নাঈমুলের ওপর বোমা হামলা : তদন্ত চলছে, গ্রেপ্তার নেই

বুধবার, মার্চ ১৩, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক:
Nayeemবিশিষ্ট সাংবাদিক ও আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে বুধবার বেলা এগারোটার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তার মাইক্রোবাসটি থেকে সাত ধরণের আলামত সংগ্রহ করেছে।

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতর থেকে বোমার স্প্রিন্টার, কাচের টুকরা, পাথরের টুকরা, টিনের টুকরা, বোমায় ব্যবহৃত স্কচটেপের অংশ বিশেষ এবং গান পাউডার আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেন। এ সময় কাফরুল থানা পুলিশের একটি টিমও সঙ্গে ছিল।

এর আগে মঙ্গলবার গোয়েন্দা পুলিশ ও কাফরুল থানা পুলিশ দুই দফায় শাহীন হলের নিরাপত্তাকর্মী ও আশপাশের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞসাবাদ করে।

কাফরুল থানার ওসি তদন্ত আতাউর রহমান বলেন, ‘বোমা হামলার ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে ওই এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার বিভিন্ন স্তরের সন্ত্রাসীদের টার্গেট করে তদন্ত করা হচ্ছে।’

ওই থানার এসআই ইফতেখার বলেন, ‘ঘটনাটি মনে হয় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে কোনো মহল ঘটিয়ে থাকতে পারে।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘হামলার ঘটনাস্থলটি সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত। সেখানে আগে কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিংস ঘটনা ঘটলেও ওই স্থানে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম।’ বোমা হামলার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, গত বছর ডিসেম্বর মাসে জামায়াতে ইসলামীর হরতালের আগের রাতে সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানের বাসায় পার্কিং করা গাড়িতে উপর্যুপরি বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এর বেশ কিছুদিন পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার কুনিপাড়াস্থ আমাদের অর্থনীতির ছাপাখানার সামনেও কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়া ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মামুন পরিচয়ে নাঈমুল ইসলাম খানের মোবাইলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে হুমকি দেয়া হয়েছিল। না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় মামুন পরিচয়দানকারী দুর্বৃত্ত। ২০১২ সালেও শীর্ষ সন্ত্রাসী পরিচয়ে একইভাবে মোবাইলে হুমকি দেয়া হয়েছিল। সকল ঘটনাই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হলেও ঘটনায় জড়িতদের কাউকে আটক করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাতে শাহীন হলের সামনের রাস্তায় গাড়িতে বোমা হামলার ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। কারণ বিয়ের দাওয়াত খেয়ে বের হবার পর রাস্তায় আরো যানবাহন থাকলেও সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হয়নি। গাড়ির দুই পাশ থেকে শুধু মাঝখানে (যেখানে নাঈমুল ইসলাম খান স্ত্রীসহ ছিলেন) বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিকে টার্গেট করেই হামলা চালানো হয় এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার পরিকল্পনার মিশনও হতে পারে বলে সূত্রটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

গত সোমবার রাতে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছাকাছি শাহিন হলে একটি বিয়ের দাওয়াত থেকে বাসায় ফেরার পথে নাঈমুল ইসলাম খানের মাইক্রোবাসে বোম হামলা চালানো হয়। এতে তিনি স্ত্রী নাসিমা খান মন্টি ও গাড়িতে থাকা তার এক বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক ডা. জাহের আহত হন।

গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আনন্দ রেস্টুরেন্টের নিরাপত্তারক্ষী রেজাউল ইসলাম জানান, সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে একটি মাইক্রোবাস (যে গাড়িতে স্ত্রীসহ ছিলেন নাঈমুল ইসলাম খান) মহাখালী ওভারব্রিজের দিকে যেতে দেখেন তিনি। এ সময় আনন্দ রেস্টুরেন্টের সামনে তিন যুবক দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের অদুরে দাঁড়িয়ে ছিল এক যুবক ও এক যুবতী। পরে মাইক্রোবাসটি সামনে এগোতে থাকলে ওই গাড়ি লক্ষ্য করে প্রথমে বাফওয়া শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে একটি ককটেল ছোঁড়া হয়। সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে আবারো একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও পরেরটি গাড়ির গ্লাসে গিয়ে আঘাত হানে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ককটেল হামলার মিশনে আসা ৭ জন যুবক। এদের মধ্যে তিনজন রাস্তার বিপরীত দিকে শাহীনবাগের দিকে দৌড়ে চলে যায়। বাকিরা ঘটনাস্থলের কাছেই বাফওয়া শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থাকা একটি কালো রংয়ের পাজেরো গাড়িতে উঠে চলে যায়।

রেজাউল জানান, ওই যুবকদের আগে কখনো দেখেননি তিনি।

ঘটনার সময় দায়িত্বরত শাহীন হলের নিরাপত্তাকর্মী তরিকুল ইসলাম জানান, সোমবার রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল হলে। ওই সময় তার সঙ্গে আলাউদ্দিন ও মনসুর নামের দু’জন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে ছিলেন। ওই রাতে অনুষ্ঠানে পাজোরো গাড়ি নিয়ে কোন অতিথি আসেননি। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিল মোট ১৩৮টি গাড়ি। এরমধ্যে প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা, টেক্সিক্যাব ও মাইক্রোবাস ছিল।
তরিকুল বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পান তিনি। এ সময় অনেক গাড়ি অনুষ্ঠানস্থল থেকে রাস্তায় বের হচ্ছিল। ককটেল বিস্ফোরণের পর কয়েকজন মহিলা চিৎকার করে হলের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তিনি অন্যান্য অতিথিদের গাড়ি রাস্তায় নামতে বাধা দেন এবং হলের গেট বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেলে আবারো অতিথিদের গাড়ি রাস্তায় যেতে দেন তিনি। তবে ককটেল নিক্ষেপকারীদের কাউকে চেনেন না বলে জানান তিনি।

শাহীন হলের পাশে বাফওয়া শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাকর্মী সুমন জানিয়েছেন, ককটেল বিস্ফোরণের সময় তাদের মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। ওই মার্কেটে টোকেনের মাধ্যমে সকল যানবাহ প্রবেশের নিয়ম রয়েছে। তাদের মার্কেটে ওই রাতে কোন পাজেরো গাড়ি আসেনি বলেও জানান তিনি।
-বাংলামেইল