশি শিক্ষানবিশদের জন্যও কাজ করার সুযোগ আছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা এ চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও অবশ্য কোনো বাধা নেই। প্রতিটি এফএম রেডিও স্টেশনে বিভিন্ন পদে দক্ষ লোকবলের সঙ্গে প্রতিটি বিভাগেই শিক্ষানবিশদেরও কাজের সুযোগ আছে। কারণ, এতগুলো রেডিওতে কাজ করার মতো অভিজ্ঞ লোক দেশে নেই। সেজন্য কিছু অভিজ্ঞ লোকের সঙ্গে নতুন ও শিক্ষানবিশদের নিয়েই কাজ করতে হয় রেডিও স্টেশনগুলোতে। বললেন সানাউল্লাহ। বিশেষ করে আউটডোর ব্রডকাস্টার, আরজে ও উপস্থাপনায় শিক্ষানবিশদের কাজের সুযোগটা বেশি।

পেরোতে হবে পরীক্ষা
রেডিওতে চাকরির ক্ষেত্রে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নির্বাচন করা হয়। লিখিত, মৌখিক ও কণ্ঠস্বর—এ তিনটি বিভাগে পরীক্ষা দিতে হবে আগ্রহী ব্যক্তিদের। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় মূলত দেশ ও দেশের বাইরের সমসাময়িক ঘটনাবলি, সাধারণ জ্ঞান এবং যে বিভাগে কাজ করতে আগ্রহী, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। আর কণ্ঠস্বর পরীক্ষায় দেখা হবে কণ্ঠটা প্রচারোপযোগী কি না। লিখিত, মৌখিক আর কণ্ঠস্বর—এ তিনটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে বেশি নম্বর প্রাপ্তরাই কাজের সুযোগ পাবেন।

বাড়তি যোগ্যতাও থাকা চাই
পড়াশোনা, সাধারণ জ্ঞান আর সমসাময়িক বিশ্ব—এখানেই শেষ নয়। একাডেমিক বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কিছু সৃজনশীল ধারণাও থাকতে হবে। এ বিষয়ে সানাউল্লাহ বলেন, রেডিওতে কাজ করতে গেলে পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাটাই মুখ্য নয়। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়েও ন্যূনতম জ্ঞান থাকা দরকার। তবে এ ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক জানাটাই বেশি দরকার। যেমন—যিনি সংগীতের অনুষ্ঠান নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁকে সংগীতশিল্পী, সংগীতের ধরন সম্পর্কে জানতে হবে। দেশ-বিদেশের সংগীতের খোঁজখবর রাখতে হবে। আবার যিনি খেলাধুলার অনুষ্ঠানে কাজ করতে চান, তাঁকে সব ধরনের খেলার খবরাখবরের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। মাহমুদুল আমিন মনে করেন, আরজে বা উপস্থাপনার ক্ষেত্রে বাচনভঙ্গি ও উচ্চারণটা ভালো হতে হবে। শিক্ষাবস্থায় যাঁরা আবৃত্তি, বিতর্ক বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁদেরই রেডিওতে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রেডিও স্বাধীনের স্টেশন ইনচার্জ (অপারেশন ও টেকনিক্যাল) মীর রাব্বি মনে করেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকাটাও জরুরি।

যোগাযোগ করতে পারেন
সিটি এফএম ও রেডিও স্বাধীনে যোগাযোগের ঠিকানা:রেডিও স্বাধীন, বাড়ি-৬৩, রোড-৭/ডি, ব্লক-৮, বনানী, ঢাকা। আর সিটি এফএমে জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে পারেন [email protected]এ ঠিকানায়।