২৯ বছরে দৈনিক পূর্বকোণ

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৪

:: প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন ::

purbokone-banner(১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪)- সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করা দৈনিক পূর্বকোণের ঊনত্রিশতম জন্মদিন আজ।

এ উপলক্ষে দৈনিক পূর্বকোণে একটি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে লেখা হয়েছে..

আত্মপ্রকাশের স্মৃতি-ভারাতুর মহিমায় পল্লবিত অবিস্মরণীয় দিন আজ ১০ ফেব্রুয়ারি। দৈনিক পূর্বকোণ-এর আজ ঊনত্রিশতম জন্মদিন। সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আজ আমাদের যাত্রা আরেক ভবিষ্যতের পথে। বিগত দিনের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে করে আগামীদিনের অভিযাত্রায় আমাদের বিশাল পাঠক সমাজকে উপহার দিতে চাই নব-ভাবনার দৈনিক পূর্বকোণ। তাই, চট্টগ্রামের সমস্যা-সম্ভাবনা, হতাশা-বঞ্চনা, দুঃখ-কষ্ট, উন্নয়ন-অবকাঠামো, শিক্ষা-সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগ, পর্যটন ও প্রকৃতি-পরিবেশ, নিয়ে ছিলো আমাদের গত সপ্তাহের বিশেষ তথ্য-বহুল ক্রোড়পত্রের আয়োজন। দৈনিক পূর্বকোণ সব-সময়ই চির-নোতুনের সঙ্গী। এই পত্রিকার প্রাণকেন্দ্রে নব-ভাবনার রূপকার ছিলেন দৈনিক পূর্বকোণের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী।

তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু রয়ে গেছে এই অঞ্চলের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণকে ঘিরে ওই বহুদর্শী মানুষটির স্নেহ-পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা একদল প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী এবং তাঁর সুদক্ষ উত্তরসূরীবৃন্দ। এঁরা অঙ্গীকারাবদ্ধ দৈনিক পূর্বকোণকে তার অগণিত পাঠকের চাহিদা অনুসারে সাজিয়ে তুলতে, যুগের বার্তা পৌঁছে দিতে, আর চেতনার প্রদীপ জ্বালিয়ে দিতে ঘরে ঘরে।

এই চলার পথে পাঠক সমাজের অনুরাগের ছোঁয়া ছাড়াও ভালোবাসার মধুরতায় আমাদের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছেন আমাদের পৃষ্ঠপোষকবৃন্দ, আমাদের শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ, প্রিয় সম্মানিত লেখক-কলামিস্ট-বন্ধুজন, বিজ্ঞাপনদাতা শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাসমূহের উদ্যোক্তাবৃন্দ। দৈনিক পূর্বকোণের জন্মতিথির আজকের এই শুভদিনে তাঁদের সকলের কাছে আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং জানাই ২৯তম বছরে পদার্পণের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। এইদিনে আমরা সকলের দুশ্চিন্তাহীন নিরাপদ জীবন এবং অনাবিল সু-স্বাস্থ্য কামনা করছি।

আজকের দিনে আমাদের আন্তরিক কামনা এ-জাতির জীবনে অতীতের দুঃসময়ের দিনগুলো যেনো আর ফিরে না আসে। আগামীদিনে সুদিনের পরিষ্কার পথরেখা এদেশের মানুষ যেনো খুঁজে পায়। উন্নতি-অগ্রগতির ধারা যেনো হয় নিষ্কণ্টক। দারিদ্র্য জয়ের সংগ্রামে জাতির যেনো পদস্খলন না হয়। সামনের দিনগুলোতে দুর্নীতিকে শাসন করে সংস্কারের সতর্ক পদক্ষেপে যেনো আপন লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারে এই জাতি। তারই জন্যে আজ আমাদের চাই গণতন্ত্রের পথে সম্মিলিত সাধনা, গণমানুষের স্বপ্নের বাস্তবায়ন, পরিপূর্ণভাবে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা।

এদেশের বার বার রাজনৈতিক দুঃসময় এসেছে। আর, আমাদের নবীন প্রজন্ম বিগত দিনগুলোতে বেড়ে উঠেছে সঙ্কটময় রাজনেতিক পরিবেশ ও দুর্দশাগ্রস্ত আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির সাথে নিয়ত পাঞ্জা লড়ে। এই দিনগুলোতে তাদের সামনে আদর্শের নেতৃত্ব, ত্যাগের মহিমা, দেশপ্রেমের উদাহরণ হয়ে কেউ এসে দাঁড়ায় নি। নানা সময়ে উপেক্ষিত হয়েছে জনগণের অধিকার, বাধাগ্রস্ত হয়েছে অর্থনৈতিক বিকাশের আয়োজন। আর, সম্পদ কুক্ষিগত করে লুটপাটের কাহিনী রচনা করা হয়েছে। চাষাবাদ করা হয়েছে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদের। দেশের বাম ও প্রগতিশীল দলগুলোর দুর্বলতার সুযোগে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা এদেশের নানা পর্যায়ে সুদৃঢ় করে নিয়েছে তাদের অবস্থান। আমরা আমাদের আগামীর পথযাত্রায় এই সমস্ত বিষয়গুলোকে অতিক্রম করার প্রয়াস অব্যাহত রাখবো নিশ্চয়ই। সেই সাথে চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করতে সোচ্চার থাকবো।

মনে রাখতে হবে সুখী-সুন্দর দেশ গড়তে হলে চাই আদর্শের অনুসারী কর্মীদল। এই কর্মীদল তৈরী করতে হলে দরকার আন্তরিক ও অব্যাহত আদর্শের সংগ্রাম। আর, এমন আদর্শের সংগ্রামে আমাদের নব-প্রজন্মের সদস্যরা যাতে যুক্ত হতে পারে তার জন্যে এ জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে তাদের সামনে ক্রমাগত প্রচেষ্টায় নিবিড়ভাবে তুলে ধরতে অতীতের মতোই দৈনিক পূর্বকোণ থাকবে সক্রিয়। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সদা জাগ্রত করে রাখাই হবে আগামীদিনে আমাদের অন্যতম কাজ। তাহলেই ভবিষ্যতে কোনো পরাজিত শক্তি এদেশকে মৌলবাদী জঙ্গীদের চারণক্ষেত্র করে তুলতে পারবে না।

বিপণ্ণতার কাল তাড়িয়ে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের হাত থেকে এদেশকে রক্ষার কাল এসে উপস্থিত হয়েছে আজ জাতির কাছে। কোনো ধরনের আবেগে ভেসে না গিয়ে পরিবর্তনের এই ফসল আজ সাধারণ মানুষের ঘরে তুলতে হবে। জন্মদিনে এটাই হোক সাধনা। আত্মপ্রকাশের কাল, সেই ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ সাল থেকেই দৈনিক পূর্বকোণ প্রগতিশীলতাকেই মানুষের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। আগামী দিনগুলোতেও এই পত্রিকা দেশব্রতী কাজে যুক্ত থাকবে সেই আদর্শের পতাকাকে উর্ধ্বে তুলে ধরে।

সর্বশেষ