‘আমাকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ করা যাবে না’

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন:
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ‘একজন মাহামুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বন্ধ করা যাবে না।’

মঙ্গলবার রাত ৮টায় দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
image_12789_0
এ সময় আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘গত ৪২ বছরে এদেশের অধিকাংশ মিডিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় এবং পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি বাংলাদেশের মানুষের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। মঙ্গল প্রদীপের সংস্কৃতি আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমার দেশ এসব বন্ধের জন্য কাজ করছে। আমাদের যেমন ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা আছে, তেমনি ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাও আছে। আমার দেশ পত্রিকা এই মঙ্গল প্রদীপের রীতি থেকে বের হয়ে এসে এদেশের ধর্মপ্রাণ তরুণ সমাজকে আলোর পথ দেখিয়েছে। যে কারণে শাহবাগী ব্লগারদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আমার দেশের গত ২০ দিনে ৭৫ হাজার সার্কুলেশন বেড়েছে।’

শাহবাগ হচ্ছে ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ এমন আখ্যা দিয়ে আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে কোনো নাগরিককে রাষ্ট্রের আইন মানতে হবে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের নিয়মকানুন থাকে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া, জাতীয় পতাকা উড়ানো হবে কোন দিন। অথচ শাহবাগে থেকে বলা হচ্ছে কোন দিন স্কুলে পতাকা উড়বে, জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে। এই নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা কি তারা রাখেন? এগুলো তো শুধু রাষ্ট্র বলতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘শাহবাগ আদালত অবমাননা করে যেতে পারে দিনের পর দিন। আদালত তাদেরকে কোনো সুয়োমটো রুল জারি করেন না। শাহবাগ মানুষকে হত্যার হুমকি দিতে পারে। ফাঁসির ডিমান্ড উড়ে গেছে, এখন একটাই দাবি মাহমুদুর রহমানের গ্রেপ্তার। শাহবাগ উস্কানি দিতে পারে সন্ত্রাসবাদের। যখন জবাই কর স্লোগান হয় তখন কিছু হয় না। অথচ কে না কে এক মৌলবীকে হত্যার কথা বলেছে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাহলে কী ধরে নেব বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ভেতরে শাহবাগ আরেকটি রাষ্ট্র? এই রাষ্ট্রের মালিক কি দেশের ভেতরে নাকি বাইরে। বাইরে যদি কেউ মালিক হয় তবে সেই মালিক কে?’

দু’টি অনলাইন পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিকদের সমাবেশে ইকবাল সোবহান চৌধুরী আমাকে নাকি কুলাঙ্গার ও অসাংবাদিক বলেছেন।’

এ প্রসঙ্গে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘ইকবাল সোবহান চৌধুরী কোথায় কাজ করেন। তিনি প্রথমে পাকিস্তান অবজারভার এবং পরে বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকায় কাজ করলেও সেই পত্রিকাটি তার হাত ধরে বন্ধ হয়ে গেছে।’ ইকবাল সোবহান চৌধুরী ইংরেজি দৈনিকে কাজ করলেও তিনি ইংরেজি কতটা ভালো জানেন সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেন মাহমুদুর রহমান।

বুড়ো বয়সে শুরু করলেও সাংবাদিকতায় পাঁচ বছর পার করেছেন অভিহিত করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ইকবাল সোবহান চৌধুরী যে ভাষায় কথা বলেছেন সে ভাষায় আমি বলতে পারবো না। তিনি কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাও আমার বোধগম্য নয়। বাজারে প্রচলিত আছে গোলাম আযমের নাগরিকত্বের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। এমনকি একাত্তর টেলিভিশনের একটি টকশোতে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত এই বিষয়টি বলেছেন। তাহলে কি শুধু একটি বিশেষ দল করলেই মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়?’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করেছেন, অথচ তিনি রাজনীতিবিদ নন। কিন্তু আমি কোনো দলে যোগ না দিয়ে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে কিভাবে রাজনীতিবিদ হলাম?’

সমকাল সম্পাদক গোলাম সরওয়ার সাম্প্রতিক সময়ে তার পত্রিকার মন্তব্য কলামে লেখেন মাহমুদুর রহমানকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তাহলে কি তিনি ভাগ্যবান? এমন মন্তব্যের ব্যপারে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হলে গোলাম সরওয়ারেরও আমার মতো ভাগ্য হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের আমলে গোলাম সরওয়ারের বিশেষ ভবনে (হাওায়া ভবন) যাতায়াত ছিল। তিনি তারেক রহমানের সুপারিশে সমকালের লাইসেন্স নিয়েছেন। ওনার ব্যবসার কোনো শেষ নেই।’