সংবাদে বিনা নোটিসে সাংবাদিক ছাটাই

শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন ::

sangbad logo(১৯ জুলাই ২০১৩)- বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ এবং ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করায় বিনা নোটিসে কর্মী ছাটাঁই করছে দেশের সবচেয়ে পুরোনো দৈনিক সংবাদ। গতকাল কোন নোটিস ছাড়াই জাতীয় ডেস্কের সহ-সম্পাদক কামাল শাহরিয়ারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নিজেদের শ্রমিক পক্ষের পত্রিকা দাবি করা হলেও সংবাদের কর্মীরা বেতনভাতা নিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এসব নিয়ে কথা বললেই কর্মীদের কোন কারণ ছাড়াই ছাটাই করা হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারীতে দৈনিক ভোরের ডাক ছেড়ে সংবাদ-এ যোগ দেন কামাল শাহরিয়ার। এর আগে তিনি দৈনিক ইত্তিফাকে প্রদায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। সংবাদে যোগদানের প্রথম মাসেই তার নিয়োগপত্র দেয়ার কথা থাকলেও দেড় বছরেও তা দেয়া হয়নি। এনিয়ে তিনি বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগযোগ করেও কোন সুরাহা হয়নি। নিয়োগপত্র ও ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন বাস্তবায়নের দাবিতে বেশ কয়েকবার আবেদন করেন। কিন্তু পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের পদক্ষেপ না নিয়ে কালক্ষেপণ করে।
এর সঙ্গে সম্প্রতি কর্মীদের বেতন ভাতা পরিশোধে তালবাহান শুরু করে মালিকপক্ষ। এনিয়ে গত কয়েকমাস ধরে কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। চলতি মাসের প্রথম থেকেই বেতন পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষ বারবার জানালেও কোন ভ্রুক্ষেপ না করায় সাধারণ কর্মীরা অফিসের ভেতর সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে।
এরপ্রেক্ষিতে মালিক পক্ষ পত্রিকাটির কর্মীদের কোন কারণ দর্শানো নোটিস কিংবা বহিস্কারাদেশ না দিয়ে পত্রিকার নিয়মানুযায়ী বেতনভাতা পরিশোধ না করে ছাঁটাই শুরু করে। শুক্রবার কামাল শাহরিয়াকে কোন নোটিস না দিয়েই তাকে চাকরিচ্যুত করে। এমনকি কেউ এ বিষয়ে কথা বললে তাদেরকেও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়ে মালিকপক্ষ। এনিয়ে সংবাদ কর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে অফিসের কর্মীরা জানান, বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধের জন্য সবার পক্ষ হয়ে ইউনিট প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছিলেন কামাল। তিনি ইউনিট প্রধানের কাছে যখন সবার পক্ষে কথা বলছিলেন তখন সাধারণ কর্মীরা বেতন পরিশোধের জন্য বিক্ষোভ করছিল এবং কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিলেন।

এরপর হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার কামাল শাহরিয়ারকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতে সে রাজী না হওয়ায় শুত্রবার কোন নোটিস না দিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এনিয়ে তারা পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি কামাল শাহরিয়াকে ফিরিয়ে আনা না হলে তারাও একসঙ্গে গণপদত্যাগ করবেন বলেও জানিয়েছেন সম্পাদককে।

নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েক কর্মী বলেন, আমরা আরও সাত দিন অপেক্ষা করবো। এরমধ্যে যদি কামাল শাহরিয়ারকে তার পদে বহাল না করা হয়, তাহলে আমরা একযোগে পদত্যাগ করবো। এছাড়াও কর্মীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন, প্রেসক্লাবে মানববন্ধন এবং অনশনে যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

এ ব্যাপারে কামাল শাহরিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নিয়মিতভাবে বেতনভাতা পরিশোধে মালিক পক্ষের সঙ্গে বসার জন্য আমাদের ইউনিট চীফ অজয় বড়–য়ার সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সবার দাবির বিষয়ে তাকে অবহিত করেছি। এমনকি পত্রিকাটির ভালোর জন্যই নানা বিষয়ে আলোচনা করেছি- যোগ করেন তিনি।

কামাল জানান, ঐতিহ্যের এই পত্রিকাটি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কথা বলার জন্য জন্ম নিয়েছিল। নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য পত্রিকাটি বের হয়েছে। কিন্তু সেই আদর্শে থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ছে সংবাদ। নিজেদের কর্মীদের বেতনভাতা বোনাস নিয়ে যাচ্ছে-তাই শুরু করছে মালিক পক্ষ। এটা নিয়ে কথা বলার অপরাধে কোন নোটিস ছাড়াই আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বিনা নোটিসে ছাটাই নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে অবৈধ এবং শ্রম আইনকে বৃর্দ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজনকে হুমকি দেয়া হয়েছে কথা বললে চাকরি চলে যাবে। এর আগেও বেশ কয়েকজন রিপোর্টার ও সহ-সম্পাদককে কোন কারণ ছাড়াই বেতন ভাতা পরিশোধ না করে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই ব্যাপারটি হয়তো কর্মীরা মেনে নিতে পারছে না, তাই তারা কিছু করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে আমার জন্য শুধু নয়- সকল কর্মীর জন্যই সংবাদের মালিক ও তাদের আজ্ঞাবহ শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের মুখোশ খুলে দেয়া উচিত, যাতে আর কেউ তাদের রোষানলে না পড়ে।