ঈদ এবং কাজ যার চলে সমানতালে

বুধবার, ০৭/০৮/২০১৩ @ ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

Sharmin luna1(৭ আগস্ট ২০১৩)- মিডিয়ার এই চরম উন্নতির যুগে দেশ-বিদেশের নিউজ হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়। আগের দিনে টিভি নিউজ ছিল শুধু শোনার বিষয়, বর্তমানে যে কোনো ভালো মুভি বা নাটক দেখার চেয়ে দর্শক নিউজ দেখা ও শোনার প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। আর এই আগ্রহের বিষয়টি যারা আকর্ষণীয়, গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ করে তুলেছেন তারা হলেন, বর্তমান প্রজন্মের একঝাঁক তরুণ-তরুণী।

তাদেরই একজন বাংলাভিশনের নিউজ রিপোর্টার শারমিন ইব্রাহিম লুনা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবাবগঞ্জের মেয়ে হলেও ঢাকায় জন্ম। ঢাকার স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করে প্রথমে সাপ্তাহিক পত্রিকায় জয়েন্ট করেন। অতঃপর বাংলাভিশনে । সেখানে রিপোর্টার হিসেবে সাত-আট বছর ধরে কর্মরত আছেন। এই কয়েক বছরে রাজনৈতিক নানা পটপরিবর্তনে দারুণ সব ঘটনার সাক্ষী নিউজ রিপোর্টার শারমিন ইব্রাহিম লুনা।

কাজের কারণে দৌড়ঝাঁপ, সময়ে অসময়ে যখন-তখন যেখানে-সেখানে নতুন সংবাদ সংগ্রহে দৌড়াতে হয়। ভীষণ ব্যস্ত জীবনযাপন। তার পরও একজন সংবাদকর্মীকে ঈদ করতে হয়। ঢাকায় বসবাস করা সংবাদকর্মীরা ঈদে সাধারণত ছুটি পান না। তাই এসব রিপোর্টাররা অ্যাসাইমেন্ট অনুযায়ী চলে যান যার যার কাজে। একবার জোট সরকারের আমলে ঈদের সময় ছুটি পেয়েছিলেন কিন্তু দু’দলের সংলাপ নিয়ে বৈঠক বসবে বলে ঠিক ঈদের পরদিন সব রিপোর্টারের ছুটি বাতিল হয়ে যায়।

সেবার লুনা কুমিল্লায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তড়িঘড়ি করেই ঢাকায় ফিরে রিপোর্ট সংগ্রহে নেমে যেতে হয়। তবে ঈদে মুসলিম স্টাফদের সাধারণত ছুটি দিয়ে দেন। কখনো ঈদের আগের রাতে যারা নাইট করেন তাদের জন্য ঈদের দিন সকালে খাবার নিয়ে অফিসে যাই। ঈদের দিনে কাজ সাধারণত হালকা বিনোদনমূলক হয়। অফিসের সবার সাথেই কুশল বিনিময় হয়। খাবার-দাবারের আয়োজন থাকে। খুব মজা হয়। ডিউটি অবশ্য করতে হয় পুরো আট ঘণ্টাই। এরপর ফিরে এসে বাসায় সবার সাথে ঈদের আনন্দ।

লুনা খুবই কৃতজ্ঞতার সুরে বলেন, আজকে আমার এই অবস্থানে আসার পেছনে মা খায়রুন্নেছার অবদান অস্বীকার্য। মা আমাকে সহযোগিতা না দিলে আমি কখনো এই কাজটি করতে পারতাম না। অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এই কাজ করতে দিন রাত যখন-তখন যে কোনো মুহূর্তে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়, সংগ্রহ করতে হয় প্রতি মুহূর্তের তরতাজা খবর। তা ছাড়া আমার স্বামী তবির এ-নূরও মানসিক সাপোর্ট দিয়ে থাকেন সব সময়। বাবা মারা গিয়েছেন। মার এই একাকিত্ব সময়টা আমার মেয়ে আজরিনকে নিয়েই কেটে যায়। ঈদে আমি তেমন কিছু রান্না করি না, যেহেতু মা আছেন।
সূত্র: নয়া দিগন্ত

সর্বশেষ