সুপ্রিমকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য আর কত অপেক্ষা

সোমবার, জুলাই ২৯, ২০১৩

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

jamuna tv(২৯ জুলাই ২০১৩)- `সুপ্রিমকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য আর কত অপেক্ষা’- এই শিরোনামে ২৩ জুন দৈনিক যুগান্তর একটি প্রতিবেদন ছাপে। যমুনা টিভি নিয়ে এ পর্যন্ত যা হয়েছে তা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনটিতে। প্রেসবার্তার পাঠকদের জন্য রিপোর্টটি এখানে প্রকাশ করা হল।

`সুপ্রিমকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য আর কত অপেক্ষা

যমুনা টিভি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় গত দেড় বছরেও সুপ্রিমকোর্ট থেকে পাওয়া যায়নি। দেশের বিশিষ্ট আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং যমুনা টিভির সাংবাদিক-কর্মচারীরা এ অবস্থায় গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তারা জানতে চেয়েছেনÑ একটি রায়ের জন্য আর কত কাল অপেক্ষা করতে হবে? শুধু একটি রায়ের জন্য, আজ যমুনা টিভির পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষেরও ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। অথচ হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট থেকে যমুনা টিভির পক্ষে এর আগে ৭ বার রায় হয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের ফুল বেঞ্চের রায় হয়েছে ৩ বার। কিন্তু ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বরের পর থেকে সুপ্রিমকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় ঝুলে রয়েছে। দেশের আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং যমুনা টেলিভিশনের পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারী এবং দেশের বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ মনে করেন এটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ আদালতের যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পাবেন কিভাবে? আর মানুষ যদি ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়, তবে সেই সরকার ও বিচারালয়ের প্রতি মানুষের আস্থাই বা থাকবে কিভাবে? একটি গণতান্ত্রিক দেশের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে বিচার ব্যবস্থা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান আশ্রয়স্থল এটি। যে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার আইন দ্বারা সংরক্ষিত হয় না, সে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সুফলই বা মানুষ ভোগ করবে কিভাবে?

‘বিলম্বিত বিচার, বিচার না পাওয়ারই শামিল’- উক্তিটিই এক্ষেত্রে বারবার সত্য বলে প্রমাণিত হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। যমুনা টিভির সাংবাদিক-কর্মচারীরা এ প্রবাদের নিষ্ঠুর শিকার হয়ে আজ অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০০২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তারা ন্যায় বিচারের স্বার্থে যমুনা টিভির অনুমতির বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়েও সুবিচারের আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনেও সুফল পাচ্ছেন না। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইনি লড়াই করতে করতে যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষও রীতিমতো হতাশাগ্রস্ত ও ক্লান্ত।

রফিক উল হক: দীর্ঘদিনেও যমুনা টিভির রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতে স্বাক্ষর না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে প্রবীণ আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেন, এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। ন্যায় বিচারের পরিপন্থী।

খন্দকার মাহবুব হোসেন: সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির পর পর দুইবার নির্বাচিত সভাপতি ও বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ইদানীং আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা যেখানে জনস্বার্থ জড়িত রয়েছে ও মানুষের রুটি-রুজি নির্ভর করে, সেক্ষেত্রেও রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করছে। যমুনা টিভি এবং অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ও দীর্ঘদিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ আকারে প্রকাশ না করায় সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী।

প্রবীণ এ ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, মানুষ বিচার বিভাগে আসে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য। সে বিচার যদি বিলম্বিত হয়, তাহলে সাধারণভাবেই বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। আস্থার অভাব দেখা দেয়। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেই দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ প্রত্যাশার পর মামলার শুনানি শেষে উচ্চ আদালত যখন একটি রায় দেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই পূর্ণাঙ্গ রায়টি দ্রুত পাওয়ার প্রত্যাশা করেন বিচারপ্রার্থীরা। কিন্তু তা হচ্ছে না।

