ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক ইউনিয়ন সময়ের দাবি

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৩

জহিরুল হক রানা

akotaঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক ইউনিয়ন এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক কারণে বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোর প্রচেষ্টা শুরু করেছে। এ খবরে ঐক্যপ্রত্যাশী সাংবাদিক সমাজের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা চান, ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের যে মহাসমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে, সেখানে কিংবা তার আগেই ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক ইউনিয়নের ঘোষণা দেবেন নেতারা। সাধারণ সাংবাদিকেরা বিভক্তি-বিভেদ চান না। তারা চান ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ। একটি অবিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়ন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও অন্য ইউনিয়নগুলো ১৯৯২ সাল থেকে একের পর এক ভেঙে যেতে থাকে। বিভক্তির কুফল বুঝতে পেরে পরবর্তী সময়ে নেতারা ইউনিয়নগুলো ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াসও শুরু করেন। কিন্তু বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবল রাজনৈতিক স্রোতে ভেসে যায় সেসব উদ্যোগ।

মূলত, দুটি মূলধারার রাজনৈতিক মেরুকরণ সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে দেয়নি। বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্ম শুরু থেকেই ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক ইউনিয়ন চাইলেও প্রবীণদের ক্ষুদ্র অথচ প্রভাবশালী একটা অংশ রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার কারণে বিভক্তি জিইয়ে রাখে। তরুণ প্রজন্মের একটা অংশও স্বার্থকামী সুবিধাবাদীদের দলে বেড়ে এবং বিভক্তি লাইন বজায় রাখতে তাদের মদদ দেয়। এই সুযোগে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজের প্রভাব ও শক্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রাজনৈতিক ও অন্যান্য পক্ষ সাংবাদিকদেরে বিভক্তি চলমান রাখার ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে।

সাংবাদিকদের অধিকার আদায় ও পেশাগত মানোন্নয়নে ভূমিকা পালনকারী ঐতিহ্যবাহী ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, চট্রগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ প্রায় সব কটি ইউনিয়ন ১৯৯২ সালের পর একে একে ভেঙে যায়। একপর্যায়ে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নেও একসময় বিভক্তির খড়্গ নামে। অর্থাৎ, দেশের গোটা সাংবাদিক সমাজ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে সব জায়গায় দুটি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করে। তারা পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবর্তে একধরনের নেতিবাচক প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা এত তীব্র রূপ লাভ করে যে, দুই পক্ষই পরস্পরের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করতেও কুণ্ঠিত হয়নি। কোথাও কোথাও তা মারামারি ও খুন-খারাবির পর্যায়ে গড়ায়। বিশেষ করে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাংবাদিক হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও।

সমাজের অগ্রসর ও সচেতন এই শ্রেণীটির যেখানে নিজের মর্যাদা রক্ষা ও অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম করার কথা, সেখানে রাজনৈতিক বিভক্তি তাদের অনেক নিচে নামিয়ে আনে। পেশার বদলে অনেকের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় বড় হয়ে দেখা দেয়। বিভক্ত ইউনিয়নগুলোতে এমনও অনেক নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের কোনোদিন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যও হওয়ার কথা নয়। অনেক নেতা দলীয় আনুগত্য প্রদর্শনের পুরস্কারস্বরূপ চাকরি-বাকরিসহ অনেক সুবিধা নিয়েছেন তাদের পছন্দের সরকারের কাছ থেকে। আবার বৈরী সরকারের কোপানলে পড়ে অনেকে চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরেছেন। কিন্তু সাধারণ সাংবাদিকেরা কোনো সুবিধা তো পানইনি, বরং তারা বারবার নানা ঝক্কিঝামেলায় পড়েছেন সাংবাদিকদের বিভক্তির কারণে। ফলে তারা সব সময়ই চেয়েছেন সাংবাদিকদের ঐক্য রচিত হোক।
বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন আন্দোলন প্রশ্নে মাঝেমধ্যে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিতে পারলেও সাংবাদিক নির্যাতন-হত্যাসহ পেশার মর্যাদা রক্ষাসহ অন্যান্য অধিকার আদায়ে কোনো ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস এতকাল গ্রহণ করতে পারেনি। ইউনিয়নগুলোর এই বিভক্তির সুযোগ নিয়ে সরকার-মালিক, পুলিশ-প্রশাসন, সন্ত্রাসীসহ সব পক্ষ ক্রমশ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হতে থাকে। ফলে সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা ও অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি তাদের ওপর নেমে আসে নানামুখি নির্যাতন। অনেক সাংবাদিক হতাশ হয়ে ইউনিয়নবিমুখ হয়ে পড়েন। পরে তারা গড়ে তোলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, খুলনা সাংবাদিক সমিতি, রাজশাহী সাংবাদিক সমিতি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন বিট ও অঞ্চলভিত্তিক সাংবাদিক ইউনিয়ন-সমিতি। এসব কারণে সাংবাদিক সমাজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে আরো দুর্বল হয়ে পড়ে।

