সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন

বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

GOUTOM-(২৭ জুন ২০১৩)- বহুল আলোচিত দৈনিক সমকালের ফরিদপুর ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলায় নয়জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও একবছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ১নং দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক মো. শাহেদ নূরউদ্দিন। গৌতম দাসকে হত্যার প্রায় সাত বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হলো।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- আসিফ ইমরান, আসিফ ইমতিয়াজ বুলু, কাজী মুরাদ, কামরুল ইসলাম আপন, সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, রাজিব হোসেন মনা, আসাদ বিন কাদির, আবু তাহের মর্তুজা ওরফে এ্যাপলো ও তামজিদ হোসেন বাবু। এর মধ্যে আবু তাহের মর্তুজা পলাতক এবং বাকিরা জেলহাজতে রয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী সমকালের স্টাফ রিপোর্টার হাসানুজ্জামান।

সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলাটি চাঞ্চল্যকর বিবেচনা করে ২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট ফরিদপুরের আদালত থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর কয়েক দফা আইনি জটিলতায় এর বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামি পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটির কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এরপর থেকে গত ছয় বছরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়াদে মামলাটির কার্যক্রমের ওপর দফায় দফায় স্থগিতাদেশ জারি করে হাইকোর্ট। এ কারণে সাত বছরের মধ্যে পুরো চার বছরই বন্ধ ছিল এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকলেও আসামি পক্ষের গড়িমসি ও উচ্চ আদালতে তাদের বারংবার ভুলতথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা চেষ্টা করা হয়।

ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়কের সংস্কার ও পুননির্মাণ কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ পরিবেশন করায় সাংবাদিক গৌতম দাসের ওপর ক্ষুব্ধ হয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের মদদপুষ্ট ঠিকাদার ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীচক্র।
প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

(২৭ জুন ২০১৩)- ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর সন্ত্রাসীরা সমকালের ফরিদপুর ব্যুরো অফিসে ঢুকে সাংবাদিক গৌতমকে নির্মমভাবে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ওইদিনই সমকাল পত্রিকার পক্ষে বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সমকালের জেলা প্রতিনিধি হাসানউজ্জামান।

দুইমাস পর ২০০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ফরিদপুরের আদালতে ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম নবী।

গৌতম দাস হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিভিন্ন সময় পুলিশ অথবা র‌্যাব আসামিদের গ্রেপ্তার করে। আসামি জাহিদ পলাতক অবস্থায় ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকার পিজি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে ৯ আসামির মধ্যে ৮ জন আসামি জেলহাজতে রয়েছে। গত ১৯ জুন মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর তাদের জামিন বাতিল করে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন আদালত। এসময় আসামি আবু তাহের মর্তুজা ওই দিন আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাকে পলাতক ঘোষণা করা হয়।

ওই মামলার বাদী হাসানউজ্জামান জানান, আসামি এযাপোলো, আসাদ ও বাবু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত ছেলে হত্যার বিচার না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর গৌতম দাসের মা সতী রাণী দাস এবং ২০০৮ সালের ২৩ নভেম্বর বাবা বলরাম দাস মারা যান।