জাস্ট নিউজের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চার্জশিট

বৃহস্পতিবার, ০১/০৮/২০১৩ @ ১১:০৩ অপরাহ্ণ

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

sumon cat(১ আগস্ট ২০১৩)- সম্পৃক্ত না থেকেও চুরির মামলায় আসামি করে জাস্ট নিউজের অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের নামে আদালতে মিথ্যা অভিযোগ পত্র দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তবে এ ঘটনার পর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার বলছেন ভুল করে সুমনের নাম চার্জশীটে চলে গেছে। কিভাবে ভুল করে চার্জশিটে সুমনের নাম গেছে সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) চোরাচালান ও জালিয়াতি প্রতিরোধ টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান ২৫ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অনলাইন নিউজ এজেন্সি ও নিউজ পোর্টাল জাস্ট নিউজ’র অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনসহ চার জনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনেন।

জানা যায়, গত বছরের ১২ জুলাই খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাছি গ্রামের মোহাম্মদ আসিফুজ্জামান একটি চুরির মামলা করেন। বাদী মামলার এজাহারে জানান, তার বোনের ছেলে মালয়শিয়া পড়–য়া জাহিদ রেজা বাসে করে যাওয়ার সময় তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, পাসপোর্ট, টিকিট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র গাবতলী এলাকা থেকে হারিয়ে যায়। ওই মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন ওরফে অরণ্য পাশা ওই সব জিনিসপত্র পেয়েছে জানিয়ে মোবাইল ফোন করে সেসব ফেরত নিতে বলে।

মামলার বাদীর দাবি, রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাজার সামনে ১৩ জুলাই রাত ৮টার সময় ওইসব জিনিস ফেরত দেওয়ার জন্য তাদের ডেকে এনে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে আসামিরা। আর সে সময়ই গোয়েন্দা পুলিশ চোরাচালান প্রতিরোধ দলের সহকারী কমিশনার মোহম্মাদ কামাল হোসেনসহ তার দলের সদস্যরা আসামিদের মারধর করতে থাকলে সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন সাদা পোষাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা কারা? ওদের মারছেন কেন? –এ কথা বলার পর পরই এসি কামালের নির্দেশে তাকেও আটক করে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে সেখানে তাদের দু’দিন আটকে রাখার পর সুমনসহ অপর তিন আসামিকে চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় ডিবি পুলিশ। চোরাই মালামাল হিসেবে ডিবি উদ্ধার দেখায় সুমনের ব্যবহার করা অফিসিয়াল ল্যাপটপ। যা আদালতের নির্দেশে সুমনকে ফেরৎ দেয় ডিবি পুলিশ।

এ ঘটনায় ক্রাইম রির্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এর প্রতিবাদ জানালে আইজিপি’র নির্দেশে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিলেও সে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আজও জমা দেননি সংশ্লিষ্টরা। সে সময়ের ডিসি ডিবি (উত্তর) মোল্লাহ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং সাংবাদিক সুমনের নামে মিথ্যা মামলার ঘটনায় অভিযোগপত্র থেকে নাম প্রত্যাহারের কথাও বলেছিলেন।

এদিকে ২৫ জুলাই আদালতে দাখিল করা ওই মামলায় অভিযোগপত্রে সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনসহ আনোয়ার হোসেন, আকরাম হোসেন ও আব্দুল হামিদকে আসামি করা হয়। স্বাক্ষী করা হয় ১৪ জনকে।

অভিযোগপত্র দেওয়ার ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ উত্তর এর উপ পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভুল করে সুমনের নাম চার্জশীটে চলে গেছে। কেন মামলার তদন্তকারী ভুল করে তার নাম অভিযোগ পত্রে অর্ন্তভুক্ত করলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মামলার বাদী যেদিন চুরির কথা বলে জিডি করেছিলো সেদিন (১২ জুলাই ২০১২) জাস্ট নিউজের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান ছিলো রাজধানীর ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচার সেন্টারে। সুমন সেখানে বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপস্থিত ছিলো।