রানার সম্পাদকের হত্যাবার্ষিকী পালন

শুক্রবার, আগস্ট ৩০, ২০১৩

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

ranar editor Jessore(৩০ আগস্ট ২০১৩)- বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে যশোরের দৈনিক রানার সম্পাদক আরএম সাইফুল আলম মুকুল ১৫তম হত্যাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে যশোরের সাংবাদিকরা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে শোক র‌্যালি করে শহরের চারখাম্বা মোড়ের অদূরে নিহতের স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় প্রেসক্লাব যশোর, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে) ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্যরা স্মৃতিফলকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।

এছাড়াও যশোর সংবাদপত্র পরিষদ, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নেতারা পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।

বেলা ১১টায় প্রেসক্লাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এরপর সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের উদ্যোগে প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিক গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজে একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব শওকত মাহমুদ প্রমুখ।

১৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার:
এদিকে রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুল হত্যার ১৫ বছর পার হলেও বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি ঘাতকদের।

১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাত ১০টা ১০ মিনিটে রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল শহর থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে চারখাম্বা মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের নিক্ষিপ্ত বোমা ও গুলিতে নিহত হন। পরদিন তার স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন কারো নাম উল্লেখ না করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি দুলালউদ্দিন আকন্দ ১৯৯৯ সালের সালের ২৩ এপ্রিল ২২ জনকে অভিযুক্ত করে যশোরের প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ এবং যশোরের সে সময়ের নামকরা চোরাচালান সিন্ডিকেটের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নুর উন নবীসহ বেশ কয়েকজন নামকরা লোক।

তবে এ চার্জশিটের ব্যাপারে সন্তষ্ট হননি বাদী হাফিজা আক্তার শিরিন। এ জন্য তিনি চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি পিটিশন দেন। তার দাবি ছিল, পর্যাপ্ত তদন্ত না করে, কোনো অভিযুক্তের জবানবন্দী রেকর্ড না করে, দুর্বল সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে; যা বিচারে টিকবে না। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালত তার নারাজি আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর বাদী হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। একপর্যায়ে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমই বাতিল করে দেন। হতবাক বাদী হাফিজা আক্তার শিরিন। এরপর প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে প্রায় দুই বছর পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং আদালতের নির্দেশে সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি মাওলা বক্স অধিকতর তদন্ত করেন। ২০০৫ সালের ২১ এপ্রিল তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের তৎকালীন যশোরস্থ স্টাফ রিপোর্টার (বর্তমানে ঢাকা অফিসের কর্মরত বিশেষ প্রতিনিধি) ফারাজী আজমল হোসেনসহ নতুন দুই জনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।

২০০৬ সালের ১৫ জুন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতে মুকুল হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়। সে সময় উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা থেকে অব্যাহতি পান সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তরিকুল ইসলামসহ আরো একজন। ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর এ মামলার একজন আসামির আবেদনে উচ্চ আদালত মামলার তার অংশের কার্যক্রমের উপর স্টে আদেশ দেন। তবে চলতে থাকে অন্য আসামিদের বিচারিক কার্যক্রম। ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাইফুল আলম মুকুল হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। ইতোমধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্নও হয়েছে। সম্পন্ন হয়েছে ২৫ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণও। তবে এক আসামির ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের দেয়া স্টে অর্ডারের কোনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা যাচ্ছে না।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর এজেডএম ফিরোজ জানান, মুকুল হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আসামি ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি ফারাজী আজমল হোসেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদন করেন। যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক ফারাজী আজমল হোসেনের আইনজীবীকে এই মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশনা কি তা আদালতকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু হাইকোর্টে ফারাজী আজমল হোসেনের ওই আবেদনের নিস্পত্তি না হওয়ায় নিম্ন আদালতে এ মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে।

দীর্ঘ ১৫ বছরেও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম মুকুল হত্যা মামলার কোনো কিনারা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তার স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিনসহ স্বজনরা। হতাশ যশোরের সাংবাদিকরাও। তারা চান সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাইফুল আলম মুকুলের প্রকৃত খুনিদের শাস্তি প্রদান করা হোক।