সংবাদপত্রে সম্পাদকের ভূমিকা

শুক্রবার, ১৪/০৬/২০১৩ @ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

কাজী তামান্না ::

print mediaপ্রতিটি পেশারই কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। পেশার প্রতি আনুগত্য, সততা, নিষ্ঠা, দায়বদ্ধতা ও জানার আগ্রহ থাকাটা প্রয়োজন। পেশার মাধ্যমেই মানুষ আয়-রোজগারের দ্বারা জীবননির্বাহ করেন। কিন্তু পেশাকে অপব্যবহার করে ফায়দা লোটা অমার্জনীয় অপরাধ বলে আমি মনে করি। কারণ তাতে দেশ-দশের ক্ষতির কারণ ঘটে। বাবা-মার কাজের প্রতিফলন পরিবারে সন্তানদের ওপর ছাপ ফেলে। ডাক্তার, উকিল, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক এদের পরিবারের চিত্র ভিন্ন ভিন্ন আবেষ্টনী তৈরি করে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মর্কর্তা ও সাধারণ কর্মচারীর জীবনাচার ভিন্নরূপে গড়ে ওঠে। ব্যবসায়ীদেরও আলাদা একটা জগত আছে এবং জীবনধারণের জন্য খুব সাধারণ মানুষ রিক্সাচালক, কলকারখানার শ্রমিক, কৃষক, গাড়িচালক নানাভাবে আয় করে। এটা প্রত্যেককে মেনে নিতে হবে, যে পেশায় মানুষ নিজেকে নিয়োজিত করুক, সকলেরই নিজ পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে এবং কিছু নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। তা না হলে দেশ সঠিক পথে চলতে পারে না।

কিন্তু এটাও সত্যি, সকল পেশার দায়বদ্ধতা, কর্তব্যজ্ঞান, জীবনবোধের পরিধি একই মাপকাঠিতে বিচার করা হয় না। যেমন ডাক্তার ব্যক্তি মানুষের সবচাইতে কাছাকাছি আসেন রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য। অপরক্ষেত্রে শিক্ষক পরিবারের বাইরে একান্ত আপন নির্ভরশীল ব্যক্তি যাঁর হাতে বাবা-মা সন্তানকে তুলে দেন প্রকৃত মানুষ করে তুলতে। কিন্তু সাংবাদিকতার গতিপথ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ধারায় চলে। এখানে সমাজের বহু বিজ্ঞানমনস্ক, গুণী, সাহিত্যিক, শিল্পী, সমাজসেবক, রাজনীতির চিন্তাধারার মানুষের মিলনক্ষেত্র তৈরি হয়। ব্যক্তিমানুষ নিজ পেশাকে অতিক্রম করে আপন চিন্তা মেধা জ্ঞান রুচি দ্বারা সমাজকে পরিশীলিত করে পরিচ্ছন্ন স্বচ্ছ সমাজের কাঠামো তৈরির পথকে মসৃণ করে তোলেন। তাই তাঁরা বুদ্ধিজীবী বলে গণ্য হন। বুদ্ধিবৃত্তির চরম প্রকাশ ছাড়া সাংবাদিক হওয়া যায় না।

সংবাদপত্র তা মাসিক পাক্ষিক সাপ্তাহিক কিংবা দৈনিক যাই হোক না কেন তার দায়বদ্ধতা সুদূরপ্রসারী। সমাজের কূপম-ূকতা কুসংস্কার অন্যায় অবিচারের প্রতি সোচ্চার হওয়া সাংবাদিকের কাজ। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, পেছন দিকে ঠেলে দেয়া কখনই সাংবাদিকের কাজ হতে পারে না। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অর্থ যথেচ্ছাচার করা নয়। কোন খবর যদি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল অসত্য ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করার ব্রত নেয় সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র তথা সরকারের অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হবে। তা না হলে অরাজকতা বিশৃক্সখলা, দাঙ্গার কবলে পড়ে সমাজের সুস্থ কাঠামো ভেঙ্গে পড়বে। যেটা এখন আমাদের দেশে হচ্ছে। সব পত্রিকার মতামত রাজনৈতিক চিন্তাধারা একই রকম হবে না। কিন্তু তা অবশ্যই বিরাট জনগোষ্ঠীর মঙ্গলের জন্য হতে হবে। অশুভকে অতিক্রম করে শুভর প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত হওয়াই সাংবাদিকের কাজ।

