অনলাইন মিডিয়ার জয়জয়কার

মঙ্গলবার, ১৯/০৩/২০১৩ @ ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক:
Online_newspaperবিশ্বে এখন অনলাইনের জয়জয়কার চলছে। সর্বত্র অনলাইনমুখী। আর এই অনলাইন ব্যাবহারে বিশ্ব যেন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।

ক্রমেই অনলাইনের দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মানুষ। দাপটের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো। আর ধ্বসে পড়ছে প্রিন্ট মিডিয়া। একের পর এক বন্ধ হয়ে গিয়ে অনলাইন করে নিচ্ছে বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা পত্রিকা।

এরই মধ্যে নিউজ উইক, টাইম, নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দাপুটে প্রিন্ট সংবাদমাধ্যম অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পথ বেছে নিয়েছেন। একে সামাজিক পাঠক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকেরা। বাড়ছে ফেসবুক, গুগুল, টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে নিজেকে ফুটিয়ে তোলা কিংবা পরস্পরের সঙ্গে পারিবারিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলাপচারিতার সহজতর পদ্ধতি।

ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকাবার্গ বলেছেন, ফেসবুক একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন সংবাদমাধ্যমেরই চেহারা নেবে। তবে এর লেখক আর পাঠক হবেন ফেসবুক গ্রাহকেরা। এ সময়ে ছবি আর ভিডিওর বিনিময়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাই এটি নতুন ধারার সংবাদমাধ্যম হবে। যেখানে ই-কনটেন্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এ সময়ে ফেসবুকে বন্ধু এবং পরিবারের স্বজনেরা নিজেদের মধ্যে তথ্য, ছবি আর ভিডিও বিনিময়ে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন। শুধু সময় নয়, আগ্রহ এ খাতেই বেশি। এখানে অনলাইন বিজ্ঞাপনী প্রচার ও প্রসার দুটোই বাড়ছে। এখানে সামাজিক ব্যবসার নতুন মডেলও তৈরি করছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম।

এ ছাড়াও অনলাইনে মিউজিক আর খেলার খবর দারুণ জনপ্রিয় হচ্ছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো আসলে সামাজিক যোগাযোগ আর তথ্য বিনিময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠছে। ইন্টারনেট এখন শুধু ডেস্কটপে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়েছে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন আর ট্যাবের খুদে গন্ডিতে। এসব কিছুকে চলমান তথ্যমাধ্যম বলা হচ্ছে। ফলে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জনপ্রিতায় চলে আসছে শীর্ষে।

ওদিকে, পিউ রিসার্চ সেন্টারের ইন্টারনেট অ্যান্ড আমেরিকান লাইফ প্রজেক্টের গবেষণায় উঠে এসেছে ফেসবুকে ৬১ ভাগ ভোক্তা এখন একঘেয়েমি আর জীবনের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য এবং খবরের প্রতি একবারেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। অনলাইন পাঠকেরা

এখন জীবন ঘনিষ্ট সংবাদ, তথ্য আর ছবির প্রতি বিশেষ আগ্রহী। এ মুহুর্তে সামাজিক গণমাধ্যমে নিয়মিত পাঠকের সংখা ১০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে, অনলাইনে প্রকাশিত রিপোর্টগুলো আর্কাইভ করে রাখার ব্যবস্থা থাকায় রিপোর্টের স্থায়িত্ব অনেক বেশি, ফলে তা যে কোনো সময় দেখা যায়। অন্য যে কোনো মিডিয়ার (প্রিন্ট, রেডিও ও টিভি) চেয়ে এটা খুঁজে বের করা অনেক সহজ।

অনলাইন সাংবাদিকতা একটি ইন্টার-অ্যাকটিভ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পাঠকের মতামত জানা ও পাঠককে নিজের মতামত দ্বারা প্রভাবিত করার সুযোগ বিদ্যমান।

এখানে একটি লেখার সঙ্গে একই বিষয়ের অন্যান্য লিংক প্রদান করা যায়। এ কারনে পাঠক খুব সহজেই একই বিষয়ে অন্যান্য লেখা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারে। একজন অনলাইন সাংবাদিক তার স্টোরিকে বিভিন্ন তথ্যে সমৃদ্ধ করে প্রকাশ করতে পারেন।

আবার প্রিন্ট মিডিয়ায় একবার প্রকাশিত হয়ে গেলে তা আর সংশোধন করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু অনলাইনে এ ধরনের সমস্যা নেই। এ জগতের সাংবাদিকরা ঘটনা ঘটার সঙ্গেই তা আপডেট করে দিতে পারেন। আবার সংশোধনও করতে পারেন।