মিশুক-তারেকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

মঙ্গলবার, ১৩/০৮/২০১৩ @ ২:৪৯ অপরাহ্ণ

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

misuk munir(১৩ আগস্ট ২০১৩)- বিশিষ্ট সাংবাদিক মিশুক মুনীর ও চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের এই দিনে মানিকগঞ্জের জোকায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। সেই দিন তাদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছিলেন আরও কয়েকজন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক অনন্য নির্মাতা ছিলেন তারেক মাসুদ। দর্শকদের তিনি উপহার দিয়েছিলেন ভিন্ন মাত্রার চলচ্চিত্র। মুক্তির গান ও মাটির ময়নাসহ অনেক ছবি নির্মাণ করে তিনি অর্জন করেছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

১৯৫৭ সালে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নূরপুর গ্রামে জন্ম নেন তারেক মাসুদ। তার বাবার নাম মশিউর রহমান মাসুদ ও মায়ের নাম নুরুন নাহার মাসুদ। তারেক মাসুদের শিক্ষা জীবন মাদ্রাসায় শুরু হলেও পরবর্তীতে তিনি স্কুলে ভর্তি হন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তারেক মাসুদ। তার নির্মিত প্রথম ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র ‘আদম সুরত’। ১৯৮২ সালের শেষ দিকে এসএম সুলতানের উপর ভিত্তি করে তিনি এই ডকুমেন্টারি নির্মাণ করেছিলেন। তবে এটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৯ সালে। এরপর অবশ্য থেমে থাকেননি তিনি। নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু ডকুমেন্টারি, অ্যানিমেশন ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

২০০২ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ । এই চলচিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং দেশে-বিদেশে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করে। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশ তিনি কয়েকটি সাময়িকী ও পত্রিকায় এ বিষয়ে লেখালেখি করতেন।

তারেক মাসুদের মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টরির মধ্যে মধ্যে রয়েছে- রানওয়ে, আ ক্যাইন্ড অব চাইল্ডহুড, মাটির ময়না, নারীর কথা, মুক্তির কথা, ইন দ্য নেইম অব সেফটি, ভয়েসেস অব চিলড্রেন, মুক্তির গান, ইউনিসন, সে, আদম সুরত, অন্তর্যাত্রা, নর সুন্দর।

দুর্ঘটনার সেই দিনে তারেক মাসুদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছিলেন বাংলাদেশের আরেক মেধাবী মানুষ মিশুক মুনীর। তিনি শুধু বাংলাদেশেই নয়, কাজ করেছিলেন বাহির বিশ্বেও।

মিশুক মুনীর ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেন। এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন।

১৯৯৭ সালে তিনিই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ‘ভিডিও জার্নালিজম কোর্স’-এর সূচনা করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোদস্তুর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন।

তিনি ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত একুশে টিভির বার্তাপ্রধান (পরিচালনা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি টরন্টোর ব্রেকথ্রো ফিল্মস, জে ফিল্মস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে ফ্রিল্যান্স ক্যামেরাপারসন ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। কানাডার রিয়েল নিউজ নেটওয়ার্কের হেড অব ব্রডকাস্ট অপারেশন্স হিসেবে দীর্ঘ আট বছর কাজ করেছিলেন তিনি।

সর্বশেষ ২০১০ সালে তিনি এটিএন নিউজে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগ দেন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও তিনি লিবিয়ার সংকটের সময় সে দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংবাদ সংগ্রহ করতে নিজেই ছুটে গিয়েছিলেন।

মিশুক মুনীর একাডেমি অব কানাডিয়ান সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশনের এবং কানাডিয়ান ইনডিপেনডেন্ট ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং কানাডিয়ান সোসাইটি অব সিনেমাটোগ্রাফির সহযোগী সদস্য ছিলেন।

তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিবিসির ভিডিওগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। এটিএন নিউজে যোগ দেয়ার আগে তিনি কানাডার রিয়েল টেলিভিশনের হেড অব ব্রডকাস্ট অপারেশন্স হিসেবে দীর্ঘ আট বছর কাজ করেন।
তারেক মাসুদ পরিচালিত রানওয়ে ছবিতে প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছিলেন মিশুক। এছাড়া তিনি রিটার্ন টু কান্দাহার, ওয়ার্ডস অব ফ্রিডম প্রামাণ্যচিত্রগুলোতেও কাজ করেছেন।

যেভাবে দুর্ঘটনা: ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট শনিবার মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শালজানা গ্রামে কাগজের ফুল ছবি স্যুটিং স্পট দেখে ঢাকা ফেরার পথে সাড়ে ১২টার দিকে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-০৩০২) সঙ্গে বিপরীতমুখী চুয়াডাঙ্গাগামী বিলাশ পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪২৮৮) মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনিরসহ মাইক্রোবাস চালক মোস্তাফিজুর রহমান, প্রোডাকশন সহকারী মোতাহার হোসেন ওয়াসিম ও জামাল হোসেন নিহত হন।

এ দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, শিল্পী ঢালী আল-মামুন ও তার স্ত্রী দিলারা বেগম জলি এবং তারেক মাসুদের সহকারী মনীশ রফিক আহত হন।

সর্বশেষ