‘৪৭-এর দেশবিভাগের পূর্বে ও পরে পাকিস্তান আমলে সাংবাদিকতার স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন ইতিবাচক রূপ দেখেছি। সমকালীন আন্দোলনের ভাষা ও জাতির অস্তিত্বের লড়াইয়ের পক্ষে মতামত দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধে বহু সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হয়েছে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করার কারণে। এখন সবই যেন ভুলে গেছি আমরা। ‘৭১-এর ২৬ মার্চে ‘ইত্তেফাক’ ও ‘সংবাদ’ পত্রিকা অফিস আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। অফিসে যাঁরা ছিলেন তাঁরা কয়লায় পরিণত হন। পাকিস্তান দস্যুরা শত্রুর চিহ্ন রাখতে চায়নি। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এত রক্তক্ষয়, এত র্নির্যাতনের কথা ভুলে পবিত্র একটি পেশা সাংবাদিকতাকে হেয় ঘৃণ্য পথে পরিচালিত করতে দ্বিধাবোধ করছি না। কিন্তু কেন?

আমি একজন সাংবাদিকের সন্তান এবং তিনি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তার নাম কাজী মোঃ ইদরিস্। একেবারে ছোট থেকে দেখে এসেছি একজন সাংবাদিক এবং তিনি যদি পত্রিকার সম্পাদক হন তবে তাঁর দায়দায়িত্ব, পরিবারকে ছাপিয়ে বিরাট সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষার ক্ষেত্রে কর্তব্য সম্পাদন করতে হয়। দেশবিভাগের পূর্বে মুসলিম লীগের নেতা আবুল হাশিম সাহেব প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির সঙ্গে সঙ্গে কৃষক মজুর মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক সমস্যা তুলে ধরার মানসে মিল্লাত নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করেন। নিজে হলেন সম্পাদক এবং কাজী মোঃ ইদরিস্ দায়িত্ব নিলেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের।

আবুল হাশিম সাহেব নিজেই তাঁর বইয়ে লিখেছেন তিনি সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতেন এবং সহসম্পাদকই মূলত মিল্লাত পত্রিকার হাল ধরেছিলেন শক্ত হাতে। পত্রিকাটিতে প্রকাশিত সম্পাদকীয় এবং প্রবন্ধে থাকত প্রগতিশীল চিন্তাধারা সংবলিত মূল্যবান আলোচনা। এসব পাঠ করে তদানীস্তন মুসলিম সমাজের মন-মানসিকতা দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছিল। রক্ষণশীলরা কেবল ধর্মীয় সেøাগান দিয়ে তাদের গোষ্ঠীকে ধরে রাখতে পারছিলেন না। এভাবে সংবাদপত্র মানুষের মনন ও চিন্তাকে পরিশীলিত পরিমার্জিত করে। আবার সোহরাওয়ার্দী সাহেব অখ- বাংলার দাবির প্রচারাভিযানে নেমে ‘ইত্তেহাদ’ নামে একটি দৈনিক পত্রিকা বের করলেন।

পত্রিকাটির সম্পাদক হলেন বাংলার বিশিষ্ট চিন্তাবিদ আবুল মনসুর আহমেদ এবং সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ ইদরিস। এই পত্রিকার মাধ্যমে বাংলার যুবসমাজ অখ- বাংলা আন্দোলন জোরদার করেছিল। বাংলা ভাষা আন্দোলনে তার প্রতিফলন দেখা গেছে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে। ওদিকে মওলানা আকরম খাঁ সাহেবের রক্ষণশীল ‘আজাদ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দিন সাহেব। আমাদের ভাইবোনের অসীম সৌভাগ্য আমরা তখনকার মুক্তচিন্তার সব জাঁদরেল, পেশার প্রতি নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকদের কাছাকাছি আসতে পেরেছি।

দেখেছি সর্বজনাব আবুল মনসুর আহমেদ, আবুল কালাম শামসুদ্দিন, ওবায়দুল হক, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ, আহমেদুর রহমান, মোস্তফা নূরুল ইসলাম, খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোঃ ওয়ালিউল্লাহ, সৈয়দ নুরদ্দীন, ফজলে লোহানী, সন্তোষ গুপ্ত, জিয়া হায়দার প্রমুখকে। তাঁদের মেধা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, শুদ্ধ মুক্তচিন্তা, দেশের প্রতি ভালবাসা এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্নেহের সুসম্পর্ক আমাদের চিন্তা-চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই জীনের পাথেয় হয়ে আছে।

দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের ভূমিকা যে কত ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারিত তা দেখেছি কাজী মোঃ ইদরিসের জীবনাচারে। তিনি দুপুরে পত্রিকা অফিসে যেতেন ফিরতেন শেষ রাতে একেবারে সেই দিনে ছাপানো পত্রিকা হাতে নিয়ে। পত্রিকার সম্পাকীয়, উপসম্পাদকীয়, রাজধানী, মফঃস্বলের সব খবর নিজে পুক্সখানুপুক্সখভাবে দেখতেন প্রয়োজনে এডিট করতেন। অধ্যাপক মোস্তফা নূরুল ইসলাম এবং কামাল লোহানী আমাদের বলেছেন তাঁদের লেখায় সম্পাদকের এত লালকালি থাকত অনেক সময় নিজের লেখার হদিস পাওয়া যেত না। তাতে হয়ত ক্ষুন্ন হতেন কিন্তু নিজেকে পাকাপোক্ত সাংবাদিক হিসাবে গড়ে তোলায় সাহায্য করেছে সেটাও স্বীকার করেন। এটাই হলো সম্পাদকের কাজ।