মওদুদ আহমদ: যমুনা টিভির রায়ের কপিতে স্বাক্ষরের দীর্ঘসূত্রতা ব্যাপারে সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকুক এটা কেউ চান না। এক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের জবাবদিহিতার প্রশ্ন এসে যায়। নিু আদালতের ব্যাপারে আইনেই বলা আছেÑ রায়ে সাত দিনের মধ্যে স্বাক্ষর করতে হবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যে। সুপ্রিমকোর্টের যে রুলস আছে তাতেও বলা আছে, কিন্তু কত দিনের মধ্যে স্বাক্ষর করতে হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা নেই। যার ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
তিনি ৭ম সংশোধনী, ৫ম সংশোধনী মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, এসব মামলার রায় ঘোষণার দীর্ঘদিন পর রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতে স্বাক্ষর হয়েছে। অনেক বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর রায়ে স্বাক্ষর করেন। অনেকেই এটা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন। তাছাড়া তাহের হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেয়া রায়ের কপিতে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী যখন স্বাক্ষর করেছেন, তখন তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি। এখন প্রশ্ন এসে যায়, কিভাবে আপিল বিভাগের বিচারপতি হয়ে হাইকোর্টের রায়ে স্বাক্ষর করেন? সব মিলিয়ে অরাজক অবস্থা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতিকে উদ্যোগ নিতে হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ ও রুটি-রুজির প্রশ্ন জড়িতÑ এমন সব মামলার রায় যেন দ্রুতই স্বাক্ষর করা হয়। প্রয়োজনে সুপ্রিমকোর্ট রুলসে পরিবর্তন এনে নিু আদালতের মতো সুপ্রিমকোর্টের জন্যও রায়ের কপিতে স্বাক্ষরের সময়সীমা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

ড. শাহদীন মালিক: বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, ইদানীংকালে রায়ের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচার বিভাগের ওপর ক্রমহ্রাসমান আস্থা আরও হ্রাস পাচ্ছে। এ দীর্ঘসূত্রতা কমানোর জন্য কেন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয় না তা বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, রায়ের কপিতে দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য যদি প্রশাসনিক বা তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে সহকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজন হয় তাহলে সেক্ষেত্রে কয়েকজন নিয়োগের ব্যবস্থা করা সুপ্রিমকোর্টের জন্য কোনো কঠিন কাজ নয়। অর্থাৎ অবিলম্বে রায়ের কপি পেতে যে বিলম্ব এটা কোনো অবস্থাতেই তিন মাসের অধিক না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া বিচার বিভাগের জন্য অবশ্যকরণীয় হয়ে গেছে।

আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদও শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিচারে বিলম্ব বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিচারের চেয়ে অবিচারই সৃষ্টি করে। জনগণের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

বিচারপ্রার্থীর চরম ভোগান্তি ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির একটি করুণ দৃষ্টান্ত হচ্ছে যমুনা টিভি মামলা। এ মামলায় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায় বিগত দেড় বছরেও হাতে পাননি বিচারপ্রার্থীরা। ফলে এরই মধ্যে যমুনা টিভির শত কোটি টাকার মূল্যবান ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ গত প্রায় দেড় বছর ধরে যমুনা টেলিভিশনের সব সাংবাদিক-কর্মচারীকে বসিয়ে বসিয়ে বেতন-ভাতা পরিশোধ করে যাচ্ছে। ফলে তারা বিপুল অংকের টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। যমুনা টিভির পক্ষে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ৭ বার রায় হলেও আজ পর্যন্ত সেই মামলার বেড়াজাল থেকে কর্তৃপক্ষ এবং সাংবাদিক-কর্মচারীরা রেহাই পাচ্ছেন না। সর্বশেষ ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর আপিল বিভাগের আংশিক রায় দেয়া হয় এ মামলায়। এরপর থেকে দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়া যাচ্ছে না। যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ এবং কর্মরত সাংবাদিক-কর্মচারীরা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে না পাওয়ায় সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। একই সঙ্গে যমুনা টিভির জন্য শত কোটি টাকা বিনিয়োগ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে যমুনা গ্র“পও কোটি কোটি টাকা গচ্চা দিয়ে বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। যমুনা কর্তৃপক্ষ এবং কর্মরত সাংবাদিক-কর্মচারীরা এ চরম অনিশ্চয়তার অবসান চান। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তি চান। যত তাড়াতাড়ি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়া যাবে, ততই দ্রুত এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

