ঈদে বাবা-মাকেই চায় মেঘ

বৃহস্পতিবার, ০৮/০৮/২০১৩ @ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

megh(৮ আগস্ট ২০১৩)- নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মাহের সরোয়ার মেঘ (৭)। গতবারের মতো এবারও বাবা-মাকে ‘বাদ’ দিয়েই কাটবে ছোট্ট মেঘের ঈদ। বাবাকে ছাড়াই যেতে হবে ঈদ জামাতে। অথচ বাবা থাকতে তার হাত ধরেই ঈদের জামাতে যেতো মেঘ। তবে এবার মামাদের সঙ্গে মেঘ ঈদের নামাজ পড়বে বলে জানিয়েছেন মামা নওশের আলম রোমান।

নওশের আলম রোমান বলেন, ‘আমরা তিন ভাই ও মেঘের জন্য একই রকম পাঞ্জাবি বানানো হয়েছে। মেঘকে নতুন জামা কাপড়, জুতা কিনে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এবার ঈদে অনেক কাপড় উপহার পেয়েছে মেঘ। ইতোমধ্যে ঈদকে সামনে রেখে মেঘের জন্য তিন-চারটি পাঞ্জাবি কেনা হয়েছে। এর পাশাপাশি মেঘকে গেঞ্জি, প্যান্ট ও জুতাও কিনে দেয়া হয়েছে। ঈদের অনুভূতি কী তা মেঘ জানে না। তবে নতুন কেনা জামাকাপড় নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত হলেও ঈদে সে বাবা-মাকেই চায়।

রোমান বলেন, ‘এবার মেঘকে নিয়ে আমরা তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাস মসজিদে ঈদের নামাজ পড়বো। দুপুরে সে যাবে নবাবপুরে তার দাদীর বাসায়। তারপর বিকেলে মেঘ তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যাবে আজিমপুর কবরস্থানে। সেখানে মেঘ তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করবে।’

কেমন কাটবে মেঘের এবারের ঈদ তা জানতে চাইলে মেঘের মামা বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে প্রায় সব আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় মেঘ বেড়াতে যাবে। ওর স্কুলের বন্ধুরা দেশের বাড়িতে বেড়াতে গেছে। বন্ধুদের সঙ্গে মোবাইলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবে। ঈদের সময় যাতে মেঘের মন খারাপ না থাকে যেজন্য আমরা চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘মেঘ এখন ছোট। সিনিয়র কেজিতে পড়ে। তাই আমরা যেভাবে বাবা মাকে ফিল করি সে সেভাবে ফিল করতে পারে না। তবে আগের চেয়ে মেঘের মানসিক অবস্থা অনেক ভালো।’

সাগর-রুনির হত্যা মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে রোমান বলেন, ‘সাগর-রুনির মতো জনপ্রিয় দুই সাংবাদিক তাদের বাসায় খুন হওয়ার পর দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। অথচ এ মামলার প্রকৃত একজন আসামিও চিহ্নিত হয়নি। এটা নিহতের পরিবারের জন্য ভীষণ কষ্টের।’

রোমান বলেন, ‘আসামিদের ডিএনএ টেস্ট করার পরও মামলার অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে জানা যায়নি। প্রশাসন থেকেও কিছু জানানো হয়নি। তবে র‌্যাব ফোন করে মাঝে মাঝে মেঘের খোঁজ খবর নেয়।’

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের ধারণা তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে গেছে। তারা আর কোনো কাজ করছে না।’

প্রসঙ্গত, মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব রাজাবাজারের ফ্ল্যাটে খুন হন। তাদের একমাত্র ছেলে পাঁচবছর বয়সী মাহিন সরওয়ার মেঘ। সর্বপ্রথম মেঘই হত্যাকাণ্ডের খবর মোবাইলে তার নানি নূরুন্নাহার মির্জাকে জানায়।

দীর্ঘদিনেও এই হত্যার কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এখনও আন্দোলনে রয়েছে সাংবাদিক সমাজ।

সূত্র- বাংলামেইল