১১ মার্চ ২৪ ঘণ্টা সাংবাদিক ধর্মঘট

সোমবার, ১১/০২/২০১৩ @ ৩:০৭ অপরাহ্ণ

প্রেস বার্তা প্রতিবেদন:
journalist protestসাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে চলমান আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাংবাদিক সমাজ। আগামী ১১ মার্চ ২৪ ঘণ্টার জন্য ধর্মঘট করবেন সাংবাদিকরা। ওই দিন ভোর ৬টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত সকল গণমাধ্যমে এ ধর্মঘট পালিত হবে।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তিতে সোমবার সাংবাদিক মহাসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে কর্মসূচি ঘোষণা করেন মহাসমাবেশের সভাপতি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মহাসমাবেশ থেকে দেওয়া বক্তব্যে সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে চলমান আন্দোলনের আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান সাংবাদিক নেতারা।

সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচারসহ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে যৌথভাবে এ সাংবাদিক মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

বিএফইউজ’র অপর অংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ মহাসমাবেশে বলেন, ‘‘সরকার শুধু আশ্বাস দিয়ে একটি বছর পার করেছে। সাংবাদিক সমাজ কর্মসূচি দিলেই সরকার আশ্বাসের বাণী শোনায়। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।’’

‘‘যখনই আমরা (সাংবাদিকরা) কোনো কর্মসূচি দেই, তখনই সন্দেহভাজন কাউকে ধরা হয়। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভাড়াটে খুনি গ্রেফতার করা হয়েছে। শিগগিরই হত্যার রহস্য বের হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আর ধৈর্য ধরতে প্রস্তুত নই। আমাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে বলতে, তাহলে কি সাগর-রুনি হত্যার সঙ্গে সরকারেরই কেউ জড়িত? একদিন সেই সময় আসবে, যখন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যারা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদেরও বিচার হবে।’’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘কাউকে সন্দেভাজন গ্রেফতার করে যদি বলেন, রহস্য উম্মোচন হচ্ছে, তাহলে আমরা মানবো না। গ্রেফতারের নামে নাটক চলছে। সাংবাদিক সমাজ এখন আর এ নাটকে বিশ্বাস করে না।’’

‘‘তারা মনে করেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরকারের কেউ অথবা ঘনিষ্ঠ কেউ সরাসরি জড়িত। সরকার জানার পরও কাউকে গ্রেফতার করছে না।’’

হত্যাকাণ্ডটি সরকার ধামাচাপা দিতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন শওকত মাহমুদ।

সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘‘যারা হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে চাইছে এবং মূল আসামিদের ধরছে না, তাদের বিরুদ্ধে সময়মতো মামলা করা হবে। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার না করার কারণে সাহারা খাতুনকে বিদায় নিতে হয়েছে।’’

‘‘বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিচারের নামে নাটক করছেন। সাংবাদিক সমাজের আন্দোলনের মাধ্যমে তাকেও বিদায় নিতে হবে’’ বলেও হুশিয়ার করেন তিনি।

শওকত মাহমুদ বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের ঐক্য কৃত্রিম ঐক্য নয়। কোনো মহলই এ ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারবে না। সাংবাদিক সমাজ রাজনীতির উর্ধ্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা আর বিক্ষোভ সমাবেশের মতো কর্মসূচি দেবো না। আরও কঠিন-কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী অভ্যুত্থানের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে।’’

শওকত মাহমুদ, ‘‘পুলিশ যদি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার না করে, তাহলে প্রেসক্লাবের সামনে নব্বইয়ের মতো আরও একটি গণঅভ্যুত্থান ঘটানো হবে।’’

ডিআরইউ’র সভাপতি শাহেদ চৌধুরী বলেন, ‘‘সাগর-রুনি হত্যার বিচারের আন্দোলনকে বানচাল করতে নানা যড়যন্ত্র চলছে। আমাদের ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরাতেও নানা চেষ্টা চলছে।’’

ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ঐক্য বানচাল করতে পারবেন না।’’

শাহেদ চৌধুরী আরো বলেন, ‘‘সাগর-রুনিকে নিয়ে গত এক বছর ধরে সাংবাদিক সমাজ একত্রিত হয়ে আন্দোলন করলেও সরকারের টনক নড়ছে না।’’

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘কোন কারণে আপনারা খুনিদের পক্ষ অবলম্বন করছেন, তা আমাদের বোধ্যগম নয়। অবিলম্ব নাটক বন্ধ করে প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করুন। না হলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’’

ডিইউজে’র একাংশের সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ বলেন, ‘‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের নামে সরকার প্রহসনের নাটক সাজাচ্ছে।’’

এজন্য তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার না করা হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুশিয়ার করেন।

মহাসমাবেশে যোগ দিয়েছেন ঢাকাসহ সারা দেশের সাংবাদিকরা। এ আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের আঞ্চলিক ও বিটভিত্তিক সংগঠনগুলোও ব্যানার নিয়ে যোগ দিয়েছে এ মহাসমাবেশে।

গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি।

এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সাংবাদিক সংগঠনগুলো বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। গত এক বছর ধরে সাংবাদিক সমাজ হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলন করে এলেও এখন পর্যন্ত খুনিদের বিচারের আওতায় না আনায় সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ।

ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, বিএফইউজে’র অপর অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক প্রমুখ। ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান মহাসমাবেশ পরিচালনা করেন।