জাতীয় প্রেসক্লাবের শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকুক

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৩

তুষার আবদুল্লাহ, সাংবাদিক:
press_clubজাতীয় প্রেসক্লাবকে কখনো নিজের মনে হয়নি। সদস্যপদ পাইনি বলে নিজের মনে হবেনা তা নয়। সাংবাদিকতার সংগে যুক্ত বলেই জাতীয় প্রেসক্লাবকে একটু আপন ভেবে নেয়ার অধিকারতো থাকতেই পারে। কিন্তু পত্রিকা ও টেলিভিশনে কাজ করার সূত্রে প্রেসক্লাবে গিয়ে, সেখানকার সদস্যদেরযে আচার-আচরণের অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে সদস্যপদের আকাঙ্খা দূরে থাক কাজের জন্যও ঐ চত্বরে পা রাখতে বিব্রতবোধ করতাম। তাই মাঠের রিপোটিং থেকে সরে আসার পর প্রেসক্লাবে গিয়েছি বলে মনে পড়ছেনা।

শুধু প্রেসক্লাবের সদস্যদের জাতিসংঘের সদস্যসুলভ আচরণের জন্যই নয়, যখন জানতে পারি সাংবাদিকতার সংগে সরাসরি যুক্ত নন এমন কেউ কেউ এবং অখ্যাত-কুখ্যাত পত্রিকার নামধারী লোকজনও প্রেসক্লাবের সদস্য পদ পেয়েছেন, অথচ অসংখ্য পেশাদার সাংবাদিকের আবেদনপত্র খারিজ হয়ে গেছে, তখন জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতি অরুচিই তৈরি হয়েছে এক প্রকার। আশপাশে অনেক অনুকরণীয়- অনুসরণীয় সাংবাদিককে যখন দেখেছি, তারা প্রেসক্লাবের সদস্যপদের জন্য কাঙ্গাল নন, তখন বুঝতে পেরেছি প্রেসক্লাবের প্রতি আমার অ্যালার্জি স্বাস্থ্যকর। অনেক প্রিয় সহকর্মী ও অগ্রজ, যারা প্রেসক্লাবের সদস্য, তাদের বিভিন্ন সময়ে পীড়িত করেছি তথাকথিত সদস্যদের বিষয়ে। দেখেছি তারাও বিষয়গুলো নিয়ে বিব্রত। বিশেষ করে দলীয় মোড়কে সদস্যপদ দেয়ার বিষয়টির সঙ্গেও একমত নন অনেকে। কিন্তু দলীয় ফোরামের আবরণ তাদের মেনে চলতে হচ্ছে সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে।

এইসব কিছুই হয়তো গায়ে সইয়ে নেওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু যখন জানা গেল যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লা এবং কামারুজ্জামানও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য। তখনতো মনভূমিতে বজ্রপাত হলো। জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতি সামান্য শ্রদ্ধাবোধ যতোটুকু অবশিষ্ট ছিল সাধারণের এবং সাংবাদিকদের মধ্যে, তা যেনো চক্রবৃদ্ধি হারে ঘৃণায় রূপ নিলো। বন্ধুবর ও শ্রদ্ধেয় অনেক সদস্যকে ফোন দিয়ে বলেছি এরপরও কি প্রেসক্লাবের সদস্য থাকবেন? সাহসী উত্তর আসেনি কারো কণ্ঠ থেকে। বাজারদরের তুলনায় পানির দরে (আজকাল অবশ্য পানির দরও অনেক), বা বলা যায় প্রায় বিনামূল্যে খাবার ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাকে হেলায় হারাতে চায় কে? তাই তারা সুবিধাজনক মৌণ থেকেছেন। তবে এই দুই যুদ্ধাপরাধীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ বাতিলের দাবিটি রূপ নিয়ে নেয় জনদাবিতে। দাবীটি শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ থেকেও তোলা হয়।

প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটিকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। তারা জনদাবির প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। বাতিল করেছেন দুই যুদ্ধাপরাধীর সদস্যপদ। এই সিদ্ধান্তে জাতীয় প্রেসক্লাব ও এর সদস্যদের জন্য মনোভূমিতে কোমল চত্বর তৈরি হলো। সেই চত্বরটি আরো বিস্তৃত হবে সেই স্বপ্ন দেখি। আর সেই স্বপ্ন থেকেই দাবি করতে চাই- যুদ্ধাপরাধী দিয়ে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হলো তার ধারাবাহিকতায় অসাংবাদিক এবং স্বাধীনতার বিপক্ষের সদস্যদের ও বাতিলের খাতায় তুলে দেয়া হোক।

তুষার আবদুল্লাহ, বার্তা প্রধান, সময় টিভি ([email protected])