নাদিয়াকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

রবিবার, ২৮/০৭/২০১৩ @ ৩:১৪ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

Nadia Sharmeen-5(২৮ জুলাই ২০১৩)- একুশে টিভির ক্রাইম রিপোর্টার নাদিয়া শারমিনের উপর হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে কেন আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে তাকে বিনামূল্যে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডিজি হেলথ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনের মামলা তদন্তের দায়িত্ব গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দিতে বলেছে হাই কোর্ট।

রোববার বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এছাড়া তদন্তের জন্য মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তরে সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক, গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে।

এসব নির্দেশ বাস্তবায়নে কতোটা অগ্রগতি হলো তিন সপ্তাহের মধ্যে তা আদালতকে জানাতে হবে।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রোববার সকালে এই রিট আবেদন জমা দেন। রিটে বাদী হিসাবে অ্যাডভেকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠে ‘ভাঙ্গা পা নিয়ে বিছানায় সাংবাদিক, পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনও আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন বাদী।

গত ৬ এপ্রিল মতিঝিলে হেফাজতে ইসালামের সমাবেশ চলাকালে দায়িত্ব পালনের সময় হামলায় আহত হন একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক নাদিয়া।

জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়, “শুক্রবার ইটিভির রিপোর্টার নাদিয়া শারমিনের সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট ঘরের আরও ছোট কামরায় শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। আগের সেই ব্যস্ততা নেই। সকালে হুড়োহুড়ি করে অফিসে যাওয়ার ব্যাপার নেই। এমনকি গোসল করতে পারেন না। নাওয়া-খাওয়া সব বিছানায়। তার ডান পায়ে প্লাস্টার। সিমেন্টের পিলারের মতো শক্ত পায়ের ওজন এতো যে, হাতের সাহায্য নিয়ে নাড়াতে হয়।

নাদিয়াকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, হেফাজতী হামলায় তার পায়ের দুটো লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। সেই সঙ্গে চিড় ধরে হাঁটুর জোড়ায়। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসকরা ওই সময় একবার হাঁটুতে অপারেশন করেন। গত ১ জুলাই হয় দ্বিতীয় দফা অপারেশন।

হামলার পর শাহবাগ থানা পুলিশ একটি মামলা করলেও গত তিন মাসে তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন নাদিয়া।

আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত রায়।