সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে বগুড়ায় জেআইবি’র আত্মপ্রকাশ

মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৩

:: এস এম কাওসার ::

jibআমাদের দেশে সাংবাদিকতার ধ্যান-ধারণা ও চর্চার ক্ষেত্রটি দিনে দিনে যেমন বিকশিত হচ্ছে তেমনি এর ওপর অধ্যয়ন ও গবেষণার চাহিদাও বাড়ছে। তরুণ-তরুণীরা এ পেশায় আগ্রহী হয়ে উঠছে। দেশে বাড়ছে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, বেতার, অনলাইনসহ নতুন ধারার বিভিন্ন গনমাধ্যম। এসব গণমাধ্যম সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান দেশের প্রতান্ত অঞ্চলে জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। কিন্তু চাহিদামাফিক প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরি না হওয়ায় এবং কোনোরূপ মানদন্ড বা ন্যূনতম যোগ্যতা ছাড়াই যে কেউ গুরুদায়িত্বপূর্ণ এই মহান পেশায় যোগ দেওয়ার কারণে সাংবাদিকতার মান ও পেশাদারিত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমাদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

সাংবাদিকতার ওপর উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালু আছে। ঢাকায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও এই বিভাগ চালু হয়েছে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, ঢাকার বাইরে মাত্র দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া জেলা-আঞ্চলিক পর্যায়ে সাংবাদিকতার ওপর উচ্চ শিক্ষা কিংবা ডিপ্লোমা কোর্স প্রবর্তন করার অ্যাকাডেমিক কোনো শিক্ষা-প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নেই। তবে এক্ষেত্রে ঢাকায় একমাত্র বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) সাংবাদিকতায় এক বছরের স্নাতকোত্তর ডিপ্লে¬ামা কোর্স চালিয়ে এসেছে যেখানে সীমিত সংখ্যক আসনে আঞ্চলিক পর্যায়ের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ খুবই কম। তাছাড়া, ঢাকায় থেকে সবার পক্ষে ওই কোর্স সম্পন্ন করা সম্ভবও নয়।

জেলা শহর ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অ্যাকাডেমিক ও প্রফেশনাল ডিল্পোমা কোর্সের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অধিকাংশক্ষেত্রে ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপন করা এসব শিক্ষা-প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কোনোরূপ সরকারি অনুদান ব্যতিরেকে একমাত্র শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র টাকায় পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের সংশ্লি¬ষ্ট বিভাগ থেকে শুধু অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এ ধরনের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না।

ঢাকার বাইরে জেলা-আঞ্চলিক পর্যায়ে যারা সাংবাদিকতা করছেন তারা সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করেই এ পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় অ্যাকাডেমিক-প্রফেশনাল শিক্ষা-প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ে সাংবাদিকতার মান ও পেশার মর্যাদা কাংখিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হতো। অন্যসব পেশার ক্ষেত্রে সব জেলাতেই শেখার জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নেই।

বগুড়া নানা দিক থেকে গুরুত্ব বহন করে, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তো বটেই। এ জেলায় সাংবাদিকতার মান প্রশংসনীয়। আঞ্চলিক পর্যায়ে সাংবাদিকতা চর্চা তথা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের সংখ্যাগত গুরুত্বমান বিবেচনায় নিলে বগুড়ার স্থান হবে ঢাকার পরেই। এ অঞ্চলে শখের বসে কিংবা কর্মের প্রয়োজনে যারা সাংবাদিকতা পেশায় পদার্পন করেন তাঁদের অনেকেই নানা প্রতিকূলতার মাঝেও মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে ধীরে ধীরে এ পেশায় নিজের অবস্থান সুসংহত করতে সক্ষম হয়েছেন।

এর আলোকে বহুমাত্রিক সংবাদমাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে দেশের উত্তর জনপদের আগ্রহী তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য গণমাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়ায় সহায়তা দিতে বিভিন্ন মেয়াদি অধ্যয়ন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে বগুড়ায় আত্মপ্রকাশ করেছে জার্নালিজম ইনস্টিটিউট অব বগুড়া (জেআইবি)। জেআইবি’র প্রশিক্ষণ আয়োজনে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, রেডিও, ভিডিও ও ফটো সাংবাদিকতা। এই উদ্যোগ সফল হলে আগামীতে স্থায়ীভাবে সাংবাদিকতার ওপর বিশেষায়িত উচ্চতর শিক্ষা-প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আধুনিক সংবাদমাধ্যম পরিচালনা এবং সাংবাদিকতার সময়োপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনে জেআইবি’র রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতাসহ আনুষঙ্গিক সকল প্রস্তুতি। ইতোমধ্যেই সব ধরনের কারিগরি ব্যবস্থাপনাসহ সাংবাদিকতায় মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ায় জন্য গড়ে তোলা হয়েছে জেআইবি’র সুদক্ষ, সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদল। অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা ও তথ্যসংরক্ষণে, প্রবীন, নবীন ও প্রথিতযথা সাংবাদিকদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান করা হবে এই ইনস্টিটিউট থেকে। সেই সঙ্গে ‘প্রতিবার্তা’ নামে অনিয়মিতভাবে জেআইবি মূখপত্র প্রকাশ করছে। এছাড়া চলছে ‘নিউজভিউজবিডিডটকম’ নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালুর কাজ।

জেআইবি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যাঁরা আমাদের এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন তাঁদের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন। আশা করছি, ভবিষ্যতেও সুখে-দুখে জেআইবি’র পাশে আপনাদের সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত থাকবে।

লেখক: পরিচালক (জেআইবি)