পেশাগত অধিকার ও মর্যাদাহারা সাংবাদিক সমাজ যখন একেবারেই কোণঠাসা, সমাজের প্রভাবশালীদের চাপে যখন তারা দিশেহারা, হত্যাসহ নানা নির্যাতনের মুখে যখন তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই ঘটে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজাবাজারে ওই সাংবাদিক দম্পতি নিজ বাসভবনের শয়নকক্ষে খুন হন। এর আগে সংঘটিত অনেক সাংবাদিক হত্যারও কোনো বিচার হয়নি। তরুণ টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ড কেবল সাংবাদিক সমাজেই নয়, গোটা দেশে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে সরকার ও পুলিশের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট সাংবাদিক সমাজ ক্রমশ ফুঁসে ওঠে। তারা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করে এবং দীর্ঘদিনের বিভক্তি ও দুর্বল ইউনিয়নগুলো ঐক্যবদ্ধ করার প্রবল তাগিদ অনুভব করে। শুরু হয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

ঐক্যবদ্ধ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের শক্তি-মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন সাংবাদিকেরা তাদের হারানো মর্যাদা ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে যৌথ আন্দোলনের পাশাপাশি ঐক্য প্রয়াসের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বেশ কিছু বৈঠক করেছেন বলে ইউনিয়নের নেতারা নিশ্চিত করেছেন। সাগর-রুনির হত্যাসহ সব সাংবাদিক হত্যার বিচার, সব ধরনের সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধসহ বেশ কিছু দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন নিয়ে মাঠে রয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনয়নের দুই অংশ এবং জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি। গত প্রায় এক বছরে এই ইউনিয়ন ও কাবগুলো ঢাকাসহ সারা দেশে অনেকগুলো সভা-সমাবেশ, ঘেরাও ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছে।
গত ১ জানুয়ারি সাংবাদিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনের আগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনশণ করেছে। অনশন কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে ইউনিয়ন, ক্লাব ও ইউনিটির নেতারা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে পরস্পরের হাত ধরে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করার শপথ নেন। এই শপথের সচিত্র প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং টিভি চ্যানেলগুলো এ খবর প্রচার করেছে। এর পরই সাংবাদিক নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো ঐক্যবদ্ধ করার ফর্মুলা নিয়ে কথা বলছেন।

আগামী ২০ জানুয়ারি ঢাকায় সাংবাদিকদের মহাসমাবেশ সামনে রেখে ঐক্যপ্রয়াস জোরদার হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্তত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নকে ঐক্যবদ্ধ করার একটা ঘোষণা নেতারা এই মহাসমাবেশে দেয়ার আশা করছেন। সম্ভব হলে এর আগেও এ ধরনের একটা ঘোষণা আসতে পারে। একটি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ঘোষণা এলে ঐক্যবদ্ধ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ঘোষণা আসতে খুব একটা বিলম্ব হবে না বলে মনে করছে সাংবাদিক সমাজ। এরপর ক্রমান্বয়ে ঐক্যবদ্ধ হবে চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, যশোর, বগুড়াসহ অন্য ইউনিয়নগুলো। আশাবাদী সাংবাদিক সমাজ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মনে করছেন, ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক ইউনিয়নের ঘোষণা এলে সাংবাদিকদের দাবি আদায় অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। সাংবাদিক সমাজ নিয়ে কোনো পক্ষই আর ইচ্ছেমতো খেলতে-খাটাতে সাহস পাবে না।
হত্যা-নির্যাতনের প্রকোপে গত বছরটা সাংবাদিকদের জন্য ভালো যায়নি। ২০১১ সালে সারা বিশ্বে ১২১ জন সাংবাদিক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে খুন হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক নিহত হয়েছেন সিরিয়ায়। বাংলাদেশে অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন গত বছর। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুণ রুনি। গত ১৫ জুন যশোরে খুন হন দৈনিক ‘গ্রামের কাগজ’-এর কাশিপুর প্রতিনিধি জামাল উদ্দিন। এরপর হবিগঞ্জে খুন হন সাংবাদিক জুনায়েদ। আরো পরে নরসিংদীতে একজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মহাজোট সরকারের গত চার বছরে ১৬ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। আর হামলার শিকার হয়েছেন সহস্রাধিক সাংবাদিক। এ সময় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ৫০০ জন, ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় ৫০০ সাংবাদিক। হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে সহস্রাধিক সাংবাদিককে। মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন অগণিত সাংবাদিক।

