সংবাদপত্রের দ্বিতীয় সংস্করণ: দ্বিতীয় চিন্তা

মঙ্গলবার, ১৯/০৩/২০১৩ @ ১২:৫২ অপরাহ্ণ

হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী::

sadekস্থান-কাল-পাত্র ঈষৎ পরিবর্তিত, তবে ঘটনাটি সত্য। বেশ ক’বছর আগে দূরবর্তী এলাকার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ঢাকার একটি নামি দৈনিকে বেশ ভালোই কাভারেজ দেয়া হলো। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাগজ পৌঁছাতেও বিলম্ব হলো না। রাজধানীতে বসবাসরত সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী জেনে গেল, ‘অমুক’ কাগজে আজ তাদের এলাকার ‘তমুক’ ঘটনার খবর ছাপা হয়েছে। কৌতূহলী ‘রাজধানীপ্রবাসী’ এলাকাবাসী কাগজটি কিনতে ছুটলো। পত্রিকার স্টলে কাগজটি সহজে মিললো, কিন্তু কাগজ খুলে খবরটি আর কোথাও মেলে না।

প্রতি পৃষ্ঠা, প্রতি কলাম তন্ন তন্ন করে খোঁজা হলো। না, নেই। শেষে আবার এলাকায় টেলিফোন- কোন কাগজ, কত পৃষ্ঠায়। আবার খোঁজাখুঁজি। না, পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকাবাসী অবশেষে পত্রিকা থেকে পুরো খবর পড়ে শোনায় ‘প্রবাসী’ স্বজনকে। প্রবাসী কি তৃপ্ত হন? না, হন না। বহুদিন নিজ এলাকা থেকে দূরে, রাজধানী ঢাকায় ‘পরবাস’ করছেন তিনি। পত্রিকার পাতায় নিজ গ্রাম বা উপজেলার খবর দেখতে ফেলে আসা মাটির গন্ধ পান। কিন্তু আজ কী হলো, মোবাইল ফোনের অপর প্রান্তে সবাই দেখতে ও পড়তে পাচ্ছে, ইনি বা এরা ঢাকায় খবরটি কাগজের পাতায় খুঁজে পাচ্ছেন না কেন?

পাচ্ছেন না কারণ, পত্রিকাটির ‘সংস্করণ’ হয়েছে। সেই সংস্করণের ধাক্কায় সংশ্লিষ্ট খবরটি একই রকম আরো অনেক খবরের সঙ্গে কাগজের বাইরে ছিটকে পড়েছে। গীতিকার লিখেছেন ও গায়ক গেয়েছেন, জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে। এ খবরটি অগোচরে ছিল না, গোচরেই আনা হয়েছিল। কিন্তু সবার নয়, কারো কারো। খবরটি মূলত তারা সবাই পড়তে পেরেছে, যারা ঘটনাটি জানে অথবা ঘটনার সঙ্গে কোনো-না-কোনোভাবে জড়িত ছিল, অর্থাৎ এককথায় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।

আর যাদের প্রয়োজন ছিল জানার, যারা বিশেষ করে ওই খবরটি পড়ার জন্য সেদিনের কাগজটি কিনেছিল, তারা অর্থাৎ এলাকা থেকে দূরে অবস্থানকারী এলাকাবাসী, তারা বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া দূরের-কাছের সব পাঠক, তথ্য জানা যাদের অধিকার, তারাও বঞ্চিত বা প্রতারিত হয়েছে। ভুললে চলবে না, একজন পাঠক একটি দৈনিক পত্রিকার দামে সেদিন ওই পত্রিকায় প্রকাশিত সব খবর পড়ার ও ছবি দেখার অধিকারটি কিনে নেন। প্রকাশিত কোনো খবর বা ছবিই তার কাছ থেকে সরিয়ে রাখা অনৈতিক ও অন্যায়।

