মফস্বল সাংবাদিকতা কি পুলিশ বধ করার জন্য?

শুক্রবার, ১৫/০৩/২০১৩ @ ৯:২২ অপরাহ্ণ

হাসান ইমাম রাসেল:
mofossol journalমফস্বল সাংবাদিকতা এখন পকেট ভরার নতুন রাস্তা এবং অবৈধ কাজকে বৈধতা দেয়ার এক নতুন পন্দি। দরুন ট্রাফিকরা ডিউটি দেন রাস্তায় কেউ কি অবৈধ গাড়ি চালাচ্ছে কিংবা চুরি করে কোন গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে কিনা ,গাড়িটির কগজ পত্র ঠিক আছে কিনা ,এসব দেখতে গিয়ে তিনিও ড্রাইভারের কাছ থেকে ঘুষ নেন । এটা দেখে ফেলে সাংবাদিক দেখলেই বিপদ এক হাজার নিলে তাকে দিতে হবে ৫০০ টাকা।
মানুষ অন্যায় থেকে বাচার জন্য আশ্র নেয় পুলিশের কাছে। ধরে নেন রহিম মিয়া অন্যায় ভাবে আঘাত করলো করিম মিয়াকে সে বিচার পাওয়ার আশায় থানায় গিয়ে একটি মামলা দায়ের করলো। পুলিশের কাজ হলো বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ট বিচার করা । কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায় অন্য নিয়ম ।
যে মামলা করবে সে পুলিশকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য টাকা দিতে হবে নিম্নে ৫০০০ না হয় তার চাইতে বেশি।এক পক্ষের তদন্ত শেষ হলে পুলিশ ভাই আসামীর কাছে ফোন করে বলবেন আসামী সাহেব উনার কাছে চলে আসার জন্য। উনাকে গ্রেফতার না করার জন্য চাদা নিলেন ১০,০০০ কিংবা তার উপরে। এটা যখন কোন সাংবাদিক জানলেন তখন তিনি পুলিশকে জিঙ্গেস করলেন কি ব্যাপার ভাই আপনি নাকি মামলার বাদী ,বিবাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমি আপনার বিরুদ্ধে নিউজ করবো।এইতো সেরেছে বেচারা পুলিশ ভয় পেয়ে তাকে জামাই আদর করে বাসায় নিলেন এবং ভালো ভালো খাবার খাইয়ে হাতে টাকা ধরিয়ে দিলেন ৫০০।
এভাবেই সাংবাদিকতা চলে অযোগ্য ,মূর্খ সাংবাদিকদের। নিজের নামটিও যদি ভালো করে না লিখতে পারে তবু সে একজন সাংবাদিক হতে পারে।হয়ে গেলে সেরেছে এখান থেকে কেউ আর তাকে সরাতে পারবেনা।তেমনি সাংবাদিক মফস্বলে ছেয়ে গেছে। কথনও পত্রিকা বিক্রি করত সে এখন সাংবাদিক। আবার টাইপের দোকানে কাজ করত সে সাংবাদিক। ষ্টুডিওতে কাজ করত এখন সাংবাদিক এমন কি এক সময় মাদক বিক্রি করত সেও এখন সাংবাদিক। বই দোকানদার,কাপড় দোকানদার, ভূমি দস্যূ সবই সাংবাদিক।
প্রাইভেট চ্যানেলে কিংবা পত্রিকায় যদি কেউ স্থানীয় প্রতিনিধি থাকে তখন তার দিকে সবার চোখ থাকে সর্বক্ষন। এই বুঝি কাউকে টকিয়ে নিলো। অফিসে বসে সম্পাদক,বার্তা সম্পাদক স্টাফরা মনে করেন স্থানীয়ে প্রতিনিধি মানুষের কাছ থেকে ভুড়ি ভুড়ি টাকা নিচ্ছে । কিন্তু সততার সাথে যারা সাংবাদিকতা করে তাদের জুতার উপরিভাগ ভালো থাকলেও নিচের দিকে মাটি উটে যায় । একটি জুতা কেনার টাকা পকেটে থাকেনা। কিন্তু যারা বাটপারি করে মহৎ পেশাকে নিয়ে তারা ঠিকই অর্থ উপার্জন করছে এবং পকেট ভারি করছে।
এরকম সততা আর বাটপারি দুয়ে মিলে কি করে মফস্বল সাংবাদিকতা করা যায়। মূলেই যদি মিথ্যা লেগে থাকে তাহলে বাকিরা কি করবে।এদিকে কিছু সস্তা দামের পত্রিকা যোগ্যতা না দেখেই প্রতিনিধি নিয়োগ করে যার কারনে হচ্ছে বড় সমস্যা । বড় বড় অপরাধ করে ৫০০ টাকায় কেনা সাংবাদিক কার্ড দেখায় বলে আমি সাংবাদিক। তাই সম্পাদকদের কেও একটু সচেতন হতে হবে না হলে একদিন আবুল মার্কা এই সাংবাদিকদের কারনে পত্রিকাতো যাবে হয়তো সম্পাদকও থাকবেন শ্রীগরে।
লেখক: সাধারন সম্পাদক, প্রেস ক্লাব, কোম্পানীগঞ্জ