ঈদের দিন কষ্ট আরও বেশি হয়

বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৩

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

Sagor-mother(১৬ অক্টোবর ২০১৩)- ঈদ ও বিশেষ দিনগুলিতে কষ্ট আরও বেশি হয়। সাগর-রুনি থাকলে ঈদ ও বিশেষ দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে উল্লাস করতো। কিন্ত আজ সাগর-রুনি নেই তাই পরিবারের সকল আনন্দ হারিয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে যদি সাগর-রুনির মৃত্যু হতো তাহলে সেই কষ্ট মেনে নেওয়া যেত।

ঈদের দিন নিজ বাসায় বাংলানিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাতকালে এসব বললেন সাংবাদিক সাগর সরোয়ারের মা সালেহা মনির । পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারের নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো—

বাংলানিউজ: সাগর-রুনির অবর্তমানে ঈদ কিভাবে কাটাচ্ছেন?

সালেহা মনির: বুকের রত্নকে রেখে কিভাবে আনন্দ হয়। ঈদ ও বিশেষ দিনগুলিতে আরো বেশি মনে পড়ে ওদের। যেন সাগর-রুনি আমাকে ডেকে বলছে মা এখনও তোমার রান্না হয় নাই। মা তোমার হাতের রান্না না খেলে যেন খাওয়ায় অসমাপ্ত থেকে যায়। মা তোমার হাতের গরুর মাংস খুব প্রিয়। আর কোন দিন এভাবে ডাক শুনবো না। আগের মতো ঈদ বকশিস নেবে না আর।

বাংলানিউজ: সাগর-রুনি নেই কিন্ত তাদের রেখে যাওয়া একমাত্র সন্তান মেঘ ঈদে আপনার কাছে কি আবদার করেছিল?

সালেহা মনির: ঈদের আগে মেঘ বলে, দাদী, বাবা-মা নেই কিন্ত তুমি আমার ক্রিকেট খেলার সকল জিনিস কিনে দিবে। আমার আর কোনো কিছু প্রয়োজন নেই। তুমি টাকা পাবে কোথায়। আমি বড় হই তারপর…। আমি আমার কষ্ট মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখে মেঘে’র জন্য খেলনা কিনে এনেছি। মেঘের মতো সাগরও ছোটবেলায় আমার কাছে সব সময় আবদার করতো, তবে ওর আবদার ছিল ফুটবল খেলার সামগ্রী নিয়ে।

বাংলানিউজ: ঈদের দিন সাগর-রুনির কী কী আবদার আপনার বেশি মনে পড়ছে?

সালেহা মনির: আমার হাতে না খাওয়া পর্যন্ত বাসা থেকে বের হতো না। সেমাই, খিচুড়ি ও গুরুর মাংস ওর খুব প্রিয় ছিল। এদিকে রুনি আমার কাজের সহযোগিতা করতো। সাগর নামাজ থেকে এসে পরিবারের সবাইকে ঈদ বকসিশ দিত। এবং বড় আপাদের কাছ থেকে ঈদ বকসিশ নিত। এরপর সবাই মিলে এক সাথে খেতে বসতো। কেউ উপস্থিত না থাকলে মন খারাপ করতো।

বাংলানিউজ: মেঘ আজ সারাদিন কী করছে?

সালেহা মনির: সকালে মামাদের সাথে নামাজ পড়ে কোরবানি দিয়ে বাবা-মায়ের কবরে গিয়েছে। আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে দাদী আমি বাবা-মায়ের কবর থেকে তোমাকে দেখতে যাবো। আমার খেলার জিনিস রেখে দিও।

বাংলানিউজ: সাগর-রুনি নেই কিন্ত তাদের মতো শত শত সাংবাদিক আছে এদের রিপোর্ট সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

সালেহা মনির: অবশ্যই তাদের রিপোটিংও ভালো। সাংবাদিকদের আমি শ্রদ্ধা করি। কারন সাংবাদিকরা দেশের নক্ষত্র। আমি আমার ছেলের জীবন দিয়ে বুঝেছি সাংবাদিকদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমি চাই সাগর-রুনিসহ বাংলাদেশের যে সকল সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে সব হত্যাকাণ্ডে বিচার হোক। না হলে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য দেশের নক্ষত্রদের একের পর এক হত্যা করে যাবে।

বাংলানিউজ: সাগর-রুনির নামে রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মিলয়াতন হয়েছে, জানেন? কেমন লাগে আপনার?

সালেহা মনির: হ্যাঁ জানি। এর জন্য আমি সাংবাদিক নেতা ও কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই। তারা তাদের সহকর্মীদের স্মরণে মিলনায়তনের এ নামকরণ করেছে।

বাংলানিউজ: সাংবাদিক নেতারা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেন?

সালেহা মনির: হ্যাঁ। সাংবাদিক নেতা সাহেদ চৌধুরী, ইলিয়াস খান, আগের কমিটির বাদশা, তপুসহ অনেকেই আমার খোঁজ খবর রাখেন।

বাংলানিউজ: বাংলানিউজকে সময় দেওয়ার জন্য আপনার অনেক ধন্যবাদ ও ঈদ মোবারক।

সালেহা মনির: বাংলানিউজ পরিবারকেও ধন্যবাদ ও ঈদ মোবারক।