সাংবাদিকদের সমাবেশ ২৮ ফেব্রুয়ারি : আমার দেশ সম্পাদককে হত্যার হুমকির নিন্দা

সোমবার, ১৮/০২/২০১৩ @ ১১:২২ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক:
journalist protestসম্পাদক হত্যার হুমকি, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম নিপীড়ন রুখে দেয়ার দাবিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিক মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএফইউজের নির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আলহাজ রুহুল আমিন গাজী। সভা পরিচালনা করেন মহাসচিব শওকত মাহমুদ।
সভায় গৃহীত প্রস্তাবাবলীতে বলা হয়, বতর্মান সরকারের ধারাবাহিক ও নজিরবিহীন মিডিয়া-বিদ্বেষ ও সাংবাদিক পীড়নে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি শাহবাগের ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ থেকে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের প্রতি সহিংস হুমকি, পত্রিকা পোড়ানোর ন্যাক্কারজনক ঘটনা, তথ্য প্রাপ্তির অধিকারে বাধা প্রদান, বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে তথা গণতন্ত্রকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ‘আমার দেশ’- সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে শাহবাগ থেকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও অধ্যাপক পিয়াস করীমের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি উচ্চারিত হয়েছে। ‘আমার দেশ’, ‘সংগ্রাম’, ‘নয়া দিগন্ত’, ‘দিনকাল’-এর কপি দেশের বিভিন্ন স্থানে পোড়ানো হচ্ছে। ‘দিগন্ত টিভি’ যাতে দর্শকরা দেখতে না পান সেজন্য ক্যাবল অপারেটরদের প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। ‘নয়া দিগন্ত’ পত্রিকা অফিস ও প্রেসে আগুন দেয়া হয়েছে পুলিশি পাহারায়। এসবের প্রতিবাদে বিএফইউজে এবং ডিইউজের তরফে প্রতিবাদ সমাবেশ করে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার এবং সংবাদপত্র ও সাংবাদিক নিপীড়ন বন্ধের জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতারে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এর প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ আগামী ১১ মার্চ দেশের সব গণমাধ্যমে সাংবাদিক ধর্মঘট এবং প্রকাশনা ও সম্প্রচার বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এমতাবস্থায় সম্পাদক হত্যার হুমকি, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম নিপীড়ন বন্ধের নামে চলমান ফ্যাসিবাদ রুখে দেয়ার দাবিতে এবং ১১ মার্চের ধর্মঘট সফল করার লক্ষ্যে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
অপর এক প্রস্তাবে দুই ইউনিয়নের ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার পক্ষে মত প্রকাশের পাশাপাশি সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদপত্র পীড়নের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ঐক্যকে নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এ লক্ষ্যে এবং বিদ্যমান গুরুতর পরিস্থিতির আলোকে বিএফইউজের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন পিছিয়ে আগামী ২৯ ও ৩০ জুন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বিএফইউজে নির্বাচনের কাউন্সিলর তালিকা অনুমোদিত হয়।