তবুও এই কাজ বা অকাজটি হচ্ছে। নিয়ম করে এ কাজটি করে চলেছে ঢাকার দৈনিকগুলো। কেন করছে এ বিষয়ে তাদের একটি অভিন্ন ব্যাখ্যা এরকম: ‘অমুক’ কাগজ করছে, আমরা না করলে তো ‘মার’ খেয়ে যাব। ব্যাখ্যাটিকে একেবারে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। বাজার অর্থনীতির যুগ, লাগামহীন নীতিনৈতিকতাহীন হৃদয়হীন ইঁদুর দৌড়ের যুগ এসেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী এগিয়ে চলেছে। সুতরাং আমাকে যে-কোনোভাবেই হোক তার সঙ্গে পাল্লা দিতে হবে- এটাই যুগধর্ম।

সংবাদপত্র এই যুগধর্মকে তো উপেক্ষা করতে পারে না। আর সংবাদপত্র এখন আর কোনো মিশন নয়, এটি এখন শিল্প। বিশাল পুঁজি বিনিয়োগ হয়েছে, অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সুতরাং পুঁজি তার স্বাভাবিক পথেই চলবে, তাতে নীতি, নৈতিকতা কি হৃদয়বৃত্তি বা জনকল্যাণকামিতার বারোটা বা আরো বেশি বেজে যাক, কী যায়-আসে!

এ ‘যুক্তি’ও উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না। প্রশ্ন হলো…।

প্রশ্নের আগে একটি ছোট্ট গল্প বলে নিই: একবার ক্লাসে এক উদ্যমী শিক্ষক (হায়, এই ধরনের শিক্ষক বাংলাদেশে এখন বিপন্ন প্রজাতি) অনেকক্ষণ ধরে ছাত্রদের জ্যামিতি বোঝালেন যে, একটি সরলরেখার ওপর আরেকটি সরলরেখা দণ্ডায়মান হলে অর্থাৎ দাঁড়ালে দু’টি সমকোণ উৎপন্ন হয়। অনেকক্ষণ অনেকভাবে বুঝিয়ে ছাত্রদের কাছে শিক্ষক জানতে চাইলেন যে, তারা বিষয়টি বুঝেছে কি না।

শিক্ষার্থীরা সমস্বরে জানালো যে, বুঝতে তাদের বাকি নেই। শিক্ষক তবু আশ্বস্ত হতে পারেন না। বলেন, “বলো তোমাদের কারো কোনো প্রশ্ন আছে? প্রশ্ন থাকলে বলো!” এক ছাত্র জানালো, একটি সরলরেখার ওপর আরেকটি সরলরেখা দণ্ডায়মান হলে দু’টি সমকোণ যে উৎপন্ন হয়, সে বিষয়ে তার আর কোনো সংশয় নেই। তবে একটা বিষয় তার বোধগম্য হচ্ছে না।

বিষয়টি হলো, একটা সরলরেখা অনর্থক আরেকটি সরলরেখার ওপর দাঁড়াতে গেল কেন?

‘গাধা’ (পড়ুন দিব্যজ্ঞানী) ছাত্রটি ঠিকই ধরেছিল যে, শায়িত সরলরেখার ওপর দাঁড়ালে দু’টি সমকোণ উৎপন্ন হওয়ার সত্য প্রমাণ করাটা দ্বিতীয় সরলরেখার উদ্দেশ্য ছিল না, তার প্রয়োজন ছিল দু’টি সমকোণ উৎপাদন। অর্থাৎ প্রয়োজনের জন্য কাজটা করা হয়নি, কাজটা করা হবে এই জন্যই প্রয়োজনটা তৈরি করা হয়েছে। (গণিতজ্ঞ ও গণিতপ্রেমীরা অপরাধ নেবেন না, গাধাদের ভাবনাই এরকম)।

বর্তমান নিবন্ধকারও সেই গাধা ছাত্রটির মতোই ভাবে এবং ভাবনাটি মিডিয়াজ্ঞানীদের মগজে ঢুকিয়ে দেয়ার দুরাশায় কলম হাতে নিয়েছে যে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় সংবাদপত্রের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সংস্করণ করার কোনো যুক্তি আছে কি না? নাকি সংস্করণকে যুক্তিসিদ্ধ করার জন্য এখন যুক্তি তৈরি করা হচ্ছে।

