“ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্যও ওয়েজবোর্ড হবে”

শুক্রবার, ২১/০৬/২০১৩ @ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন ::

inu(২০ জুন ২০১৩)- প্রিন্ট মিডিয়ার মতো ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্যও ওয়েজবোর্ড করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাউথ এশিয়ান উইমেন ইন মিডিয়া (সোম) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নারী সাংবাদিকদের অবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা জানান।

সংগঠনের সভাপতি রাশেদা আমিনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন মিডিয়া কমিশন ও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ড. মিজানুর রহমান শেলী, সাউথ এশিয়ান ফ্রি মিডিয়া (সাফমা) ও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি রিয়াজউদ্দীন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান ফারুক, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা প্রমুখ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “ইলেকট্রনিক মিডিয়া ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।” তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে মালিকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ওয়েজ বোর্ড করা হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

ইনু বলেন, “ইদানীং এমন কিছু কাজ হচ্ছে যা আগে হতো না। এর মধ্যে নারী সাংবাদিকতা। এজন্য তাদের নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়নেও নারীর বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অদক্ষ জনগোষ্ঠী টেনে তোলা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তাই তাদের উন্নত করে তুলতে নারী সাংবাদিকদের কোটা দেয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “দুঃখের সঙ্গে স্বীকার করে নিচ্ছি, রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীর বিষয়টি উপেক্ষিত। নারীর বিষয়ে কোনো আলোচনা আমার জানা মতে হয়নি। অর্থাৎ আমাদের রাজনীতি নারীবান্ধব হয়ে ওঠেনি। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা এ দুটি আসন লিঙ্গ নিরপেক্ষ সিংহাসন। সুতরাং যেভাবে দাবি আদায় হয় সেভাবেই এগুতে হবে।”

মন্ত্রী বলেন, “নারীদের একটি বিশেষ ক্ষমতা আছে। সেটা যদি মেনে নেয়া না হয় তাহলে সমাজ ঠকবে। মাতৃত্বকালীন ছুটি দিয়ে করপোরেট হাউস, মিডিয়া হাউস এবং মিডিয়ার মালিকদের মানতে হবে। নারীদের ক্ষেত্রে চারটি চ্যালেঞ্জ মেনে নিতে হচ্ছে। তাদের মধ্যে একটি লিঙ্গ বৈষম্য। আমাদের সমাজে কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতা রয়েছে তাই নারীদের হীন করে দেখা হচ্ছে।”

ইনু বলেন, “ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজে কিছু ঝুঁকি রয়েছে। তাই এখানে নারীদের বৈষম্য রাখলে চলবে না। নারীদের বাদ দিলে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বন্ধ্যা হয়ে যাবে। তাদের সবধরনের সুযোগ-সবিধার বিষয়টি মালিকপক্ষকে মেনে নিতে হবে।”

আলোচনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাভিশনের নিউজ এডিটর শারমিন রিনভি। প্রবন্ধে তিনি নারী সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা থেকে পরিত্রাণ লাভের কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন।

এছাড়া পরিবেশবান্ধব কর্মস্থল, শারীরিক নির্যাতন বন্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, চিকিৎসা সেবা, সরাসরি পদোন্নতি, প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ দেয়া, পরিবহণ সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, জীবন বিমা, ক্ষতিপূরণ, চ্যানেলে অনুমতি দেয়ার আগে নারী কোটা দেয়ার সুপারিশ করা হয়। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য আলাদা ওয়েজবোর্ড দেয়ারও দাবি জানানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।