পত্রিকা প্রকাশে ব্যয় বাড়বে ৩৭ শতাংশ

শুক্রবার, জুন ৭, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন ::

newsprint(০৭ জুন ২০১৩)- সংবাদপত্র ও প্রকাশনা শিল্পে ব্যবহূত আমদানি করা নিউজপ্রিন্টের ওপর বিদ্যমান কর রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করার সুপারিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে এ শ্রেণীর নিউজপ্রিন্টের আমদানি শুল্ক বাড়বে।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাবনায় এ আমদানি কর রেয়াত সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।

বর্তমানে পত্রিকায় ব্যবহৃত নিউজপ্রিণ্ট আমদানির ক্ষেত্রে ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। অর্থমন্ত্রীর সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে পত্রিকার কাগজে ৬১ দশমিক ০৯ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এর ফলে পত্রিকা প্রকাশে ব্যয় বেড়ে যাবে ৩৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, সংবাদপত্রশিল্প নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে রেয়াতি হারে মাত্র ৩ শতাংশ আমদানি শুল্কসহ মোট ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ শুল্ক-করাদি পরিশোধ করে থাকে।

এ ছাড়া কাগজের কাঁচামাল পাল্প তৈরির উপাদান বাঁশ আমদানিতে ১২ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রিন্টিং প্লেট আমদানির ওপর ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ১২ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়।

অর্থমন্ত্রী তার সুপারিশে বলেন, আমদানির ক্ষেত্রে আলোচ্য অসঙ্গতির কারণে দেশীয় কাগজ শিল্প আর্থিক সঙ্কটের সম্মুখীন। এমতাবস্থায়, দেশীয় কাগজ শিল্পের স্বার্থে সংবাদপত্র ও প্রকাশনা শিল্প কর্তৃক আমদানিকৃত নিউজপ্রিণ্টের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করছি।

এদিকে সংবাদপত্রশিল্পে জড়িতরা বাজেটে অর্থমন্ত্রীর এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন। তারা মনে করছেন, সংবাদপত্রশিল্পে বর্তমানে যে আর্থিক সংকট চলছে, এ প্রস্তাব কার্যকর হলে সংবাদপত্রশিল্প নতুন করে সংকটের মুখে পড়বে। আর্থিক সংকট এড়াতে কোনো কোনো সংবাদপত্র দাম বাড়িয়েছে। অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংবাদপত্রগুলো চাপের মুখে পড়বে। ফলে এ শিল্প বিকাশের পথে বিরাট এক অন্তরায়ের সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, সংবাদপত্রশিল্পের বিকাশের জন্য বর্তমান সরকারই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ রেয়াতি সুবিধা দিয়েছে। যদিও রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু তা নিয়ে এখনও আলোচনা ও পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। সংবাদপত্রের মালিক ও সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে এ রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার না করে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএফইউজের অন্য অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, বাজেটে এ প্রস্তাব সংবাদপত্রের বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাব বাতিল করার আহ্বান জানাচ্ছি।