পুলিশের নাটকের কবলে সাংবাদিক : গ্রেফতার, রিমান্ড, জেল অত:পর কিছু কথা

শুক্রবার, ১৫/০৩/২০১৩ @ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ

হেফাজুল করিম রকিব ::
nbসাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নাজেহাল হওয়া যেন এখন সাধারণ ঘটনা। সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের আগ্রাসী আচরণ দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে।

পুলিশসহ আন্দোলনকারী ও আন্দোলন বিরোধীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সাংবাদিকরা মনে হচ্ছে যেন ভিন্নগ্রহের মানুষ। প্রতিদিন সাংবাদিকরা নির্যাতন, হয়রানীসহ বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে। গত শুক্রবার শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সংবাদ সংগ্রহ করার সময় নতুন বার্তার স্টাফ রিপোর্টার ইমদাদুল হকসহ মুস্তাফিজকে আটক করে ডিবি পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই । অনেক নাটকের পর শনিবার রাতে ইমদাদকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে মুস্তাফিজকে পুরানো একটি ঠুনকো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় এবং দুই রিমান্ডে নেয়া হয় ।বধুবার আবার পুলিশের আবেদনে নতুন বার্তা ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার কাজী মুস্তাফিজুর রহমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর মুখ্য আদালত বুধবার এ নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তার জামিন আবেদনও নাকচ হয়।

এর আগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দায়ের করা একটি পুরানো মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। শাহবাগ থানার এসআই আবদুর রব রোববার মুস্তাফিজকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সাইফুর রহমান দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার মুস্তাফিজকে ফের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। অন্যদিকে মুস্তাফিজের জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। আদালত উভয় আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মুস্তাফিজের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, “যে মামলায় মুস্তাফিজকে জড়ানো হয়েছে তা খুবই ঠুনকো। আমরা আশা করেছিলাম, তাকে জামিন দেয়া হবে। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত জামিন না দিয়ে তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”

মুস্তাফিজের পক্ষে শুনানিতে আরো অংশ নেন অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান।

————– মামলাটি তদন্তের জন্য শাহবাগ থানার এস আই আবদুর রউফ পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা হুবহু তুলে দেয়া হলো:

‘গত ২২ ফেব্রুয়ারি বেলা অনুমান ১৫.১০ ঘটিকার সময় শাহবাগ থানাধীন একুশে হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও গণজাগরণ মঞ্চের দিকে মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল বোমা সজ্জিত হইয়া বেআইনিভাবে আসিতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ বাধা দিলে আসামিরা সরকার ও পুলিশ সম্পর্ক নানাবিধ উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়া হত্যার উদ্দেশ্য ইট পাটকেল ও ককটেল বোমা নিক্ষেপ করিয়া সরকারি কাজে বাধাদান করে এবং মারপিট করিয়া জখম করে। আসামিরা রাস্তায় চলাচলরত কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগ করে। এই আসামি বর্ণিত ঘটনার সহিত জড়িত মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে, তদন্তকালে আরো জানা যায় যে, এই আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে আনিয়া ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হইলে সূত্রে বর্ণিত মামলার তথ্যসহ পলাতক আসামিদের সন্ধান পূর্বক গ্রেফতারের সম্ভাবনা আছে বিধায় উক্ত আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে আনিয়া ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’————

———— অথচ সেদিনের ঘটনার বিবরণে জানা যায় , শুক্রবার বিকেল চারটা ৫০ মিনিটে গণজাগরণ মঞ্চের কাছাকাছি দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর প্রত্যক্ষদর্শীরা বলতে থাকেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের পাঁচতলা থেকে দুটি ককটেল ছুড়ে মারা হয়েছে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা ওই ভবনের পাঁচতলায় ছুটে যায়। তাদের সঙ্গে নতুন বার্তা ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার কাজী মুস্তাফিজ সেখানে যান। তিনি সেখান থেকে মোবাইল ফোনে নতুন বার্তা ডটকমের অফিসে নিউজ দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলায় যারা গিয়েছিলেন, তাদের পুলিশ আটক করে। সাংবাদিক পরিচয় দেয়া এবং আইডি কার্ড দেখানোর পরও কাজী মুস্তাফিজকে বের হতে দেয়া হয়নি।

পরে রাত সোয়া আটটার দিকে কাজী মুস্তাফিজকে খুঁজতে নতুন বার্তা ডটকমের আরেক স্টাফ রিপোর্টার ইমদাদুল হক বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে যান। পুলিশ তাকেও সেখান থেকে আটক করে। এর পরপরই তাদের দুইজনকে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। শনিবার রাতে ডিবি পুলিশ ইমদাদকে ছেড়ে দিয়ে মুস্তাফিজকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে। ———————

উপরে এস আই আবদুর রউফের রিমান্ড আবেদন পড়লে মনে হবে সাংবাদিক মুস্তাফিজ যেন বড় কোন দূর্ধষ সন্ত্রাসী। এইভাবে পুলিশ নামধারী মানুষগুলো সমাজকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে । মুস্তাফিজের মতো কত সাংবাদিককে প্রতিদিন এরকম ঘটনার স্বীকার হতে হয় তা লিখে শেষ করা করা সম্ভব নয় ।

সকল সাংবাদিকদের বলবো এদের বিরুদ্ধে লিখুন। কোনমতেই মাথা নত করবেন না। না হলে মুস্তাফিজের মতো তরুন সাংবাদিকদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়ে জাতিকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেবে । এখনও কি আমরা রাজনীতি নামের কম্বলের নিচে ঘুমিয়ে থাকব ?

হেফাজুল করিম রকিব

(বার্তা সম্পাদক ) ইউকেবিডি নিউজ, সাপ্তাহিক বাংলা নিউজ