পত্রিকার একাধিকার সংস্করণ অযৌক্তিক- এ কথা প্রমাণ করা মোটেই এ লেখার উদ্দেশ্য নয়, বরং সংস্করণকে পাঠকের প্রয়োজন ও অধিকারের সঙ্গে আরো কীভাবে মিলিয়ে দেয়া যায়, সে বিষয়ক চিন্তাকে উস্কে দেয়াই এর লক্ষ্য। মিডিয়া চিন্তাবিদরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিলে সংবাদপত্রের সংস্করণ প্রক্রিয়াটি আরো গ্রহণযোগ্য রূপ পাবে বলে বিশ্বাস করা যায়।

একটু পেছনে ফিরে যাই। সংস্করণের পেছনে সংবাদপত্রগুলোর প্রতিযোগিতার কথা বলেছিলাম। এ প্রতিযোগিতার মধ্যে বাণিজ্য ও প্রচারস্বার্থ যেমন রয়েছে, তেমনি পাঠককে সর্বশেষ তথ্য অবহিত করানোর ইতিবাচক চিন্তাও আছে এ কথাটি অস্বীকার করলে অবিচার করা হবে। প্রশ্ন হলো, সর্বশেষ তথ্য কোনটি এবং সেটা কখন ও কীভাবে পরিবেশন করা হবে।

‘সর্বশেষ তথ্য’ পরিবেশনের এই ধারণাটিও, অন্য অনেক কিছুর মতো, এসেছে পশ্চিমা দুনিয়া থেকে। এবং আমরাও ‘যাহা পশ্চিমা তাহাই প্রগতিশীল’ বলে উদ্বাহু নৃত্যসহযোগে ধারণাটি উদরস্থ করেছি। ভাবিনি, এই খাদ্য আমি গ্রহণ করবো কি না, করলে কতটুকু, কীভাবে এবং কোন সময়। অর্থাৎ মূল ধারণাটির সঙ্গে আমরা আমাদের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতাকে মিলিয়ে নিইনি।

আমাদের দেশ দরিদ্র, মানুষ দরিদ্রতর। কিন্তু তবু তাদের ‘বাড়ি’ দুইটা, গ্রামের বাড়ি আর শহরের বাসা। তাদের স্বজনসংখ্যাও অনেক। নিজ গ্রাম এবং আশপাশের দশ গ্রামের সব মানুষ তাদের স্বজন। আবার শহরের মহল্লাবাসীও পর নয়। যে মানুষটি অনেক দিন ধরে শহরে থাকে, ঈদে-চাঁদে গ্রামে যায়, তারও কিন্তু নাড়িটি পোঁতা আছে গ্রামের মাটিতে।

এই নাড়ির টানে লম্বা ছুটি পেলেই যেমন শত বাধা পেরিয়ে গ্রামে ছুটে যায়, তেমনি বছরের অন্যান্য সময়ও পত্রিকার পাতায় খুঁটিয়ে খুঁটে দেখে তার ‘দ্যাশের’ কোনো খবর আছে কি না। দেখে উল্লসিত না বিমর্ষ হলো, সেকথা পরে। পাঠক হিসেবে খবরটি কিন্তু চায় সে। সংবাদপত্র শিল্পের লোকজন মানুন আর না-ই মানুন, বাংলাদেশে সংবাদপত্রসংশ্লিষ্ট একটা বড় সামাজিক বাস্তবতা এটা। পত্রিকার ‘সংস্করণ’ করার সময় এই বাস্তবতা মাথায় না রাখলে পাঠকদের বঞ্চিত বা প্রতারিত হওয়ার অভিযোগটি উঠতে থাকবে।

