পত্রিকার দিন ঘনিয়ে আসছে, ভবিষ্যদ্বাণী ওবামার

শুক্রবার, ০২/০৮/২০১৩ @ ৯:০০ অপরাহ্ণ

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

obama_smile1(২ আগস্ট ২০১৩)- সকাল সকাল সাইকেলের ‘ক্রিং’৷ মানে, এসে গিয়েছে কাগজ৷ সংবাদপত্র।পত্রিকা৷ হয়তো দো-তলার বাড়ান্দায় পড়ে আছে৷ নয়তো সদর দরজার কোণে৷ তারপর চায়ের কাপ হাতে ঝটিতে হেডলাইন পড়ে ফেলা৷ দিনশুরুটা এভাবেই হয়ে এসেছে এতদিন৷ কিন্ত্ত হঠাৎ যদি ছেদ পড়ে সেই রুটিনে৷ হঠাৎ যদি পত্রিকা না আসে আর? ‘ভেবেই অস্বস্থি হচ্ছে’ মন্তব্য এক কেরানির৷ আমেরিকার সর্বাধিক প্রচারিত এক সংবাদপত্রের চোখ বুলিয়ে দিন শুরু করেছেন এতকাল৷ এতকাল বলতে? জানালেন ‘প্রায় চল্লিশ বছর৷’ গলায় হতাশা৷

কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারের মন্তব্য৷ সাক্ষাৎকারে ওবমা বলেন,’পত্রিকার দিন শেষ৷’ বুধবারের এই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘কাগজ বিক্রির হিসাব কমছে৷ হালফিলের কাগজগুলো টিমটিম করে টিকে আছে৷ কিন্ত্ত পড়তি কারখানার মতো এই টিকে থাকার সঙ্গে কখনওই স্বর্ণযুগের সংবাদপত্রের দাপটকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না৷’

ওবামার-র ভবিষ্যৎ বাণীটি নিয়ে শোরগোল গোটা দুনিয়ায়৷ উল্লেখ্য, সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় নামকরা একটি সাইটে৷ আর সংবাদপত্রে মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে ইন্টানেটের রমরমাকেই দায়ী করেছেন ওবামা৷কিন্ত্ত সিনেমার জন্মের পরও তো সমানভাবেই ছিল বইয়ের আকর্ষণ? মানুষ তো ভুলে যায়নি বই পড়তে? তবে কেন ইন্টারনেট কেড়ে নেবে সংবাদপত্রের গুরুত্ব? ওবামার ছোটো-হাসি জবাব, ‘কারণটা সহজ৷ ব্যবসা৷ ‘তারপর ছোটো বিরতি নিয়ে তার মন্তব্য, ‘দেখুন, মধ্যবিত্তের সুখের দিন গিয়েছে৷রোদে পিঠ দিয়ে বসে খবরকাগজ পড়াটা এখন বিলাসিতা৷’তার মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক নয়৷

হিসাব বলছে, আমেরিকায় হাতে গোনা কয়েকটি কাগজের ভালো বিক্রি আছে৷কিন্ত্ত সেটুকু দিয়ে কী ঠোকানো যাবে খবর কাগজের আয়ু? ফলে ওবামার দাবি ‘মৃত্যু ঘণ্টা বেজে গিয়েছে৷’

এ দিকে, আমেরিকার একের পর এক সংবাদপত্র দপ্তরগুলির দরজায় তালা ঝুলছে৷বেকার হচ্ছেন শয়ে শয়ে সাংবাদিক৷ কাজ হারিয়ে পথে বসছেন অসংখ্য ছাপাখানারকর্মী৷ বিজ্ঞাপনদাতারাও অধিক ভরসাযোগ্য মনে করছেন সাইটগুলিকেই৷নিয়মিত সেখানেই বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন তারা৷ ফলে, শুকিয়ে যাচ্ছে খবর কাগজ৷ শুকিয়ে যাচ্ছে, সাদাপাতার ওপর কালো কালো অক্ষরের বর্ণময় জাদু৷ছাপার কালির গন্ধ৷

বিশেষজ্ঞরা যদিও গোটা বিষয়টিকে নতুন প্রজন্মের পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন৷ তাদের মতে, আই-প্যাড স্ক্রিনের পর্দায় ভেসে ওঠা নিউজ আপডেটে অভ্যস্থ জেন-ওয়াইয়ের কাছে কাগজের পাতা ওল্টানোটা সত্যিই ‘বিলাসিতা’৷পাশপাশি তাদের মন্তব্য, এই প্রজন্ম সচেতন থাকতে চায় না৷ চায় হাতগরম গল্প৷ খবরকাগজ পড়লে সচেতনতা বাড়েতো ঠিকই, সেই সঙ্গে বাড়ে সাক্ষরতাও৷ ফলে, সহজেই বোঝা যায়, কেন কাগজেরপাতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এই প্রজন্ম৷

কিন্ত্ত নিয়মিত কাগজ-পড়ুয়া মার্কিনদের মুখ বেশ ফ্যাকাশে হয়েছে ওবামার মন্তব্যে৷ কিছুতেই তারা বুঝতে পারছেন না, কীভাবে মুছে দেবেন এতকালের অভ্যাস৷ এক পোশাক বিক্রেতার মন্তব্য, ‘নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার মতোই রক্তে-মজ্জায় মিশে আছে এই অভ্যাস৷ কীভাবে উপড়ে ফেলব সেটা?’ সেই সঙ্গে খবর কাগজবন্ধ হলে কাজ হারাবেন অসংখ্য কাগজ বিক্রেতা৷ তাই ওবামা যতোই বলুন, ‘খুচরো বিক্রির কোনো দ্রব্য আর খবর কাগজের মধ্যে বিশেষ ফারাক নেই’৷ পাঠকের কাছে ‘প্রাণবায়ু’ হয়ে ওঠা খবর কাগজের ভবিষ্যত্হীনর তার নিয়ের তার মন্তব্য হতাশ করেছে দেশবাসীকে৷