নির্মল সেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৭, ২০১৪

:: প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন ::

নির্মল কুমার সেন গুপ্ত (জন্ম: ৩ আগস্ট, ১৯৩০ - মৃত্যু: ৮ জানুয়ারি, ২০১৩) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

নির্মল কুমার সেন গুপ্ত (জন্ম: ৩ আগস্ট, ১৯৩০ – মৃত্যু: ৮ জানুয়ারি, ২০১৩) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

(০৭ জানুয়ারি ২০১৪)- বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিষ্ট, বাম রাজনীতির পুরোধা, মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার। ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারী তিনি রাজধানী ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ৮২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।

নির্মল সেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রমিক-কৃষক-সমাজবাদী দলের পক্ষ থেকে ৮ জানুয়ারি সকাল ১১টায় ২৩/২ তোপখানা রোডে অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়া গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় নির্মল সেন মৃত্যুবার্ষিকী উদ্যাপন পরিষদ এক স্মরন সভার আয়োজন করেছে।

নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগষ্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত । মাতার নাম লাবন্য প্রভা সেন গুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন পঞ্চম ।

নির্মল সেনের পিতা সুরেন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত কোটালীপাড়ার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীট কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনষ্টিটিউশনের গনিত শিক্ষক ছিলেন। এর আগে সুরেন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত ঢাকার ইষ্ট বেঙ্গল ইনষ্টিটিউটে শিক্ষকতা করতেন। দেশ বিভক্তির পরে নির্মল সেনের পিতা মাতা অন্য ভাই বোনদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা চলে যান। জন্মভূমির প্রতি অকুন্ঠ ভালবাসার কারনে তিনি এদেশে থেকে যান।

নির্মল সেন বড় হযেছেন ঝালকাঠি জেলায় তার পিসির বাড়ীতে। তিনি ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে ১৯৪৪সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাস করেন। পিসির বাড়ীতে যাওয়ার আগে নির্মল সেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি স্কুলে ৪র্থ শ্রেণিতে এক বছর লেখা পড়া করেন। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এ ও মাষ্টার্স পাস করেন।

নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ”ভারত ছাড়ো” আন্দোলনের মাধ্যমে ষ্কুল জীবন থেকে। কলেজ জীবনে তিনি অনুশিলন সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তিতে তিনি আর এস পিতে যোগ দেন। দীর্ঘ দিন তিনি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে।

১৯৫৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মধ্যে দিয়ে নির্মল সেন তার সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। তার পর দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা জীবনে নির্মল সেন একাধিক বার জেল খেটেছেন। বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে অনশন করেছেন। ১৯৪৮ সালের আগস্ট মাসে তিনি প্রথম জেলে যান। জেলে থাকা অবস্থায় ১৯৪৯ সালে বন্দিদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে নির্মল সেন ৬ দিন অনশন করেন। এরপরে মে মাসে রাজবন্দিদের দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রতিবাদে ২৪ দিন অনশন করেন।

এরপরে ওই দাবি না মানার কারণে ওই বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ৪০ দিন অনশন করেন তিনি। ১৯৫০ সালে নির্মল সেন ৫২ দিন অনশন করেন। এছাড়াও নির্মল সেন ১৯৯৭ সালে দৈনিক বাংলা বন্ধের প্রতিবাদে এবং সাংবাদিকদের বেতন ভাতার দাবিতে অনশন করেন।

এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিষয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। লেখক হিসেবেও নির্মল সেনের যথেষ্ট সুনাম রযেছে। তার লেখা পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, মানুষ সমাজ রাস্ট্র, বার্লিন থেকে মষ্কো, মা জন্মভূমি, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই, আমার জীবনে ৭১এর যুদ্ধ, আমার জবানবন্ধি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১১ অক্টোবর নির্মল সেন ব্রেইনস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। দেশে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার পর গ্রামে ফিরে যান। সেখানে বসেই তিনি লেখালেখি করেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। তার জীবনের শেষ ইচ্ছা নিজ বাড়িতে একটি মহিলা কলেজ স্থাপন করা। তিনি কলেজটির জন্য তার বাড়ির ১ একর ৫০ শতক জায়গাও রেজিস্ট্রেশন করে দিয়ে গেছেন।