আমরা ভাইবোনেরা কেউ সাংবাদিক হতে পারিনি। তাই শ্রদ্ধেয় আবুল মনসুর আহমেদের কনিষ্ঠ পুত্র মাহফুজ আনাম বিদেশ থেকে এসে দৈনিক ইংরেজী পত্রিকা Daily Star-এর প্রতিষ্ঠিত সম্পাদক হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে দেখে খুব আনন্দ হয়েছে। ভাল লেগেছে। পত্রিকাতে সম্পাদকের ‘মৌলিক চিন্তাধারা এবং শুদ্ধ পরিচ্ছন্ন বোধের পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্ত অত্যন্ত দুঃখ এবং ক্ষোভের সঙ্গে বলতে হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশে অজস্র দৈনিক পত্রিকার সেই নিষ্ঠা, সততা দেশের-দশের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাব। এবং সম্পাদকের অসততা ও দায়িত্বহীনতার চরম প্রকাশ সমাজের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে তাতে বিক্ষুব্ধ না হয়ে পারা যায় না। এমন একটা অতি কুৎসিত মনের প্রকাশ দেখলাম দৈনিক প্রথম আলোর নববর্ষের বিশেষ সাময়িকীতে হাসনাত আবদুল হাইয়ের লেখা ‘টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি’ নামের একটি গল্পে। কি করে একজন বর্ষীয়ান ভূতপূর্ব আমলা এবং কথাশিল্প এমন করুচিপূর্ণ ভাষায় পবিত্র কলম কালি দিয়ে কাগজে অক্ষর বসিয়ে বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিলেন!

যুদ্ধাপরাধ বিচারের স্বপক্ষে আন্দোলনকারী একটি মেয়েকে খোলাখুলিভাবে বে আব্র“ করলেন!!! ছিঃ বলা ছাড়া আমার কোন ভাষা, নেই মনের ভাব প্রকাশ করার। মেয়েটি পুরুষের ‘খাদ্য’ এমন বীভৎস হিংস্র জঘন্য বাংলা শব্দ ব্যবহার করে লেখক যে নিজেকে নর্দমার নোংরায় ফেলেদিয়েছেন সেটা কি বুঝতে পারছেন। আর বলিহারি প্রথম আলোর সম্পাদক এক সময়ের ছাত্রনেতা, কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য মুক্তিযুদ্ধে কোন ভূমিকা রেখেছে কি-না জানি না, জানি না জনাব মতিউর রহমানের দায়িত্বহীনতা দেখে। নাকি ইচ্ছে করেই ছাপিয়েছেন সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতে। হাসনাত সাহেব যা ইচ্ছে লিখুক সেটা তার রুচি কিন্তু একটি পত্রিকায় ছাপানোর দায়িত্ব তো সম্পাদকের এবং এক্ষেত্রে সাহিত্য সম্পাদকের।

কমলাকান্তের মতো আফিম খেয়ে ঝিমুলে তো সম্পাদক হওয়া যায় না। খবরের কাগজের পেছনে সম্পাদকের নাম ছাপা হলেই কি তাঁর দায় শেষ হয়ে যায়!!! কি ছাপা হচ্ছে সেটা পড়ে দেখতে হবে না! পত্রিকার তো একটা চড়ষরপু থাকে। যেমন আমার দেশ দৈনিকের কাজই হলো ধর্মের নামে দেশের মানুষকে উন্মাদনার দিকে ঠেলে দেয়া। এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর কাজ করছেন। দু’চার কপি ‘আমার দেশ’ পড়ে মানসিক ভারসাম্য হারারাব অবস্থা হয়েছিল। কিন্তু মতিউর রহমান দীর্ঘকাল কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘সাপ্তাহিক একতা’র সম্পাদনা করেছেন। তারপর পার্টি ভেঙ্গে যাওয়ার পর দৈনিক সংবাদে উপসম্পাদকীয় লিখেছেন, পর্যায়ক্রমে আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ এবং বেশ কয়েক বছর ধরে প্রথম আলোকে আলোকিত করে চলেছেন!

