পুলিশি হামলায় আহত কালের কণ্ঠ ফটোসাংবাদিক তরু

শনিবার, ০২/০৩/২০১৩ @ ১০:০১ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক:
রাজধানীতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের ফটো সাংবাদিক নাভিদ ইশতিয়াক তরু।

এছাড়া তাকে মারধরের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হয়েছেন ফোকাস বাংলার ফটোসাংবাদিকসহ বেসরকারি একটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদক।
Naveed-Toru-
এদিকে, আরেকটি টিভি চ্যানেলের এক প্রতিবেদককে যাত্রাবাড়ী থানায় আটকে রাখা হয়েছে। অপরদিকে, পুলিশি হামলায় বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আদিত্য আরাফাত আহত হয়েছেন।

এবিষয়ে কালের কণ্ঠের ফটোসাংবাদিক নাভিদ ইশতিয়াক তরু বাংলানিউজকে বলেন, “আমার পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে বেদম মারপিট করে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)।

তিনি বলেন, “মীর হাজিরবাগে শনিবার সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবিরের হামলা, ভাঙচুর এবং জ্বালাও পোড়াওয়ের ফুটেজ ধারণ করতে গিয়ে পুলিশ প্রথমে বেসরকারি এক টিভির প্রতিবেদককে পুলিশ মারধর করে গাড়িতে তুলতে যায়। এসময় প্রথমে আমি ঘটনাটি দেখতে পাই। দ্রুত একটি ছবি তুলে ফেলি। আরও ছবি তুলতে গেলে ওই এএসআই আমাকে আর ছবি তুলতে নিষেধ করেন।

এর পর আমি আর ছবি না তুলে মোটরসাইকেলে করে চলে যাচ্ছিলাম। এর পর সেই এএসআই (লাইফ জ্যাকেট পরায় তার নাম জানা যায়নি) আমাকে ডাক দেন। এর পর তিনি আমাকে ধরে ‘শুয়োরের বাচ্চা’ বলে গালি দেন এবং ক্যামেরা কেড়ে নিতে চান। আমি এসময় বলি, ক্যামেরা ছাড়া আমার সব কিছু নিয়ে যান। এ কথা শুনে তিনি আমাকে বেদম মারধর করতে থাকেন। এ সময় তার পাশে থাকা অন্য কনস্টেবলরা চিৎকার দিয়ে বলতে থাকেন- ‘রক্ত যেন না বের হয়। সিস্টেমে মারেন।’

আমাকে মারধর করতে থাকলে ফোকাসবাংলা ও বেসরকারি এক টিভির প্রতিবেদক ও ক্যামেরা পার্সন আমার মারধরের ফুটেজ ধারণ করে আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তাদের আটকে রাখে। এর পর তারা সেই প্রতিবেদক, ক্যামেরা পার্সন এবং ফোকাস বাংলার ফটোসাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেন।

তাদের চিৎকারে উপস্থিত এসি আমাকে ছেড়ে দিতে বলেন। তবে এর আগে আমি বার বার বলি- আমি কালের কণ্ঠের সাংবাদিক।

উত্তরে সেই এএসআই বলেন, কীসের সাংবাদিক, ভুয়া সাংবাদিক।”

পরে এসির অনুরোধে এএসআই আমাকে ছেড়ে দিলেও বেসরকারি এক টিভির প্রতিবেদককে গাড়ি তুলে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ তাদের উদ্দেশে বলে, ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনে কোনো লোগো লাগানো নেই কেন? তোরা ভুয়া সাংবাদিক।

সর্বশেষ