অবাধ তথ্যপ্রবাহের কথা বলে মানবপ্রজাতির মস্তিষ্কে প্রতি মুহূর্তে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে কোটি কোটি তথ্য। সংবাদপত্র, রেডিও, টিভি এবং সর্বশেষ ইন্টারনেটের সাহায্যে মানুষ পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে অপর প্রান্তের পিনপতনের শব্দটিও শুনে নিচ্ছে। নিঃসন্দেহে বিরাট অগ্রগতি। প্রশ্ন হলো, এই অগ্রগতির নাম করে এবং তার সুযোগ নিয়ে মানুষের মগজে প্রতিদিন যে কোটি কোটি তথ্য ঢোকানো হচ্ছে, তার সবই কি তথ্য? তথ্যের সংজ্ঞা কী? তথ্যমাত্রই কি প্রয়োজনীয় বা মগজে ধারণ অনিবার্য?

সংবাদপত্রগুলো সংস্করণ করার সময় এসব প্রশ্ন মাথায় রাখলে ভালো হয় বলেই আমাদের বিবেচনাবোধ বলে। আমার বিশ্বাস, সংবাদপত্রে সমাজের সব ছবি ফুটে ওঠা জরুরি। কেননা, সংবাদপত্র হচ্ছে সময়ের দর্পণ। আমাদের সময়টি কেমন ছিল, কেমন ছিল এই সময়ের সমাজ রাজনীতি অর্থনীতি প্রকৃতি পরিবেশ আইনশৃঙ্খলা, আজি হতে শতবর্ষ পরের কোনো গবেষক আজকের সংবাদপত্র পড়েই তা জানতে পারবেন। সুতরাং যারা বলেন, সংবাদপত্রে অমুক ধরনের খবর বেশি দেয়া ভালো নয় বা তমুক ধরনের খবরকে কাভারেজ বেশি দেয়া উচিত, তাদের সুরুচি ও নান্দনিক বোধের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলি, সংবাদপত্রের সব ধরনের খবরই ছাপা হওয়া উচিত। এমনকি তা যদি হয় ছিঁচকে চুরিরও। কেননা, অনাগত দিনের গবেষক এ থেকেই আমাদের কালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্বন্ধে ধারণা পেতে পারবেন।

প্রশ্ন উঠতে পারে, সব ধরনের খবর পত্রিকায় ধরাতে গেলে তো পত্রিকা ‘সংস্করণ’ লাগবেই। আমাদের ‘আপত্তি’ও সেখানে। আমরা বলতে চাই, সব ধরনের খবর দেবো এবং আপাতদৃষ্টিতে ‘ছোটখাটো’ খবরকেও সংস্করণের স্বার্থে পত্রিকার পাতা থেকে উচ্ছেদ করবো না- এরকম কোনো পন্থা অবলম্বন করা যায় কি না। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক দিনই সংস্করণ প্রকাশ করা হবে কি না, সেটিও ভাবা দরকার।

সংস্করণের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, টেকনাফ বা পঞ্চগড়ের একটি দু’টি ছোট খবর ফেলে দিয়ে সেখানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সংস্করণে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, রামপুরা বা অন্যান্য এলাকার কোনো খবর ছাপা হলে তাতে পত্রিকার পাঠক বাড়ে, গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন করা যেতে পারে, টেকনাফ, পঞ্চগড় বা রাজধানীর বাইরের ‘ছোট’ খবরের পাঠক কি রাজধানীতে নেই? নিশ্চয়ই আছে (নিবন্ধের শুরুর সত্য ঘটনাটি দ্রষ্টব্য)। তাহলে ওই খবরটি ফেলে দিলে তাদের বঞ্চিত করা হয় না কি? দ্বিতীয়ত, ঢাকার বাইরের খবরটি ফেলে দিয়ে সেখানে স্থানীয় একটি খবর ছাপালে পত্রিকার ‘পাঠক ও গ্রহণযোগ্যতা’ কি আসলে বাড়ে?

ঢাকায় অবস্থানরত যে গ্রামীণ মানুষটি নিজ এলাকার খবর পাওয়ার আশায় পত্রিকা কিনে সেটা না পেয়ে সপ্তাহেশেষে তা ছুঁড়ে ফেলে অন্য পত্রিকার দিকে ঝুঁকলেন, তিনি কি পাঠক বাড়ালেন না কমালেন? আর ‘গ্রহণযোগ্যতা’র অর্থ কী? সব শ্রেণীর পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে তাকে কি গ্রহণযোগ্যতা বলা যায়?