১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে প্রায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিক নিহত হলেও দু-একটা ছাড়া তার কোনোটারই সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারি পল্টনের নিজ বাসায় খুন হন সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন। ২০১০ সালের ২৮ এপ্রিল খুন হন ‘সাপ্তাহিক ২০০০’-এর সিলেট প্রতিনিধি ফতেহ ওসমানী, ৯ মে খুন হন এটিএন বাংলার ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম টুটুল। ২৩ ডিসেম্বর খুন হন বরিশালের মুলাদী প্রেসক্লাব সভাপতি মনির হোসেন। ২০০৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এটিএন টিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম নিহত হন রাজধানীর মগবাজারে। জুলাই মাসে ঢাকায় খুন হন পাক্ষিক ‘মুক্তমন’-এর স্টাফ রিপোর্টার নূরুল ইসলাম ওরফে রানা, আগস্ট মাসে গাজীপুরের সাপ্তাহিক ‘সাম্প্রতিক সময়’-এর নির্বাহী সম্পাদক এস এম আহসান হাবিব বারী, ডিসেম্বরে রূপগঞ্জে দৈনিক ‘ইনকিলাব’-এর সংবাদদাতা আবুল হাসান আরিফ খুন হন। ২০০৮ সালে বগুড়ায খুন হন সাংবাদিক দীপংকর। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ফরিদপুরে নিহত হন ‘সমকাল’ পত্রিকার সাংবাদিক গৌতম সাহা, ২০০৪ সালে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ‘মাতৃভূমি’র সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালু, দৈনিক ‘সংবাদ’-এর খুলনা ব্যুরো চিফ মানিক সাহা ও দৈনিক ‘সংগ্রাম’-এর খুলনা ব্যুরো চিফ বেলাল হোসেন। ২০০২ সালে খুন হন খুলনার ‘দৈনিক পূর্বাঞ্চল’ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার হারুন অর রশিদ। ২০০০ সালের ১৬ জুলাই যশোরে ‘জনকণ্ঠ’-এর বিশেষ প্রতিনিধি শামছুর রহমানকে হত্যা করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট খুন হন যশোরের ‘দৈনিক রানার’-এর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুকুল। ১৯৯৬ সালে সাতক্ষীরায় খুন হন সাংবাদিক আলাউদ্দিন, ঝিনাইদহে খুন হন সাংবাদিক মীর ইলিয়াস হোসেন দিলীপ, খুলনার ডুমুরিয়ায় খুন হন সাংবাদিক নহর আলী ও শুকুর সরদার।

এ সরকারের আমলে ঢাকায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাংবাদিক অপর্ণা সিংহ, এম এ উজ্জ্বল, তুহিন হাওলাদার, প্রশান্ত কর্মকার এবং ‘প্রথম আলো’র তিন ফটোসাংবাদিক। দৈনিক ‘আমার দেশ’-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আব্দুল্লাহ, অলিউল্লাহ নোমানসহ অনেকে হামলা-মামলার শিকার হন। ফরিদপুরে নির্যাতিত হয়েছেন পান্না বালা। এ ছাড়া পাবনা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, রাজশাহী, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পত্রিকা ও চ্যানেলের সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন। মিথ্যা মামলাও দেয়া হয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। অনেককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছ। এই প্রবণতা কমছে না, বরং দিন দিন বাড়ছে।

মোদ্দা কথা, বিভক্তির কারণে খুন-হয়রানির শিকার সাংবাদিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবশ্যই সব পক্ষকে সম্মান দেখাতে হবে। কেননা, সাংবাদিক সমাজের বিভক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতন প্রবীণ ও তরুণ প্রজন্ম আজ ঐক্যের ব্যাপারে এককাট্টা। তারা মনে করেন, সাংবাদিক সমাজের আন্দোলন-সংগ্রাম সফল ও দাবি আদায় করতে হলে একমঞ্চের ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রয়োজন।

জহিরুল হক রানা : সিনিয়র সাংবাদিক, বাসস। কোষাধ্যক্ষ, ডিইউজে।