পত্রিকার কাটতিও খুব ভাল কাগজের সম্পাদক সাহেব সহজে ফোনে কথা বলেন না। অফিসে কখন থাকেন জানা মুশকিল। সম্পাদনা করাকে বোধহয় তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দেশবাসী তো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। ‘প্রথম আলো’ পুড়িয়েছে প্রজন্ম চত্ব¡র। সব পাঠকই প্রত্যাখ্যান করেছে গল্পটিকে। তাই প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নির্লজ্জের মতো বলেছে, এই গল্পটি অসাবধানতাবশত প্রকাশ হয়েছিল। সব ভুলের কি ক্ষমা হয়? পাঁচ বছর আগে প্রথম আলোতে মহানবীকে (সা) নিয়ে প্রকাশিত একটি কার্টুনের কারণে কার্টুনিস্ট আশিকুর রহমান এবং বিভাগীয় সম্পাদক সুব্রত আসলামকে রবখাস্ত করা হয়। আশিকুর রহমান কারাগারে বন্দী অবস্থায় কাল কাটায়। প্রথম পৃষ্ঠায় একটা কার্টুন ছাপা হলো তার দায়ভার তো পুরোপুরি সম্পাদকের ওপরই বর্তায়, নয়কি? এদিকে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব সম্পাদক সাহেব বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবের হাত ধরে মাফ চাইলেন। এই কি সাংবাদিকতার নমুনা। সম্মানহানি বলে যে শব্দ আছে তা কি মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। এদিকে লেখক হাসনাত আবদুল হাই ঙহ খরহব-এ বলেছেন উনি নাকি কোন গোষ্ঠীকে আঘাত দেয়ার জন্য গল্পটি লেখেননি। তাহলে কি বুঝে লিখেছিলেন? জনতার প্রতিক্রিয়া দেখবার জন্য এই অপকীর্তি করেছেন?

আজকাল এক পত্রিকায় অন্য পত্রিকার সম্পাদককে নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি হয়। স্বনামধন্য প্রবাসী লেখক তিন চার কিস্তিতে অন্য এক পত্রিকার সম্পাদক সম্পর্কে গিবত গেয়ে দিনের পর দিন উপসম্পাদকীয় লিখেন সেই সম্পাদকের নামে যার পত্রিকায় তিনি এক সময় গদগদ হয়ে অকারণ প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতেন। আমার ক্ষুদ্র জানার পরিধি বলে এটা সাংবাদিকতা নয়, অপসাংবাদিকতা। নিজের পেশার প্রতি যাঁর বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাভক্তি নেই, বিশ্বাস আস্থা নেই। কোন দায়বদ্ধতার তোয়াক্কা করেন না তাঁরা কি সমাজের গতিধারাকে শুদ্ধ পথে চালিত করতে পারেন? সাংবাদিকতা হলো সমাজের আরশি যেখানে পথভ্রষ্ট মানুষ সঠিক পথটা চিনে নিতে পারে। কিন্তু তিনি নিজেই যদি পথভ্রষ্ঠ হন তবে আতঙ্কিত হওয়ারই তো কথা।

অবাক হই আমরা কি করে ভুলে যাই সেই ‘৬৪’র দাঙ্গার সময় ইত্তেফাকের ঋজু বলিষ্ঠ হেডিং ‘পূর্ব বাংলা’ রুখিয়া দাঁড়াও’ অথবা সন্তোষ গুপ্তের সেই বাণী, ‘মৃত্যুর জানাজা মোরা কিছুতেই করিবো না পাঠ/কবরেও ঘুম ভাঙ্গে জীবনের দাবি আজ এতই বিরাট’ এভাবেই তো পাকিস্তান আমলে সঠিক পথে চলতে শিখেছি। তবে কেন এই অবক্ষয়। কেন নিজের অবস্থানটা আমরা বুঝতে চেষ্টা করি না। আমি সকল রাজনীতিবিদ সুচিন্তক মানুষের প্রতি আবেদন করব এটা অনুভব করুন বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল বলে আমরা যে এখানে দাঁড়িয়ে আছি সেটা সম্ভব হয়েছে। তা-না হলে পাকিস্তানের পাঁচটি প্রদেশের চেয়েও আমাদের অবস্থা নিম্নগামী হতো। স্বাধীনতা কারও দয়ার দান নয়, অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। দেশমাতৃকাকে মুক্ত করতে। সেখানে যদি আমরা মুক্তমনের মানুষ তৈরি করতে না পারি। তবে মুক্তিযুদ্ধের শহীদের আত্মারা অভিশাপ দেবেন। একটা গোটা জাতি আজ ধ্বংসের মুখোমুখি হয়ে গেছে, তাকে টেনে তোলার দায়িত্ব সকলকে নিতে হবে। অবশ্যই হবে, হবেই।

সৌজন্যে: জনকন্ঠ