এসব বিতর্কের হাত ধরে যে প্রশ্নটি সামনে চলে আসে তা হলো, তাহলে কি পত্রিকার একাধিক সংস্করণের প্রয়োজন নেই? আমরা বলবো, অবশ্যই আছে। একাধিক সংস্করণ পত্রিকাগুলো অবশ্যই করবে। তবে কখন করবে, কীভাবে করবে সেটাই প্রশ্ন। যেমন ধরা যাক, কুখ্যাত ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকার জননন্দিত দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে ভোর রাতে। রাজধানীর পত্রিকাগুলো ওই খবর নিয়ে দ্বিতীয়, এমনকি তৃতীয় সংস্করণও প্রকাশ করে। সেদিন ওই খবর জাতীয় সংস্করণে ছাপানো সম্ভব ছিল না। কিন্তু যদি দ্বিতীয়-তৃতীয় সংস্করণও করা না হতো, তাহলে রাজধানীবাসীকে বঞ্চিত করা হতো। কাজেই একাধিক সংস্করণ প্রকাশ সেদিন ছিল সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু এমন মুহূর্ত জাতির জীবনে ক’টি আসে?

আসে না, তাই বলে এমন মুহূতের্র আশায় বসে থেকে জীবন পার করলেও সংবাদপত্রের চলবে না। যুগের চাহিদা, সময়ের প্রয়োজন এ বড় দায়। তাই একাধিক সংস্করণ তাকে প্রকাশ করতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে, পাঠক যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত বা প্রতারিত না হন। কীভাবে এ দুয়ের সমন্বয় করা যায়, তা ঠিক করবেন মিডিয়া জগতের মানুষেরা এবং মিডিয়াবিশেষজ্ঞগণ। বর্তমান নিবন্ধকার তাদের চিন্তার সূত্র ধরিয়ে দিতে কয়েকটি বিষয়ের অবতারণা করছে।

ক. খুব বড় কোনো ঘটনা না-থাকলে সেদিন দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করা হবে কি না, ভেবে দেখা যেতে পারে। কেননা, দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের একটা খরচের দিকও আছে।

খ. যে রাতে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হলো না, সে রাতের ছোটখাট ঘটনাগুলো যেন ‘পুরনো বা বাসি হয়ে গেছে’ এই হাস্যকর অজুহাতে পরবর্তী দিনের পত্রিকা থেকে বাদ না যায়। সেগুলো অবশ্যই ছাপাতে হবে। কেননা, রাজধানীর কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো অপঘটনার শিকার ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের খবরটি তার এলাকাবাসী ও স্বজনদের কাছে কখনো ‘বাসি’ হবে না। এসব স্বজন এলাকাবাসীও হতে পারেন, অথবা বাইরের।

গ. রাজধানীর ছোটখাট খবরে রাজধানীর বাইরে দূরপল্লীর লোকজনের আগ্রহ নেই- এ ভাবনাটা ভুল। রাজধানীর যানজট, দুর্ঘটনা, খুনখারাবি, নাটক-সিনেমা, বিনোদন, পার্ক, মাদক ব্যবসা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর থেকে রাজধানীর একটা মানসচিত্র এঁকে নেন পল্লীবাসী। তাদের চোখে রাজধানী এরকমই।

ঘ. দ্বিতীয় বা তৃতীয় সংস্করণ করা হলে স্বাভাবিক কারণে প্রথম মুদ্রণের কিছু খবর বাদ যাবে। কাজেই পরদিন দ্বিতীয় ও তৃতীয় মুদ্রণে ওই বাদ যাওয়া খবর (প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জনসহ) অবশ্যই ছাপার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পাঠক বঞ্চিত বা প্রতারিত না হন।

হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী: সাংবাদিক।

ই-মেইল : [email protected]