বিচারকের ধমক খেলেন তেজপালের আইনজীবি

শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৩

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

tarun-tejpal-৩(৩০ নভেম্বর ২০১৩)- তেহেলকা কাণ্ডে তরুণ তেজপালের আগাম জামিন নিয়ে গোয়া আদালতে শুনানি চালাকালীন বিচারকের ধমক খেলেন তেজপালের পক্ষের উকিল গীতা লুথরা। তেজপালের বিরুদ্ধে যে মহিলা সাংবাদিককে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার শুনানি চলাকালীন তার নাম নেওয়াতেই এই বিপত্তি।

অভিযোগকারিনীর নাম নেওয়াতে গীতা লুথরাকে থামিয়ে দেন বিচারক অনুজা প্রভুদেশাই। ‘এটা একটি মারাত্ম ভুল, যা পীড়িতের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তেজপাল পক্ষের উকিলের এহেন আচরণে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ বিচারক অনুজা। জানিয়েছেন এ ধরণের ব্যবহারে যেন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগকারিনীই অভিযুক্ত। আদালত এ ধরণের আচরণ বরদাস্ত করবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। গীতা লুথরাকে রীতিমতো ধমকে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কী এখানে অভিযোগকারিনীকে কলুষিত করার চেষ্টা করছি?এটা হতে পারে না।’

অভিযোগকারিনীর নাম ফাঁস করায় মধু কিসওয়ারের নামে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে

ভুল হয়ে গিয়েছে বুঝতে পেরে আত্মপক্ষ সমর্থনে গীতা লুথরা জানান তদন্তকারী অফিসাররাই অভিযোগকারিনীর নাম লিখেছেন। বিচারকের পাল্টা বকুনি, ‘আপনার নৈতিক কর্তব্য সেই নামটা না বলা’। আইনত ধর্ষণপীড়িত কোনও মহিলার পরিচয় প্রকাশ করা বাঞ্ছনীয় না।

অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে কোনওটাই যেন পরিকল্পনা মাফিক খাটছে না তেজপাল পক্ষের। এই মামলায় রাজনৈতির রং রয়েছে, এবং অভিযেগকারী মহিলাকে রাজনৈতিক মন্তব্য করার জন্য অভিযুক্ত করলে বিচারক অনুজা প্রভুদেশাই আবারও বাধা দেন তেজপাল পক্ষের উকিলকে। বলেন, ‘আমি এখানে অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে উদ্বিগ্ন, রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে নয়, যা অবশ্যই অপরাধের পর হয়েছে।’ অভিযোগকারিনী এমন কোনওধরণের মন্তব্য করেছেন কী, এ প্রশ্নই বিচারক ছুড়ে দেন গীতা লুথরার উদ্দেশে।

এদিকে এনএসইউআই- গোয়া ইউনিটের সম্পাদক হাসিবা আমিন মধু কিসওয়ার নামের এক স্বেচ্ছোসেবীকর্মীর নামে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যেখানে বলা হয়েছে মধু কিসওয়ারই তেহেলকা কাণ্ডের অভিযোগকারিনী ওই মহিলা সাংবাদিকের নাম ফাঁস করেছে। ২২ নভেম্বর টুইটারে ওই মহিলার নাম প্রকাশ করে মধু।

তেজপাল মামলায় আগাম জামিনের রায় বিকেল সারে চারটে পর্যন্ত ধরে রাখা হয়েছে। এই ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তেজপালের ১০ বছর পর্যন্ত জেল হাজত হতে পারে।