যমুনা শিল্পগোষ্ঠী এদেশের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে যমুনা গ্র“পের মালিকানাধীন প্রায় ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সুনামের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ধরনের অবদান রেখে চলেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যমুনা গ্র“প দেশের বেকার সমস্যা সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। যমুনা গ্র“পের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০২ সালে বিএনপি জোট সরকারের আমলে টেরিস্ট্রিয়াল ও স্যাটেলাইট সম্প্রচারের জন্য ‘যমুনা টিভি’ অনাপত্তিপত্র পায়। ২০০৪ সালে নানা বিষয়ে সরকারের সঙ্গে মতের গরমিল দেখা দেয়ায় তৎকালীন সরকার যমুনা টিভির অনাপত্তিপত্র আকস্মিকভাবে বাতিল করে চিঠি দেয়। এরই আলোকে বিটিআরসিও তরঙ্গ বাতিলের চিঠি দেয়। এ দুটি চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে যমুনা কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করে। হাইকোর্ট তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির দুটি চিঠিকেই অবৈধ ঘোষণা করে যমুনা টিভির পক্ষে রায় দেন। ২০০৫ সালের ১৬ মে বিচারপতি আবদুর রশিদ ও বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহম্মেদের সমন্ব^য়ে গঠিত বেঞ্চের দেয়া এ রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, তথ্য মন্ত্রণালয় লাইসেন্স ইস্যু করে না। তথ্য মন্ত্রণালয় অনাপত্তিপত্র দেয়, যার মেয়াদ অনন্তকাল বা সীমাহীন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকার আপিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগও যমুনা টিভির পক্ষে দেয়া হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখেন।

আপিল বিভাগের এ রায়ের পরও সরকার রিভিউ আবেদন করে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে আবারও যমুনা টিভির পক্ষেই রায় ঘোষণা করা হয়। এভাবে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে পর পর ৭ বার যমুনা টিভির পক্ষে রায় ঘোষিত হলেও বিটিআরসি তরঙ্গ বরাদ্দের অনুমতি দিতে গড়িমসি শুরু করে। এ অবস্থায় যমুনা কর্তৃপক্ষ বিটিআরসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলা দায়ের করলে ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর বিটিআরসি যমুনা টিভিকে তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়ে শর্ত জুড়ে দেয় যে, ২০০৯ সালের ২০ নভেম্বরের মধ্যে সম্প্রচারে যেতে হবে। বিটিআরসির এ শর্ত মোতাবেক যমুনা কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে শত কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি ও প্রতিস্থাপন করে এবং শর্তের নির্ধারিত তারিখের আগেই যমুনা টিভি পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু করে। কিন্তু হঠাৎ করেই ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর বিটিআরসি তথ্য মন্ত্রণালয়ের একই তারিখের একটি চিঠি, যাতে বলা ছিলÑ ‘যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ স্যাটেলাইট পদ্ধতিতে সম্প্রচারের পুনঃঅনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করেছে। ওই আবেদন বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় যমুনা টেলিভিশনের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার আইনসম্মত নয়’ এর উদ্ধৃতি দিয়ে যমুনা টিভির পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বন্ধসহ ফ্রিকোয়েন্সি (তরঙ্গ) বরাদ্দ বাতিল করে এবং সম্পূর্ণ অবৈধভাবে রাতের আঁধারে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও লোকজন এসে সম্প্রচারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি জব্দ করে নিয়ে যায়।

বিটিআরসির এ একতরফা, অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয় যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ। যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ তথ্য মন্ত্রণালয়ের ১৯ নভেম্বরের এবং বিটিআরসির একই তারিখের তরঙ্গ বাতিল ও পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বন্ধের চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিন দিন পর ২২ নভেম্বর ২০০৯ হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করে। ওই রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট ২০১০ সালের ২০ মে রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ে বলা হয়, তথ্য মন্ত্রণালয় যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষের পুনঃঅনাপত্তিপত্রের আবেদনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেলে রাখতে পারে না। তাই ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবরের পুনঃঅনাপত্তিপত্রের আবেদনটি বিবেচনা করে নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২০০৫ সালের ১৬ মে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয় অনাপত্তিপত্রের মেয়াদ অনন্তকাল। কাজেই পুনঃঅনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদনের কোনোই প্রয়োজন নেই এবং যমুনা কর্তৃপক্ষ এমন আবেদনও করেনি। যেহেতু তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে যমুনা টিভিকে অনন্তকালের জন্য অনাপত্তিপত্র দেয়া হয়েছে তাই পুনঃঅনাপত্তিপত্র দেয়া বা এজন্য সরকারকে বলারও কোনো প্রয়োজন নেই। তারপরও ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়ায় যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করে। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আপিলের অনুমতি দেন। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আপিলটি যথাক্রমে ২০১১ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি ও ১৫ মার্চ শুনানির পর ১৬ নভেম্বর রায় প্রদানের দিন ধার্য করেন। পূর্বনির্ধারিত তারিখে মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুধু ‘দ্য আপিল ইজ অ্যালাউড ইন পার্টি’ বাক্যটি বলে আপিলটি নিষ্পত্তি করেন। ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর ঘোষিত ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বিগত দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও হাতে পাওয়া যায়নি।