আজ বিশ্বক্রীড়া সাংবাদিক দিবস

মঙ্গলবার, জুলাই ২, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

aipstrt(০২ জুলাই ২০১৩)- আজ বিশ্বক্রীড়া সাংবাদিক দিবস। বাংলাদেশসহ ১৬৭টি দেশে এদিনে দিবসটি পালিত হয়। আধুনিক বিশ্বে ক্রীড়া সাংবাদিকতার ভূমিকা এবং গুরুত্ব কারও অজানা নয়। বর্তমান সময়ে খেলাধুলা হচ্ছে একটি বড় ধরনের সংবাদ। পত্রিকার পাতা খুলেই সরাসরি খেলায় পাতায় চলে যাওয়ার সংখ্যাও আজ কম নয়। ক্রীড়া সাংবাদিক এবং ক্রীড়া লেখকরা হলেন ক্রীড়াঙ্গনের চোখ, মানুষের শব্দ এবং কণ্ঠস্বর। খেলাধুলা এখন তো আলাদা একটা জগৎ। আর এই বর্ণময় জগতের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অনেক অনেক বেশি। ক্রীড়া সাংবাদিকতা আর ক্রীড়াঙ্গন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনাও করা যায় না।

উল্লেখ্য ১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সে এআইপিএস (ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস এসোসিয়েশন) গঠিত হয়। সেই হিসেবে ২ জুলাই বিশ্বের ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়া লেখকদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একমাত্র সংস্থা এআইপিএসের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৯৫ সাল থেকে এআইপিএসের বিশ্বজুড়ে ‘অ্যাফিলিয়েটেড’ সংস্থাগুলো দেশে বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালন করে আসছে। বর্তমানে এআইপিএস সদস্য দেশের সংখ্যা ১৬৭। আর বাংলাদেশে এর স্বীকৃত সংস্থা হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি। বাংলাদেশে এআইপিএস’র একমাত্র স্বীকৃত ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়া লেখকদের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি এবং তার আঞ্চলিক সংস্থাগুলোও গত ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবারই দিবসটি উদযাপন করেছে।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ক্রীড়াঙ্গনের প্রেক্ষাপট পাল্টে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ক্রীড়া সাংবাদিকতা ও লেখনীর গুরুত্ব অনুভূত হয়। সবকিছুই শূন্য থেকে শুরু করা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বপ্ন নিয়ে। ১৯৭২ সালের ৪ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের দোতলায় তদানীন্তন ‘মর্নিং নিউজের ক্রীড়া সাংবাদিক মি. ডেভিটসনের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান ক্রীড়ালেখক সমিতিকে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি নামে নতুন করে তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়। সেই পূর্ব পাকিস্তান ক্রীড়া লেখক সমিতি কর্তৃক শুরু করা বছরের সেরা খেলোয়াড় পুরস্কৃত করার রেওয়াজ অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি ১৯৭৩ সালের সেরা খেলোয়াড়দের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান প্রথম আয়োজন করে ১৯৭৪ সালে। ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং বিতর্কের উর্ধ্বে এই পুরস্কার এখনও নিয়মিতভাবে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন খেলার ‘ডিসিপ্লিনে’।

১৯৯২ সালের ২৪ মে নভেম্বর বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি সিউলে অনুষ্ঠিত আসপুর কংগ্রেসে (এশিয়ান স্পোর্টস প্রেস ইউনিয়ন) সদস্যপদ লাভ করে। এশিয়ান স্পোর্টস প্রেস ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ক্রীড়া লেখক সমিতি একধাপ এগিয়ে যাওয়ার পর লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় এআইপিএসের সদস্যপদ লাভ। ৭ মে, ১৯৯৩ পূরণ হয় সেই প্রত্যাশা। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি এএসইপিএস-এর সদস্যপদ লাভ করে। আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হওয়ার কারণে দক্ষিণ এশীয় স্পোর্টস প্রেস কমিশন গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতিকে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের দরজা খোলার পর সমিতির সদস্যরা বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের জায়গা করে নিতে থাকেন।